রাঙামাটির জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেকে সড়ক অবরোধ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে অবরোধকারীদের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর অবরোধকারীদের ছদ্মাবরণে চালানো এই হামলায় সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়া পর্যটকবাহী গাড়িবহর আটকে পড়ে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় প্রায় দুই হাজার ৩০০ জন পর্যটককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
স্থানীয় লোকজনকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে অবরোধে অংশ নিতে বাধ্য করা এবং তাদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও করেছে আইএসপিআর। অবরোধকারীদের ইটপাটকেল নিক্ষেপে সেনাবাহিনীর পাঁচজন ও পুলিশের দুজনসহ নিরাপত্তা বাহিনীর মোট সাতজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন রাঙামাটির পুলিশ সুপার (এসপি) মুহম্মদ আব্দুর রকিব। আর ইটপাটকেলের আঘাতে কয়েকজন পর্যটকের আহত হওয়ার তথ্য দিয়েছেন সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকের গঙ্গারাম বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় দুই সংগঠনের অবরোধে আটকে পরা পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়ার সময় পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সশস্ত্র সদস্যরা ৩০ থেকে ৪০ রাউন্ড গুলি ছুড়েছেন বলে জানিয়েছে আইএসপিআর। বিবৃতিতে তারা জানায়, এ ঘটনায় আটকে পড়া প্রায় প্রায় দুই হাজার ৩০০ জন পর্যটককে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সাজেক থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে দিতে, সাজেকে ধারাবাহিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি, সাধারণ মানুষকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর প্রতিবাদ এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও স্থানীয়দের সার্বিক নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষার দাবিতে সাজেকে আন্দোলন করছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। সাজেক প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ অধ্যুষিত অঞ্চল এবং সংগঠন দুটি ইউপিডিএফ সমর্থিত বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সংগঠন দুটির অভিযোগ, সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র সদস্যদের তৎপরতা ও হুমকিতে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
অবিলম্বে সাজেকাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে তাদের ‘ন্যায্য দাবি’ মেনে নিয়ে ওই এলাকা থেকে জেএসএস (সন্তু লারমা) এর ‘সশস্ত্র’ সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান নেতারা। এসব দাবিতে ১১ থেকে ১৫ অক্টোবর দুই দফায় অবরোধ পালনের পর দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ শিথিল করা হয়। এরপর বুধবার বিকেলে সাজেক পর্যটন সড়কে তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ঘোষণা করে সংগঠন দুটি। সেই সঙ্গে সাজেক থেকে পর্যটকদের চলে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। এ পরিস্থিতিতে পর্যটকদের নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বুধবার সন্ধ্যা সাতটা থেকে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। এতে আটকে পড়া প্রায় প্রায় দুই হাজার ৩০০ জন পর্যটককে বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার মধ্যে নিরাপদে সাজেক ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেএসএস। সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা দাবি করেন, সাজেকে সাধারণ মানুষের ওপর ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা নিপীড়ন ও হয়রানির অভিযোগ আড়াল করতেই জেএসএসের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
৩০-৪০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে ইউপিডিএফ
আইএসপিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গঙ্গারাম বাজার এলাকায় ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা স্থানীয় লোকজনকে জোরপূর্বক মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সড়ক অবরোধ করেন। এতে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সাজেকে বেড়াতে যাওয়া প্রায় তিন হাজার পর্যটক আটকা পড়েন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে অবরোধকারীরা সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও পর্যটকবাহী যানবাহনের চলাচল বন্ধ করে দেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল দল অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয়। তবে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে অবরোধকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লাঠিচার্জ করে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। পরে পর্যটকবাহী যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়।
