শারদীয় দুর্গাপূজা সামনে রেখে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শাঁখারীবাজারের শাঁখা–পলা ও পূজার উপকরণের দোকানগুলো জমজমাট হয়ে উঠেছে। শাঁখারীবাজারে গিয়ে দেখা গেল, বাহাদুর শাহ পার্কের পশ্চিম পাশে শাঁখারীবাজারে প্রবেশের মুখেই পূজা উপলক্ষে সাজানো হয়েছে বিশালাকার সুদৃশ্য তোরণ। জনসন রোডের মুখ থেকে পোগজ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান ফটক পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে ছাউনি ফেলা হয়েছে দর্শনার্থীদের জন্য। শাঁখারীবাজারের প্রবেশমুখেই আরও একটি তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে।
শাঁখারীবাজার সড়কের মাঝামাঝি স্থানে বেশ উঁচু মঞ্চ করে পূজার মণ্ডপ তৈরির ব্যস্ততা দেখা গেল কর্মীদের। এর দুই পাশের দোকানে দোকানে ঝলমল করছে মণ্ডপ সাজানোর রঙিন কাগজ ও জরির মালা, শোলার কদম ফুলের ঝালর, প্রতিমার সাজসজ্জার রেশমি পোশাক, দেবীর হাতের খড়্গ, গদা, ত্রিশূলের মতো বিভিন্ন অস্ত্র, মালা-টিপ, আলোকসজ্জার প্রদীপ, ময়ূরের পালক, ঘট, প্রদীপসহ হরেক রকমের সামগ্রী। কোনো কোনো দোকানে বাজছে ভজন-কীর্তনের রেকর্ড। ধূপের ঘ্রাণ মিশে আছে বাতাসে। নানা বয়সী নারী-পুরুষ দোকানে দোকানে গিয়ে তাঁদের পছন্দের সামগ্রী কেনাকাটা করছেন।
সুর প্রোডাক্টস নামের দোকানটি বেশ বড়। ভেতরে অনেক ক্রেতা দেখে প্রবেশ করে দেখা হলো ওই মজুমদার দম্পতির সঙ্গে। জহরলাল মজুমদার জানালেন, তিনি দুই দিন আগে ঢাকায় এসেছিলেন মূলত চিকিৎসার জন্য। সামনে পূজা। তাই স্ত্রীর কৃতাঞ্জলির জন্য নতুন শাঁখা কিনতে তাঁরা এই ঐতিহ্যবাহী বাজারে এসেছেন। সেই সঙ্গে একটি শঙ্খও কিনলেন। এই দোকান থেকে কয়েক জোড়া শাঁখা কিনলেন ওয়ারী এলাকার বাসিন্দা রেখা বণিক।

তিনি জানালেন, পূজায় গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জে যাবেন। প্রতিবারই পূজার আগে নিজের জন্য এক জোড়া নতুন শাঁখা কেনেন তিনি। আর গ্রামের বাড়ির পূজায় প্রতিমার জন্য শাঁখা কেনার দায়িত্বও থাকে তাঁর। শাঁখারীবাজার থেকে ভালো মানের শাঁখা কিনে নিয়ে যান। এবারও দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতীর জন্য আলাদা আলাদা তিন জোড়া শাঁখা কিনেছেন তিনি। দাম পড়েছে প্রতি জোড়া ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে।
পূজায় সাজসজ্জার জন্য অনেক রকম মালা, টিপ, অলংকারের পসরা সাজিয়েছেন দোকানিরা। লিটন নন্দীর দোকান কুশানে দেখা গেল, রঙিন রেশমি সুতা, কড়ি, লেইস, পুঁতির মতো অনেক রকম উপকরণ দিয়ে বিশেষ এক রকমের তৈরি মালা। এর লকেটে আছে দেবী দুর্গার মুখ। নাম ‘দুর্গা মালা’। আরেক রকম মালা আছে সব নীল রঙের উপকরণ দিয়ে তৈরি। লকেটে নীলকণ্ঠ শিবের প্রতিকৃতি। এর নাম ‘শিব মালা’। এসব মালা বিক্রি হচ্ছে নকশা অনুসারে প্রতিটি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়। এ ছাড়া ১০৮ দানার রুদ্রাক্ষের মালা ১২০ টাকা এবং ৮০ দানার মালা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়।
দেখা গেল, প্রতিমার সাজসজ্জার দোকানগুলো এখন ঝলমল করছে বৈচিত্র্যময় সামগ্রীতে। এমন একটি বড় দোকান শিল্পকুঠি। ব্যবসায়ী গোপাল নাগ জানালেন, সাজসজ্জার সামগ্রীর দাম প্রতিমার আকার ও সামগ্রীর গুণমানের ওপর নির্ভর করে। যেমন শাড়ি সর্বনিম্ন ১০০ টাকাতেও পাওয়া যায় আবার ৩ হাজার টাকার শাড়িও আছে। প্রতিমা সাজসজ্জার সামগ্রীর মধ্যে আরও আছে চুলের বেণি, অস্ত্র, অলংকার প্রভৃতি।
এবার বিক্রির পরিমাণ কিছুটা কম বলে জানালেন এই ব্যবসায়ী। খরচ কমানোর জন্য অনেক পূজা কমিটির লোকজন এবার আলাদা করে শাড়ি বা অলংকার না কিনে প্রতিমা গড়ার সময়ই শিল্পীদের দিয়ে মাটির শাড়ি ও অলংকার তৈরি করিয়ে নিচ্ছেন। পরে মাটির শাড়ি ও অলংকারে রং করিয়ে নিবেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, শুক্রবার (আজ) পর্যন্ত চলতে থাকবে তাঁদের বেচাকেনার পর্ব। এদিন মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব। সারা দেশের পূজামণ্ডপ জমে উঠবে আরতি–অঞ্জলিতে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









