দেশজুড়ে নতুন সারের ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং বড় ধরনের আর্থিক লেনদেন বা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নীতিমালা ও অভিজ্ঞতাকে পাশ কাটিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব এবং ঘুষের বিনিময়ে অযোগ্য ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বঞ্চিত আবেদনকারী ও স্থানীয় কৃষকরা। নিয়োগ পাওয়া ডিলারদের কারো কারো সার বিক্রির দোকান বা গুদামও নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে নিয়োগ না পাওয়া ও বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সংসদ সদস্য ও সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের কেউ কেউ প্রকাশ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়ার অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন। কোনো কোনো জেলায় নতুন ডিলারের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগও দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যেই কয়েকটি জেলায় কৃষক পর্যায়ে সার সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রাজবাড়ী, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটসহ কিছু এলাকায় সরবরাহ সংকটের কথা বলে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির তথ্যও মিলেছে। ফরে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সার ব্যবস্থাপনায়, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ কৃষকদের।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এএইচএম সাইফুল ইসলাম দৈনিক এদিনকে বলেন, ‘সার ডিলার নিয়োগে সরকারের উদ্দেশ্য ভালো ছিল। কিন্তু শুরুতেই নিয়োগে অস্বচ্ছতা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। ঘুষের মাধ্যমে নিয়োগ পেলে সার নিয়ে সংকট কাটবে না। কৃষককে বাড়তি দামে কিনতে হবে। এতে তাদের উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। আর কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হলে জাতীয় অর্থনীতিই আক্রান্ত হবে। সারের মনিটরিংটা ঠিকমতো হচ্ছে না। এটি ঠিক করতে হবে।’
গতকাল বুধবার কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ঘোড়াইঘাট এলাকায় গড়াই নদীর ওপর প্রস্তাবিত শহীদ আবরার ফাহাদ সেতুর স্থান পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, যেসব জেলায় সার নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেসব জেলার এমপিরা ১১ দলীয় জোটের। তারা সরকারকে বিভ্রান্ত করতে তাদের দলীয় লোকজন দিয়ে এই সংকট তৈরি করে থাকতে পারে। যেসব জেলায় বিএনপির এমপিরা রয়েছেন সেসব জেলায় সার নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি।
মীর শাহে আলম বলেন, ‘উত্তরাধিকার সূত্রে আমরা যেসব সারের ডিলার পেয়েছি তা স্বৈরাচারী সরকার আমলে নিয়োগ করা হয়। তাদের অসহযোগিতার ফলে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে।’
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সময় সার ডিলার নিয়োগে কোনো অনিয়ম থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে।
সূত্রমতে, সারা দেশে প্রায় পাঁচ হাজার সার ডিলার নিয়োগের বিপরীতে ৪৭ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়ে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ৫৫ জেলার ডিলার নিয়োগের আংশিক তালিকায় স্থান পাওয়া ব্যক্তিদের যোগ্যতা, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে সার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালীদের আত্মীয়-স্বজনকে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। রংপুর, রাজশাহী, গাইবান্ধা, নীলফামারী, মেহেরপুর, নাটোর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন জেলায় ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিতর্কের তথ্য পাওয়া গেছে।
নাটোরের লালপুর উপজেলার কদিমচিলান ইউনিয়নে নিয়োগবঞ্চিত আবেদনকারী আব্দুল হান্নান সংবাদ সম্মেলন করে নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। রাজশাহীর বাগমারায়ও ডিলার নিয়োগ নিয়ে আপত্তি উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় ব্যবসায়ী নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও করেছেন।