আইএসপিআর জানায়, বেলা ১১টার দিকে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এ সময় আত্মরক্ষা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর টহলদল পাল্টা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে সশস্ত্র ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অবরোধ ও সহিংসতার ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর চলমান অভিযানের প্রেক্ষাপটে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের একটি অংশ কোণঠাসা হয়ে পর্যটন এলাকায় অবস্থান নিয়েছে।
এ ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ড পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার পাশাপাশি পর্যটনশিল্প এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে উল্লেখ করেছে আইএসপিআর।
পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং স্থানীয় জনগণ ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেসামরিক প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সেনাবাহিনীর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আইএসপিআর।
নিরাপত্তা বাহিনীর ৭ সদস্য ও কয়েকজন পর্যটক আহত
সাজেকে অবরোধকারীদের হামলায় সেনাবাহিনীর পাঁচজন ও পুলিশের দুজনসহ নিরাপত্তা বাহিনীর মোট সাতজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন এসপি মুহম্মদ আব্দুর রকিব। বিকেল তিনটায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন তিনি জানান, নিরাপত্তা বাহিনীর সব সদস্য ইট-পাটকেলের আঘাতে আহত হয়েছেন। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে নিয়েছে প্রশাসন। সন্ত্রাসীদের আটক করতে অভিযান চলছে।
এসপি জানান, সাজেকের পাহাড়ে যে অবরোধ, এ অবরোধের মধ্যেই সাজেকে থাকা পর্যটকদের ওপর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা গুলি বর্ষণ করে। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মিলে তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘সাজেকে আটকে পড়া ওই পর্যটকদের নিরাপদে খাগড়াছড়ি পৌঁছে দিতে সেনাবাহিনী এবং পুলিশ যৌথভাবে এস্কর্ট দিয়ে সকাল নয়টার দিকে গাড়িতে রওনা হয়। সাড়ে ১০টার দিকে গঙ্গারাম বাজারে পৌঁছালে সেনাবাহিনী এবং পুলিশ অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলে যেন পর্যটকরা নিরাপদে যেতে পারেন। কিন্তু অবরোধকারীরা তখন চেকপোস্টে পুলিশ এবং দায়িত্ব পালনকারী বাহিনীর ওপরে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাতজন সদস্য আহত হন।
এরপর তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দিয়ে পর্যটকদের গাড়ি যখন সামনের দিকে এগিয়ে যায়, তখন আমরা গোয়েন্দা সূত্রে তথ্য পেয়েছি যে, ইউপিডিএফের সশস্ত্র গ্রুপ পর্যটকদের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও পাল্টা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে পর্যটকরা যখন চলে যান, তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে থেমে থেমে গুলি বিনিময় হয়।’ পুলিশ সুপার জানান, দুপুর একটা পর্যন্ত দফায় দফায় গুলি চলতে থাকে। একটার পর থেকে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ চলে আসে। বর্তমানে এখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোছাইন, মো. জসীম উদ্দীনসহ অন্য কর্মকর্তারা। সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সশস্ত্র গোষ্ঠী ইউপিডিএফের ইট-পাটকেল নিক্ষেপে কয়েকজন পর্যটক আহত হন।
এ ঘটনায় ইউপিডিএফ এবং অবরোধের ডাক দেওয়া দুটি সংগঠন সাজেক রক্ষা গণ অধিকার পরিষদ ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের দায়ী করেন পুলিশ সুপার। তিনি জানান, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি বাবুধন চাকমা এবং কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুনজয় চাকমার বিরুদ্ধে মামলা ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। হামলায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত এবং তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নিতে তদন্ত করা হবে। পুলিশ সুপারের ভাষ্য, সাজেকে চলমান অবরোধ ও সাম্প্রতিক সংঘাতের পেছনে আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তার ঘিরে বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। সেখানে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধের বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
গোলাগুলির খবর ‘সর্বৈব মিথ্যা ও বানোয়াট’: ইউপিডিএফ
