নিজ দলের নেতা কিংবা জনপ্রতিনিধি— অভিযোগের মুখে পড়লে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না, এমন কঠোর বার্তাই দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এক মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ঘিরে পদত্যাগের ঘটনা সরকারের জবাবদিহির অবস্থান নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। দুটি ঘটনার প্রেক্ষাপট আলাদা।
একটি ঢাকার মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ; অন্যটি রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে প্রতিমন্ত্রীর আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অংশ নেওয়া নিয়ে বিতর্ক। কিন্তু দুই ঘটনার মধ্যে একটি মিল রয়েছে— দুজনই ক্ষমতাসীন দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, আর দুজনকেই পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার খবর সামনে এসেছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের খবর এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। একই বার্তা পৌঁছেছে আমলাতন্ত্রেও। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থায় নাগরিক সেবার মান দেখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আকস্মিক পরিদর্শন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন। সরকারি সেবার মান নিয়ে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রশাসনের প্রতিও তার কঠোর বার্তা যাচ্ছে। ফলে দল, সরকার ও প্রশাসনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কঠোর বার্তা দিচ্ছেন।
সূত্রমতে, রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় যাওয়ার আগে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের প্রতিশ্রুতি দেয়। সে প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই হয় নিজেদের দলের নেতা, এমপি কিংবা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে। তারেক রহমানের সরকারের সামনে এখন সে পরীক্ষাই বড় হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন প্রশাসনের জন্য দায়িত্বশীলতার বার্তা দিয়েছে; মিষ্টি ও ইশরাকের ঘটনাকে ঘিরে পদত্যাগের খবর দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্ন সামনে এনেছে। এবার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের অভিযোগের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছ ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ প্রত্যাশিত।
জাহাজের কাণ্ডারির বার্তা যারা বুঝতে পারেননি, তাদের কেউ কেউ ইতোমধ্যে দায়িত্ব হারিয়েছেন বা রাজনৈতিক চাপে পড়েছেন- এমন ব্যাখ্যা রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে। আর যারা এখনো পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করছেন, তাদের জন্যও সামনে কঠিন পরীক্ষা। তবে, কারও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আগাম সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর বদলে সরকারের আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ ও তদন্তের ফলের দিকে নজর রাখা জরুরি। ক্ষমতাসীন দলের পরিচয় কাউকে অভিযোগের ঊর্ধ্বে রাখবেন না- এ নীতি যদি নিরপেক্ষ তদন্ত, স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত এবং আইনের সমান প্রয়োগে প্রতিফলিত হয়, তবেই তারেক রহমানের কঠোরতার বার্তা বাস্তব অর্থ পাবে।
মিষ্টি-ইশরাকের ঘটনায় কঠোরতার বার্তা
গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সামনে আসে। বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। গত ১ অক্টোবর তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপর ১৭ অক্টোবর রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের উপস্থিতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ইশরাকের দাবি, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় নিজের ও অন্যদের নিরাপত্তার জন্য তিনি অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। তবে একজন প্রতিমন্ত্রীর নিজে অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নেওয়ার বৈধতা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ঢাকা মহানগর পুলিশও বিষয়টি তদন্তের কথা জানায়। ১৮ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে একাধিক সংবাদমাধ্যম সরকারসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানায়। ১৯ অক্টোবর তার পদত্যাগের ঘোষণা ও স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার কথা সামনে এসেছে। অবশেষে গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ইশরাক হোসেন।
