রাজধানীর তুরাগ নদীর একটি ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির (২৮) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তরতাজা যুবক তাহসিফের এই মৃত্যু নিয়ে রহস্য দানা বাঁধতে শুরু করেছে। তার বাবা এটাকে ‘হত্যাকাণ্ড’ দাবি করছেন। তাহসিফের এক ঘনিষ্ঠ সহপাঠী এ ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক’ বলে ধারনা করছেন।
কারণ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশ ছেড়ে পালানোর ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিমানবাহিনীর দুই কর্মকর্তা আলোচনায় আসেন। তাদের একজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট রিফাত আশরাফী। তিনি বিমানবাহিনীর কুর্মিটোলা এয়ারবেইসের অফিসার্স মেসের একটি কক্ষের জানালা থেকে দৃশ্যটি ধারণ করেছিলেন বলে জানা গেছে। অন্যজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরি, যিনি ভিডিওটি ফেসবুকে নিজের টাইমলাইন থেকে প্রকাশ করেছিলেন। এ ঘটনায় দুজনকেই বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।
রিফাত আশরাফী বিমানবাহিনীর প্রশাসন শাখার কর্মকর্তা ছিলেন বলেও জানা গেছে। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দৃশ্যটি একটি নির্দিষ্ট অ্যাঙ্গেল থেকে ধারণ করা হয়েছিল। ভিডিওটির সূত্র ধরে বিমানবাহিনীর এয়ার ইন্টেলিজেন্স তদন্ত শুরু করে।তদন্তে ভিডিও ধারণের অ্যাঙ্গেল, অবস্থান ও ক্যামেরা ঘোরানোর ধরন বিশ্লেষণ করে কোন কক্ষ থেকে এবং কে দৃশ্যটি ধারণ করেছিলেন, তা শনাক্ত হয়। জিজ্ঞাসাবাদে রিফাত আশরাফী তার অফিসকক্ষের জানালা থেকে ছবিটি তোলার কথা স্বীকার করেন। তাহসিফ সাউরিও পোস্ট দেওয়ার কথা জানান।
সহপাঠীর রহস্যজনক ফেসবুক পোস্ট
কে এম তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনায় তারই সহপাঠী কেএসএম ইনতিসার ইনজিমাম এক ফেসবুক পোস্টে বলেছেন কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে সেটা প্রমাণিত না হলে রাজনৈতিক কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধরে নেবেন। বুধবার বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে রাজধানীর উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী সংলগ্ন তুরাগ নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জানা গেছে, তাহসিফের সহপাঠী কেএসএম ইনতিসার ইনজিমাম। তারা আদমজী কলেজে একসঙ্গে পড়াশোনা করেছেন ও পরে ৭৯ বিএমএ ইক্যুইভ্যালেন্ট কোর্সমেট হিসাবে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে কোর্স করেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা ২৯ মিনিটে এক পোস্টে ইনজিমাম বলেন, ‘ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি। হাসিনার ভিডিও ভাইরাল করার সাথে জড়িত এই ছেলেটার লাশ আজকে তুরাগ নদীতে ভেসে আসছে। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। কাল বাদ আসর তার জানাজা। উত্তরায়।’ তিনি বলেন, ‘গত পরশু রাতে সে বাইরে যায় এরপর এই ঘটনা। তার লাশের ছবিতে হাতে কাদা মাখা। বাকি সব ক্লিন, এইটা কিসের লক্ষণ আমি এখনি বলতে চাইনা তবে এইটা ব্যক্তিগত কোন কোন্দল বা এক্সিডেন্ট ক্লিয়ারলি প্রমাণিত না হলে। আমি ধরে নিব এইটা পলিটিকাল।’
ইনজিমাম লেখেন, ‘Tahsif Souri আদমজী কলেজে আমার বন্ধু ছিল এবং পরবর্তীতে আমরা ৭৯ বিএমএ equivalent coursemate হিসাবে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে জয়েন্ট সার্ভিস কোর্স করি। ওর সাথে আমার জীবনের আদর্শ আকাশ ও পাতাল কিন্তু আমি যখনই কোন তালিম টাইপ কথা বলতাম চুপ করে শুনত। যদিও I wish he could understand better, but we all lead our lives in our way, maybe that's what got to him.’ তিনি আরও লেখেন, ‘৫ই আগষ্ট এর ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর, তার মানহানি করা হয় নানান বিষয়ে কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোন পুলিশি কেস করতে পারেনাই আমার জানা মতে যদিও বহুল করে হারে মানহানি করা হয়েছিল। তাই আমার বিশ্বাস সব কিছু সেই হাসিনার হেলিকপ্টার এর ভিডিও ফাঁস এর সাথে কানেক্টেড কারণ ৫ই আগষ্ট এর ঘটনার আগেও ফ্যালকন এই তার ১ সপ্তাহ আগে আমার সাথে দেখা হয়, সে সাধারণ ডিউটি করছিল। আল্লাহ তাকে মাফ করে দিন এবং তার বিচার করুন। আমীন।’
এদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাবেক এই বিমান কর্মকর্তা মাঝেমধ্যে তুরাগ নদীর ওই ঘাট এলাকায় ঘুরতে যেতেন। স্থানীয় বাসিন্দারা ছোট নৌকায় নদী পারাপারের জন্য ঘাটটি ব্যবহার করেন। ঘটনার দিনও তিনি উত্তরার বাসা থেকে বের হয়ে সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। পরে ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন ওই সাবেক কর্মকর্তা এক জুনিয়র বন্ধুর সঙ্গে বাইরে বের হয়েছিলেন। এরপর তিনি আর বাসায় ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ শুরু করার পর নদীর ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধারের খবর জানতে পারেন।
