পাবনার বেড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের কৃষকরা সরকারি কৃষি প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। সরকারি সহযোগিতার দেখা না মিললেও থেমে নেই তাদের চাষাবাদ; নিজ দায়িত্বে বাজার থেকে বীজ ও সার কিনে চরে মাষকলাই, মুড়িকাটা পেঁয়াজ ও বিভিন্ন শাকসবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।
সরেজমিনে উপজেলার চর সাঁড়াশিয়া ও চর নাগদাহ গ্রাম ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে শত শত বিঘা জমিতে মাষকলাই, পেঁয়াজ, পটল, লালশাক, পালংশাক, মূলাশাক ও শসাসহ নানা জাতের সবজি চাষাবাদ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত তারা। প্রণোদনার কথা বলা হলেও চরের কৃষকদের অভিযোগ, তারা এ সুবিধা পান না।
চর সাঁড়াশিয়া গ্রামের কৃষক হুমায়ুন কবির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "কৃষি অফিসের প্রণোদনার আশায় থাকলে চরাঞ্চলের কৃষকদের আর চাষ করা হবে না। মাঝে মাঝে লোক দেখানো মাঠকর্মী এসে ঘুরে যান, কাজের কাজ কিছুই হয় না।"
চর নাগদাহ গ্রামের কৃষক ও স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদ মোল্লা বলেন, "আমাদের চরাঞ্চলের কৃষকরা সরকারিভাবে কোনো রকম কৃষি প্রণোদনা পাচ্ছেন না।" একই সুর শোনা যায় হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মিজানুর রহমানের কণ্ঠেও। তিনি জানান, তার ওয়ার্ডের চর পেচাকোলা ও চর নাকালিয়াতেও কৃষকরা কোনো প্রণোদনা পান না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হামিদ সরকার জানান, চলতি বছর কৃষি অফিস থেকে কোনো ধরনের প্রণোদনা কৃষকরা পেয়েছেন কি না তা তার জানা নেই। এমনকি কৃষি অফিস থেকে এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সাথে কোনো সমন্বয়ও করা হয় না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জনপ্রতিনিধি ও কৃষকদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুসরাত কবির বলেন, "স্ব-স্ব এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয় করেই এসব কৃষি প্রণোদনা বিতরণ করা হচ্ছে।" খরিপ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় তিন হাজারের বেশি কৃষকের মাঝে পেঁয়াজ ও সবজি বীজ-সার বিতরণের তথ্য জানিয়ে তিনি আরও বলেন, দুর্গম চরাঞ্চলের অনেক কৃষক ঠিক সময়ে প্রণোদনা নিতে আসেন না। তাছাড়া বরাদ্দের পরিমাণ চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় সব কৃষককে একসঙ্গে দেওয়া সম্ভব হয় না। তবে আগামীতে চরাঞ্চলের আরও বেশি কৃষক যাতে প্রণোদনার আওতায় আসেন, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বেড়া উপজেলায় পেঁয়াজ কন্দ ২ হাজার হেক্টর, শাকসবজি ৮৯০ হেক্টর, রবি মাষকলাই ১২৫ হেক্টর এবং খরিপ-২ মাষকলাই ২ হাজার ২৩৫ হেক্টর জমিতে চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









