ভারতে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে আসার ঘোষণার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘তারা বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে এবং ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চান। তবে আমরা কোনো অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ দেব না।’
গতকাল রবিবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেনেছি, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে আসতে চান। আমরা তাকে ফেরত পেতে পাশের দেশে কয়েকদফা চিঠি দিয়েছি।’ তিনি বলেন, ’অতীতে তাদের অপপ্রয়াস চালু ছিল। তারা বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে এবং ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চান। সেটি তাদের স্ট্র্যাটেজিতে করতেই পারে। তবে আমরা বাংলাদেশে কোনো অস্থিরতার সুযোগ দেব না। কোনো অপশক্তিকে না, কোনো পতিত শক্তিকে না, কোনো ফ্যাসিস্টকে না, কোনো পলাতক অপরাধীকে না, কোনো গণহত্যাকারীকে না।’ সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘যারা বাংলাদেশের গণআন্দোলনে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন, এদেশের শত শত নাগরিককে হত্যা করেছেন, তাদের বাংলাদেশে কোনো অপতৎপরতা চলবে, সেটি হতে দেব না।’
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবশ্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকারে অধীনে হবে বলেও ব্রিফিংয়ে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এটি রাজনৈতিক সমঝোতা ও আন্দোলনের মূল অঙ্গীকার ছিল মন্তব্য করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সর্বোচ্চ আদালত থেকে ত্রয়োদশ সংশোধনী সম্পর্কিত যে রায় বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক দিয়েছিলেন সেটা বাতিল করেছে এবং জুডিশিয়ালি সেটা রিভাইভ (পুনর্বহাল) করেছে। লেজিসলেচার বা আইনসভার মাধ্যমে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল ও প্রতিস্থাপন করা হবে।’
প্রেস ব্রিফিংয়ে সংবিধান সংশোধনে গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির প্রধান সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচন অবশ্যই নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে।’ তিনি জানান, শনিবার পর্যন্ত বিশেষ কমিটি রাজনৈতিক দল ও জোট, গণমাধ্যমের সম্পাদক, নারী নেতৃত্ব, জুলাই গণআন্দোলনের অংশীজন, বিশিষ্ট নাগরিক, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। এসব আলোচনায় রাষ্ট্রপ্রতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন প্রক্রিয়া, স্বাধীন বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কমিটি এসব আলোচনার আলোকে প্রতিবেদন তৈরি করবে, যার ভিত্তিতে পরবর্তীতে সংসদে সংশোধনী বিল তোলা হবে।
ব্রিফিংয়ে গোপালগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে অন্য প্রশ্নে স্বরামন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এখানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ মিছিল করার চেষ্টা করে। সেখানে টহলরত পুলিশ ছিল। তাদের সংখ্যা কম ছিল। এখানে হামলা হয়েছে। আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ একজন অতিরিক্ত ডিআইজির বাসায় অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে গ্রেফতারের প্রসঙ্গ টেনে জানতে চাওয়া হয়, সেই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবস্থাতো নেওয়া হয়েছে। তাকে সংযুক্ত করা হয়েছে বিভাগীয় প্রসিডিং চালু হবে। আমরা আইনি সব প্রক্রিয়া অবলম্বন করবো। এখানে কার কি পরিচয় সেটা দেখবো না।’
রাঙামাটির পর্যটনকেন্দ্র সাজেকের বর্তমান পরিস্থিতি কেমন আছে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পাহাড়ে অনেকগুলো গ্রুপ আছে। এখানে জনসংহতি সমিতি ছাড়াও আরও দুইটা একই নামে আছে, রিফর্মিস্টসহ কয়েকটি আছে, তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আছে। এবারের পর্যটন মৌসুম ঘিরে তারা পাহাড়ি কিছু জায়গা, কিছু অঞ্চল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সঠিক রাখতে আমরা সব প্রচেষ্টা নিয়েছি। সেনাবাহিনীও যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যায় থেকেও আলাপ আলোচনা চলছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্রিফিংয়ে সদ্য শেষ হওয়া দুর্গাপূজার প্রসঙ্গও এসেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পেরেছি।’ অতীতে এই দুর্গোৎসব ঘিরে অনেক রকমের দুর্ঘটনা হয়েছে, অপ্রীতিকর ঘটনা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হয়েছে মন্তব্য করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টে অনেক ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে আমাদের ধারণা। এ সমস্ত অপসংস্কৃতি থেকে আমরা মুক্ত হতে পেরেছি। আশা করি, আগামীতে এ পরিবেশ বজায় রাখতে পারবো সবার সহযোগিতা নিয়ে।’
প্রথমবার সর্বোচ্চ পূজামণ্ডপ হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপ হয়েছে। এবার তাদের জন্য যে চার কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, সেটি বেড়ে পাঁচ কোটি টাকা করা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