পুলিশ বলছে, মরদেহের অবস্থান ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন না থাকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষক্রিয়া, শ্বাসরোধ কিংবা অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে কি না, বিভিন্ন সম্ভাবনা সামনে রেখে তদন্ত চলছে। তবে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার আগে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চাইছে না পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম যায়। ফরেনসিক ভ্যানের মাধ্যমে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি পিবিআইও তদন্তে যুক্ত হয়েছে। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, মরদেহের অবস্থান এবং পাওয়া আলামত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তদন্তে তার সঙ্গে সর্বশেষ বাইরে বের হওয়া ব্যক্তির বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার দিন তারা কোথায় গিয়েছিলেন, কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং এরপর কী ঘটেছিল, এসব তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ।
ঢাকা অঞ্চল নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) আব্দুল্লাহ্ আল মামুন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কিছু নেই, যেটি দেখে মৃত্যুর কারণ বলা যায়। বিষক্রিয়া, শ্বাসরোধসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাও তদন্তে বিবেচনায় থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।’ তিনি বলেন, নৌ পুলিশের পাশাপাশি একাধিক সংস্থা নিজেদের মতো করে তথ্য সংগ্রহ করছে। এখনো নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং পরিবারের অভিযোগের পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে মরদেহ উদ্ধারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে নানা দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত কর্মকর্তাকে ঘিরে পুরোনো একটি ভিডিও সামনে এনে বিভিন্ন বক্তব্যও দেওয়া হচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব তথ্যের অনেকটাই যাচাই করা হয়নি। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো দাবি বা গুজবের ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ কিংবা কারও সম্পৃক্ততা নির্ধারণ করা যাবে না। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘নিহতের বাবা এখনো কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি। তারা যদি হত্যার অভিযোগ না করেন, সে ক্ষেত্রে ইউডি মামলা দায়ের করা হবে। এছাড়াও ঘটনা আপাতত নৌ পুলিশের তদন্তে রয়েছে। নৌ পুলিশের পাশাপাশি পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।’
তাহসিফের পেট ছিল ফোলা, নাক দিয়ে বের হয় রক্ত
ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির (তাওসিফ সৌরি) মরদেহ উদ্ধারের পর কোনো আঘাতের চিহ্ন পায়নি পুলিশ। তবে সুরতহাল প্রতিবেদনে, তার নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। গতকাল সকালে গাজীপুরের টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মুস্তাফিজুর রহমান তাহসিফ সৌরির মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহ তাহসিফের বলে শনাক্ত করেন তার খালাতো ভাই জহির হাসান। মরদেহের মাথার চুল কালো, উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। কপাল স্বাভাবিক এবং মুখমণ্ডল গোলাকার। মুখ ও চোখ বন্ধ ছিল। নাক দিয়ে রক্ত বের হতে দেখা গেছে। তার ছোট ছোট কালো দাড়ি ও গোঁফ ছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মরদেহের দুই হাত মাথার সামনের দিকে বাঁকানো ছিল। হাতের মুঠো খোলা অবস্থায় পাওয়া যায়। বুক, পেট, পিঠ ও দুই পা স্বাভাবিক ছিল। শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে পেট ফোলা দেখা গেছে। সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তাদের দেখানো মতে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তুরাগ নদ থেকে তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে মরদেহটি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার ময়নাতদন্ত করা হবে।
তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তুরাগ নদের রাজাবাড়ি ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
তাহসিফকে আগেও হত্যার চেষ্টা করা হয়, দাবি পরিবারের
ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে যখন তোলপাড়, তখন তার পরিবার জানাল আরও এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। নিহত তাহসিফের পরিবারের দাবি, রাজধানীর মিরপুরের ডিওএইচএস এলাকায় মোটরসাইকেল চাপা দিয়ে তাহসিফ সৌরিকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। তখন তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও দীর্ঘদিন আহত অবস্থায় ছিলেন। তবে প্রথম দফায় ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয় দফায় নিখোঁজের পরদিন তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