দেশের কয়েকটি জেলার স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক তদবির চলে। স্থানীয় সংসদ সদস্যদের আধাসরকারি পত্র (ডিও) লেটার এবং ইউএনও-ডিসির কাছে তদবিরের জন্য ৩০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকার চুক্তিতে ডিলারশিপ পেয়েছেন অনেকেই।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন ও মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে নতুন ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের আর্থিক বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। গণমাধ্যমে আলোচিত তথ্য ও পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে একটি আনুমানিক হিসাব বা চিত্র দেখা যাক। মোট ডিলার পদের সংখ্যা সারা দেশে নতুন করে প্রায় ৫ হাজার (নির্দিষ্ট করে প্রায় ৪,৯৩১টি) ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়।
এই পদগুলোর বিপরীতে ৪৬ হাজারেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছিল, আর এর ভেতরেই শুরু হয় মাঠপর্যায়ে তদবির ও পদ বাগিয়ে নেওয়ার প্রতিযোগিতা। গণমাধ্যমের তথ্য ও বিভিন্ন মহলের অভিযোগ অনুযায়ী, ডিলারশিপ পেতে একেকটি স্থানে প্রার্থীরা রাজনৈতিক প্রভাব ও চুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা, আবার কোথাও কোথাও ৩০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন বা চুক্তির মুখোমুখি হয়েছেন।
যদি একটি আনুমানিক বা গড় হিসাব ধরা হয়, এতে প্রতিটি ডিলার পদের বিপরীতে গড়ে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার আর্থিক লেনদেন বা বাণিজ্য হয়ে থাকে, তবে ৫ হাজার ডিলারের ক্ষেত্রে এই অংক দাঁড়ায় প্রায় ৫০০ কোটি থেকে ৭৫০ কোটি টাকা। আর যদি কোথাও কোথাও চুক্তির পরিমাণ ৩০ থেকে ৫০ লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে থাকে, তবে এই বাণিজ্য বা লেনদেনের মোট পরিমাণ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সম্প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ময়মনসিংহ-৮ আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, সারের ডিলারশিপ দেওয়ার নামে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের চেষ্টা চলছে। ঈশ্বরগঞ্জের সরিষা ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি লেখেন, ‘কে কোথা থেকে কত পার্সেন্ট টাকা নেয়, তা আমি জানি।’
ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতির এমন অভিযোগ উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়ও। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য এমএ হান্নানের ছেলে, ভগ্নিপতি ও ভাগনের স্ত্রী ডিলারশিপ পেয়েছেন। নাসিরনগর উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নে সংসদ সদস্যের ছেলে আদনান সাদী ‘মেসার্স আলীয়াহ ট্রেডার্স’নামে, নাসিরনগর সদর ইউনিয়নে তার ভগ্নিপতি আরক মিয়া ‘মেসার্স আয়ান ট্রেডার্স’নামে এবং গোয়ালনগর ইউনিয়নে ভাগনের স্ত্রী নুরুন্নাহার আক্তার স্বর্ণা ‘এস এস ট্রেডার্স’নামে সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন স্বীকার করলেও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
ফরিদপুরের নগরকান্দায় সারের ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। নগরকান্দার বিভিন্ন ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে গত রবিবার সংবাদ সম্মেলন করেন আবেদন করেও ডিলারশিপ না পাওয়া ব্যক্তিরা। তাঁরা অভিযোগ করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল করিম এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার ডিলারশিপ নিয়োগের অনিয়মে যুক্ত। উপজেলার কাইচাইল, ডাঙ্গী, লস্করদিয়া, রামনগর ও ফুলসুতি ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা মূল্যায়ন হয়নি বলে দাবি করেন তারা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নগরকান্দার ইউএনও রেজওয়ানা আফরিন বলেছেন, তারা প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজন করে যোগ্য প্রার্থীর নাম সুপারিশ করেছেন। মন্ত্রণালয় যাদের যোগ্য মনে করেছে, তারাই ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বিএনপির একাংশের নেতা-কর্মীরা। গতকাল বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, অর্থের বিনিময়ে ডিলারশিপ বিক্রি করা হয়েছে। উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য এবং উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোখলেছুর রহমান ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম রসুল রাজার বিরুদ্ধে তারা এসব অভিযোগ আনেন। অভিযোগকারীদের মধ্যে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা রয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম রসুল রাজা বলেন, ‘যারা তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন, তারা না বুঝে করেছেন। যারা যোগ্য, তারাই ডিলারশিপ পেয়েছেন।’