সাজেক পর্যটনকেন্দ্রের লাইনম্যান হেপিং ত্রিপুরা বলেন, সকাল ছয়টা থেকে সাজেক সড়কের গঙ্গারাম ও উজো বাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় গাছের গুঁড়ি ফেলে পিকেটিং শুরু করেছিলেন অবরোধকারীরা। এদিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় আটকা পড়া পর্যটকদের সাজেক থেকে খাগড়াছড়িতে সরিয়ে নেওয়ার কাজও শুরু হয়। সকাল সাড়ে আটটার দিকে প্রায় সাড়ে চার শতাধিক ছোট-বড় গাড়ি নিয়ে পর্যটকরা সাজেক ত্যাগ করেন। গাড়িবহরটি সাজেক ভ্যালি থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে গঙ্গারাম বাজার এলাকায় পৌঁছলে অবরোধকারীরা গাড়িবহর আটকে দেন। তাতে প্রায় দুই হাজার ৩০০ জন পর্যটক সেখানে পড়েন। সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সভাপতি বাবুধন চাকমা সে সময় বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ অবরোধ পালন করছি। পর্যটকের গাড়িসহ কোনো ধরনের গাড়ি চলতে দেওয়া হবে না। আমরা সড়কে অবস্থান নিয়েছি পর্যটকবাহী গাড়িগুলো ছেড়ে দেওয়ার কোনো চিন্তা-ভাবনা নেই।’
হেপিং ত্রিপুরা জানান, পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা লাঠিপেটা করলে অবরোধকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরা পাহারায় পর্যটকদের গাড়িবহর বেলা ১১টার দিকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে ওই এলাকা ত্যাগ করে। এরপর সেনাবাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি শুরু হয়।
তবে গোলাগুলির ওই খবর ‘সর্বৈব মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে দাবি করেছে পাহাড়ের সংগঠন ইউপিডিএফ। সংগঠনের মুখপাত্র অংগ্য মারমা বিবৃতিতে বলেন, ‘কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে, সেখানকার জনগণের সাথে কথা বলে এমন খবরের সত্যতার বিন্দুমাত্র প্রমাণ মেলেনি। মূলত জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়ার ন্যায্য দাবিতে সাজেকবাসীর চলমান শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধ কর্মসূচি বানচালের অপচেষ্টার অংশ হিসেবে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নিজেরা একতরফা বিভিন্ন দিকে গুলিবর্ষণ করেছেন।’ শান্তিপূর্ণ অবরোধকারীদের ওপর ‘বর্বর হামলা, লাঠিচার্জ, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের’ অভিযোগ তুলে এর নিন্দা জানান অংগ্য মারমা।
কাল দুই জেলায় অর্ধদিবস অবরোধ
এদিকে সাজেকে সড়ক অবরোধকারীদের ওপর হামলা, লাঠিচার্জ এবং ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুরের অভিযোগ এনে আগামীকাল শনিবার রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় অর্ধদিবস সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ। তবে অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে অ্যাম্বুলেন্স ও রোগীবাহী গাড়ি, শববাহী যান, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী যানবাহন এবং সাংবাদিকদের বহনকারী গাড়ি।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, সাজেকে জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে ডাকা শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধে হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদ এবং সাজেকবাসীর ন্যায্য দাবির সমর্থনে এ কর্মসূচি পালন করা হবে। বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি উষাতন চাকমা জানান, শনিবার ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুই জেলায় সড়ক ও নৌপথে অবরোধ চলবে। কর্মসূচি সফল করতে পার্বত্য চট্টগ্রামের সব গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল সংগঠন এবং রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার যানবাহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
ক্ষতির মুখে পর্যটন
এদিকে দফায় দফায় অবরোধ ও পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা। পর্যটকদের আগাম বুকিং বাতিলের পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন ও কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণেও সংকট দেখা দিয়েছে। সাজেক রিসোর্ট কটেজ মালিক সমিতির সহ সাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, অবরোধে পর্যটকদের সাজেক ছাড়তে হচ্ছে। অনেক রিসোর্টের আগাম বুকিং বাতিল করেছেন পর্যটকেরা। সাজেকে সড়ক অবরোধ হলে শুধু পর্যটক বা ব্যবসায়ীরা নন, স্থানীয় বাসিন্দারাও চরম ভোগান্তিতে পড়েন। খাদ্যসামগ্রী কেনাকাটা ও উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া বন্ধ হয়ে যায়।
সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারিকুল ইমরান জানিয়েছেন, এতে সাজেকের পর্যটন পরিস্থিতি এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক রয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য: আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক দুটি রাজনৈতিক সংগঠনের মধ্যকার দ্বন্দ্বের জের ধরে রাঙামাটির সাজেক সড়কে অবরোধ পালন করা হচ্ছে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অবরোধকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সাধারণ নাগরিকদের জীবন নিয়ে তামাশা করার অধিকার কারও নেই। গতকাল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি প্রশ্ন তুলে লেখেন, রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেককে কেন্দ্র করে কী হচ্ছে? ভুয়া গোয়েন্দা তথ্যের পেছনে না দৌড়ে সঠিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