গতকাল দুপুরে তুরাগের উত্তরা রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের করবী ভবনে গণমাধ্যমের কাছে এমন অভিযোগ করেন স্বজনরা। নিহত তাহসিফ সৌরি তুরাগের রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের করবী ভবনের কে এম এনায়েতুল করীম হেলালের বড় ছেলে। তারা তিন ভাই বোন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তাহসিফ সৌরি ছিলেন সবার বড়।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিহত সৌরির এক চাচা গণমাধ্যমকে বলেন, 'এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। গত এক মাস আগেও মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় গাড়িচাপা দিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। তখন ভাগ্যক্রমে সে বেঁচে গেলেও আহত হয়ে দীর্ঘদিন বাসায় বিশ্রামে ছিল। দ্বিতীয় দফায় তাকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ তুরাগ নদে ফেলে দেয়।'
তিনি আরও বলেন, 'সাধারণত সৌরির কোনো শত্রু ছিল না। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনো বড় ধরনের একটি চক্র জড়িত। কিন্তু তারা কারা, সেটি জানা নেই।' তাহসিফের ছোট চাচা তাহসিনুল করীম সাউদি বলেন, 'মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টা ৩৫ মিনিটে সৌরির মোবাইল থেকে তার মাকে বয়েস মেসেজ দিয়ে বলেছে, ও বাসায় আসতেছে। তার পর থেকেই তার মোবাইল বন্ধ ছিল। তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। দীপ নামের এক বন্ধু এসে তাকে বাসা থেকে নিয়ে গিয়েছিল। দীপ সৌরির হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কিছুই জানে না বলে জানিয়েছে।'
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার আরেক চাচা বলেন, 'গভীর রাতে যে বয়েস মেসেজটি সৌরির মোবাইল থেকে এসেছিল, সেটি তার না। আমরা বয়েস রেকর্ডিংটি যাচাই করে দেখেছি, সেটি সৌরির ছিল না। তার ধারণা করছি, সৌরিকে আগেই হত্যা করা হয়েছে। পরে তাকে যেন খোঁজাখুজি করা না হয়, তার জন্যই ওই বয়েস মেসেজটি পাঠানো হয়েছিল।'
তাহসিফের চাচার দাবি, সৌরি বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তার সঙ্গে একটি মোটরসাইকেল ছিল। মোটরসাইকেলেই করেই তিনি বাসা থেকে বের হোন। সেই সঙ্গে তার পকেটে একটি মানিব্যাগ ছিল। হত্যাকারীরা হাত ঘড়ি ও মোবাইল ফোন না দিলেও মানিব্যাগ ও মোটরসাইকেল নিয়ে গেছে।' এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'মোবাইল ফোন নিয়ে গেলে, ধরা পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণেই হত্যার পর মোবাইল ফোনটি খুনিরা নেয়নি।'
ঘটনার দিন জুনিয়র বন্ধুর সঙ্গে বাইরে গিয়েছিলেন তাহসিফ: পুলিশ
ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরি মৃত্যুর আগে সর্বশেষ কার সঙ্গে ছিলেন তিনি সে সম্পর্কে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাবেক এই বিমান কর্মকর্তা মাঝেমধ্যে তুরাগ নদীর ওই ঘাট এলাকায় ঘুরতে যেতেন। স্থানীয় বাসিন্দারা ছোট নৌকায় নদী পারাপারের জন্য ঘাটটি ব্যবহার করেন। ঘটনার দিনও তিনি উত্তরার বাসা থেকে বের হয়ে সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। পরে ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
রাজধানীর তুরাগ নদী থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির (তাওসিফ সৌরি) মরদেহটি উদ্ধারের সময়ের বিস্তারিত উঠে এসেছে টঙ্গীর তুরাগ নদীর রাজাবাড়ি খেয়াঘাটে কাজ করা খোকন মিয়া নামে এক প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায়। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গতকাল দুপুরে হঠাৎ দেখি নদীর দক্ষিণ পাশ দিয়ে পশ্চিম দিক থেকে একটা মানুষ ভেসে আসতেছে। নদীর তীরে কিছু লোক লাশের পাশ ধরে ধরে হেঁটে আসছিল। কিছুক্ষণের মাঝেই লাশটি আমার সামনে দিয়ে যায়।’
খোকন বলেন, খেয়াঘাটের পূর্বপাশে ৪টি স্পিডবোট ও একটি নৌকা বাঁধা ছিল। ঠিক সেখানে প্রথম যে সাদা স্পিডবোট ছিল, সেটাতে লাশটি আটকে যায়। তখন দুপুর ২টা। কয়েকঘণ্টা আটকে ছিল। পরে পুলিশ আসে।’ মরদেহ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলে থাকা এক শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গতকাল তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের সময় তিনি ঘটনাস্থলেই ছিলেন। তিনি সেখানে স্বজনদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন এবং পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে দেখেন।
স্থানীয় এক নারী বলেন, একটি মরদেহ কাত হয়ে পড়ে থাকতে দেখি। কিন্তু মরদেহটি কোথা থেকে এসেছে, কেউ জানে না। সেখানে কয়েকটি স্পিডবোট ছিলো, তাতে মরদেহটি আটকে ছিল। নাহলে মরদেহটি ভেসে দূরে চলে যেত। কিছুক্ষণ পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
পুলিশ সূত্র আরও জানায়, চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর ওই কর্মকর্তা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন কি না, সেটিও তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









