মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা বিশ্বাস আব্দুস সাত্তার। তিনি সোনালী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাচ্ছেন। আজ (১৮ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৪টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার সৌদি আরবে যাওয়ার কথা রয়েছে। এ উদ্দেশে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাগুরা থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিপরীত পাশে অবস্থিত আশকোনা হজ ক্যাম্পে উঠেছেন আব্দুস সাত্তার। ক্যাম্পের নির্ধারিত কক্ষে তিনি রাতযাপন করেন। কিন্তু মশার উপদ্রবে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেননি।
শুধু বিশ্বাস আব্দুস সাত্তার একা নন, শত শত হজযাত্রীকে মশার উপদ্রব পোহাতে হয়েছে। হজযাত্রীদের অভিযোগ, হজ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে আগেই আশকোনা হজ ক্যাম্পের আশপাশে মশা নিয়ন্ত্রণ করা দরকার ছিল। কিন্তু ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশন তার কিছুই করেনি। মশার উপদ্রবে রাতে হজ যাত্রীরা ঠিকমতো ঘুমাতে পারেননি। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সমস্যা সমাধান করতে হবে।
হজযাত্রী বিশ্বাস আব্দুস সাত্তার বলেন, হজ ক্যাম্পের সার্বিক পরিবেশ ভালো। তবে এখানে মশার উপদ্রুব অনেক বেশি। বৃহস্পতিবার রাতে মশার কামড়ে অনেকে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেননি। দিনের বেলায়ও রুমে মশা কামড়ায়। সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ, দ্রুত সময়ের মধ্যে মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
বিশ্বাস আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিল, তখন হজ ক্যাম্পের ভেতরের বাগানের মশা নিধনে ফগার মেশিন দিয়ে কীটনাশক দিচ্ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের এক মশককর্মী। কামাল হোসেন নামে ওই মশককর্মী বলেন, ‘ফগিং করে মশা নিধনে নির্দেশনা দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সে অনুযায়ী ক্যাম্পের বাগানসহ চারপাশে ফগিং করছি। আশা করি মশার উপদ্রুপ কমবে।’ তবে ফগিং করে উড়ন্ত মশা কিছুটা নিধন করা গেলেও ড্রেন, নালা, ডোবায় থাকা মশার লার্ভা কতোটা ধ্বংস করা হয়েছে, তা বলতে পারেননি মশককর্মী কামাল হোসেন।
দুপুর আড়াইটার দিকে হজ ক্যাম্প পরিদর্শনে যান ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। এ সময় তিনি হজযাত্রীদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
ক্যাম্পে মশার উপদ্রুপ সম্পর্কে জানতে চাইলে এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘ক্যাম্পের আশপাশে মশার উপদ্রব কমাতে সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা এরই মধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। আশা করি আজ মশার উপদ্রব কমবে। তারপরও বিষয়টি নিয়মিত তদারকি করা হবে। যাতে কোনো ক্রমেই হজযাত্রীদের কষ্ট না হয়।’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