একই অভিযোগ গাইবান্ধা সদর উপজেলায়ও। সেখানকার কামারজানি ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান ইসলামের স্ত্রী জুঁই আক্তার। আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তিনি ডিলার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে সোলায়মান ও তার স্ত্রীর দাবি, নিয়ম মেনেই ডিলারশিপ পেয়েছেন। গাইবান্ধা সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোশাররফ হোসেন বাবু বলেন, ‘ওই ইউনিয়ন থেকে অন্য কেউ আবেদন না করায় নিয়ম অনুযায়ী ডিলার নিয়োগ হয়েছে।’
রাজশাহীতে ৬৯ জন নতুন সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তালিকা বিশ্লেষণ ও মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, তাঁদের অধিকাংশই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী। তালিকায় বিএনপি নেতাদের স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে ও ভাইয়ের নাম রয়েছে। একজন জামায়াতকর্মীও ডিলারশিপ পেয়েছেন। রাজশাহীর চারঘাট, বাঘা, তানোর, পুঠিয়া, মোহনপুর, পবা, গোদাগাড়ী ও দুর্গাপুরসহ বিভিন্ন এলাকার নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন। চারঘাট সদর ইউনিয়নে ডিলার হয়েছেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বুলবুল হোসেনের স্ত্রী জিনিয়া পারভিন। সরদহ ইউনিয়নে ডিলারশিপ পেয়েছেন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আলমগীর হোসেনের স্ত্রী ইসরাত জাহান। ইউসুফপুর ইউনিয়নে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রবিনের স্ত্রী সুরভি আক্তার শিখা। তানোর, পুঠিয়া, পবা ও দুর্গাপুরেও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সন্তান, স্ত্রী, ভাই ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের ডিলারশিপ পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব নিয়োগে মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে।
মেহেরপুরে নতুন ২২ জন সার ডিলার নিয়োগ নিয়েও দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের বড় অংশ জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসানের অনুসারী। তাঁদের মধ্যে নেতাদের ছেলে, ভাই, ভাতিজা ও অন্যান্য আত্মীয় রয়েছেন। এতে বাদ পড়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুণের অনুসারী, জামায়াতের নেতা-কর্মী ও অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীদের একাংশ। মেহেরপুর পৌরসভায় ডিলার হয়েছেন পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল লতিফের ছেলে তানভির আহমেদ। সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফয়েজ মহাম্মদের ভাই এনামুল হক এবং আমদহ ইউনিয়নে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসানের ভাতিজা সাবিক হাসান ডিলারশিপ পেয়েছেন। অন্যান্য ইউনিয়নেও বিএনপি নেতাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়োগ পাওয়ার তথ্য রয়েছে।
সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ১২ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেন দলটির নেতা-কর্মীরা। এ সময় রাজশাহী মহানগর এনসিপির সদস্য সচিব আতিকুর রহমান, উপজেলা আহ্বায়ক জিয়াউর রহমান, সদস্য সচিব আব্দুল আলীম, পৌর আহ্বায়ক আব্দুর রহিম ও সদস্য সচিব মোফাজ্জল হোসাইন প্রমুখ বক্তব্য দেন। পরে তাঁরা ইউএনও কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দেন। এ সময় ইউএনও ইসরাত জাহান কার্যালয়ে ছিলেন না। তিনি সেখানে এসে এনসিপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর তাঁরা তালা খুলে দেন।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন ‘ত্যাগী তৃণমূল বিএনপির’ব্যানারে উপজেলা বিএনপির একাংশের নেতা-কর্মীরা। ১৩ অক্টোবর দুপুরে নাগেশ্বরী কলেজ মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দেন বিক্ষোভকারীরা।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বিএনপির নাগেশ্বরী উপজেলা আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের অনিয়মের কারণে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁরা নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