এভাবে পরপর দুটি ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের খবর প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অবস্থানের আলোচনাকে আরো জোরালো করেছে। এর আগে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে জহির উদ্দিন স্বপনকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পদে বসানোর ঘটনাও সরকারের দায়িত্ব বণ্টন ও নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনায় এসেছে। সব মিলিয়ে দল ও সরকারের ভেতরে একটি বার্তা স্পষ্ট হচ্ছে- গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা মানেই প্রধানমন্ত্রীর আস্থা অটুট থাকার নিশ্চয়তা নয়; দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা কিংবা বিতর্কের মুখে পড়লে রাজনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
আকস্মিক পরিদর্শনে প্রশাসনের জন্যও বার্তা
প্রধানমন্ত্রীর কঠোরতার আলোচনা শুধু দলীয় নেতা বা মন্ত্রীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ইশরাকের ঘটনার দিন শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর ১৩টি স্থান আকস্মিক পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি আবাসিক এলাকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সেবার মান নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশনা দেন তিনি। কোথাও পরিস্থিতির উন্নয়নে সময়ও বেঁধে দেন। প্রধানমন্ত্রীর এ পরিদর্শনের দিনই বিকালে ঘটে ইশরাকের অস্ত্রকাণ্ড। দল ও সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ মনে করছেন, ইশরাকের কর্মকাণ্ডে প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনের ইতিবাচক আলোচনা অনেকটাই আড়ালে পড়ে যায়। এরপর ১৮ অক্টোবর সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইশরাককে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
রাজধানীর হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি আবাসিক এলাকা আকস্মিক পরিদর্শন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি সেবার মান, পরিচ্ছন্নতা এবং দায়িত্ব পালনের বাস্তব চিত্র দেখতে চেয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া, সমস্যা সমাধানে সময় বেঁধে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার মধ্য দিয়ে প্রশাসনের প্রতি তার প্রত্যাশা স্পষ্ট হয়েছে। সকাল ৯টায় অফিস। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হাজির থাকেন আরো ১০/১৫ মিনিট আগেই। মিতব্যায়ী হবার ধরন যা যা হতে পারে তা তিনি পালন করছেন। জনদুর্ভোগ লাগবে চলাচল করেন স্বাভাবিক যাত্রীর মতোই।
প্রশাসনের ক্ষেত্রে এ ধরনের পরিদর্শনের তাৎপর্য হলো, দাফতরিক প্রতিবেদন বা আনুষ্ঠানিক আশ্বাসের বাইরে গিয়ে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা যাচাই করা। কোনো প্রতিষ্ঠানে সেবার ঘাটতি থাকলে তার দায় কার, সমস্যা সমাধানে কত সময় লাগবে এবং নির্দেশনা বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা- এসব প্রশ্নের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হয়। আমলাদের কাছে বার্তাটি তাই গুরুত্বপূর্ণ। পদমর্যাদা কিংবা ফাইলের অগ্রগতি দিয়ে দায়িত্ব পালনের মূল্যায়ন শেষ হবে না; নাগরিকেরা বাস্তবে কী সেবা পাচ্ছেন, সেটিও বিবেচনায় আসবে। তবে, আকস্মিক পরিদর্শনকে কার্যকর করতে হলে পরবর্তী সময়ে ঘাটতি সংশোধন, নিয়মিত তদারকি এবং ফলাফল মূল্যায়নের ব্যবস্থাও থাকতে হবে।
দলীয় শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর বিএনপি
দায়িত্ব গ্রহণের পর ৮ মাস পার করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। এরই মধ্যে বিএনপির অতিউৎসাহী কিছু নেতাকর্মীর বেপরোয়া আচরণে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। তাদের চাঁদাবাজি ও দখল-বাণিজ্যের অভিযোগে বিব্রত হচ্ছে সরকার। বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে থাকলেও থামানো যাচ্ছে না। এরই সঙ্গে যোগ হয়েছে সুযোগসন্ধানী একটি মহলের ইন্ধন। তারা চলমান পরিস্থিতিকে আরো উস্কে দিচ্ছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারকে কঠোর সমালোচনার মুখে ফেলেছে। এমনই পরিস্থিতিতে ভাবমূর্তি রক্ষায় সরকার হার্ডলাইনে। আবার দলীয় নেতাদের শৃঙ্খলায় আটকাতে কঠোর অবস্থানে বিএনপিও। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ছয় মাসে অপরাধের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এ সময়ে সারাদেশে ছোট-বড় বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে প্রায় এক লাখ মামলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেখানেই অপরাধ, সেখানেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে একেবারেই তৃণমূল পর্যন্ত যে কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেবে ক্ষমতাসীন দলটি। তারই অনন্য নজির ইতোমধ্যে স্থাপিত হয়েছে। রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ফেরদৌসী আহমেদের (মিষ্টি) বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন তিনি। এ ছাড়া দায়িত্বে অবহেলার জন্য স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
অন্যদিকে ঢাকা মহানগর উত্তরের ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বহিষ্কার করা হয়েছে বেশ কয়েকজনকে। পাশাপাশি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমাতে দেশব্যাপী কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটনার পরপরই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় নড়েচড়ে বসেছে সরকার ও প্রশাসন।
দলীয় সূত্র জানায়, চাঁদাবাজি, দখল, ভাঙচুরসহ যে কোনো ধরনের অপকর্মের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দলীয় পদ কিংবা প্রভাব বিবেচনা না করে বহিষ্কারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে গুরুতর ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে আইনি ব্যবস্থা নেবে সরকার। পাশাপাশি দলের ভেতরে চালানো হবে শুদ্ধি অভিযান।
বিএনপির একাধিক নীতিনির্ধারক বলেন, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অনিয়ম করে পার পাবে না— এই বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছাতে চায় বিএনপি। এবার শুধু সাংগঠনিক শাস্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং অপরাধীদের সরাসরি আইনের মুখোমুখি করার নীতিও গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে, বিএনপির পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান থাকবে, কেউ যদি দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি বা দখলবাজি করতে আসে তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিন, মামলা করুন। এক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত করে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হবে। দলের মূল বার্তা, দলের নামে অপরাধ করে কেউ রাজনৈতিক পরিচয়ের সুবিধা নিতে পারবেন না।
বিএনপির দলীয় দপ্তর সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এখন পর্যন্ত ৪ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ঘটনায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শুদ্ধি অভিযান চায় তৃণমূল
বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর কিছু এমপি ও নেতাকর্মী দলকে নিজেদের সম্পত্তি মনে করছেন। যতদিন ক্ষমতায় আছে, ততদিন নিজেদের অর্থবিত্ত বাড়াও। আবার তাদের তিন-চারটা পদপদবি দেওয়া হয়। কিন্তু যারা দলের যোগ্য, সৎ ব্যক্তি তারা কিন্তু কিছুই পান না। দলের ভেতরেও শুদ্ধি অভিযান চালানোর দাবি তুলেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীদের একটি অংশ। তাদের যুক্তি, দীর্ঘদিন ধরে দলের রাজনৈতিক আন্দোলনে যুক্ত থাকা ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্প্রতি ব্যক্তিস্বার্থে বিএনপির নাম ব্যবহার করতে চাওয়া ব্যক্তিদের এক করে দেখা উচিত নয়। এ ছাড়া দলের অনুপ্রবেশকারী ‘হাইব্রিড’ কিংবা ‘নব্য বিএনপি’সদস্যদের ব্যাপারে দলকে সতর্ক থাকতে হবে।
কারণ, ক্ষমতায় আসার পর দলের দুর্দিনের কর্মীরা পেছনে সরে যাচ্ছে। আর নব্য বিএনপির দলের পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গায় প্রভাব বিস্তার করছে। বিএনপির এক নেতা বলেন, মৌসুমি পাখিরা দলে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। যারা বিগত সময়ে বিএনপির প্রকাশ্যে ক্ষতি করেছেন তারাও এখন বড় বড় পদে যাচ্ছেন, সুবিধা নিচ্ছেন। এগুলো বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের সহযোগিতায় হচ্ছে। এগুলো দেখে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মর্মাহত।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









