বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতে দেশ জুড়ে জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কায় যশোরের শার্শা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে স্থানীয় পেট্রোল পাম্পগুলোকে সরকারি নির্দেশনা দেওয়া হলেও উপজেলা জুড়েই তেল নিয়ে চলছে তেলেসমাতি।
হঠাৎ করেই শার্শার হাটবাজারগুলোতে ভোজ্য তেলের (সয়াবিন) সংকট দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি বাড়তি মুনাফার আশায় ডিলারদের অবৈধ মজুতের ফলে খোলা বাজারে বোতলজাত তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়াও তেল পাম্প হতে প্রতিদিন ২ লিটার তেলের আশায় ভোর হতে দীর্ঘ লাইনে মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে রোদে পুড়ে তেল না পেয়েই ঘরে ফিরতে হচ্ছে ভোক্তাদের। আবার কোনো কোনো ভোক্তা একই পাম্প হতেই বেশী দাম দিয়ে লাইন ছাড়াই পাচ্ছেন চাহিদা মত তেল। সবই যেন “মগের মুল্লক”।
উপজেলার লাউতড়া গ্রামের কৃষক আজগর আলী বলেন, “বাড়তি টাকা দিলেই লাইন ছাড়াই মিলছে ব্যারেল ভর্তি তেল।”
গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) উপজেলার বাঁগআচড়া এলাকায় অবস্থিত জহুরা ফিলিং স্টেশনে টাস্কফোর্সের অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ মজুতের উদ্দেশে বিক্রয়কৃত দুশো লিটার ডিজেল জব্দসহ প্রতিষ্ঠান ম্যানেজার ও ক্রেতাকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য, বাঁগ আচড়া ফিলিং স্টেশন, শাহাজালাল ফিলিং স্টেশন, মিলন অ্যাণ্ড ব্রাদার্স নিয়ম ভেঙ্গে বাড়তি লাভে ভোক্তার চাহিদা অনুযায়ী তেল বিক্রি করলেও দেখার কেউ নেই। যদিও পাম্প মালিকদের বিবৃতি এগুলো সব অপপ্রচার। ডিপো হতে জ্বালানি তেল কম সরবারহ পাওয়ার অজুহাতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন পড়ার সুযোগে কয়েকটি পাম্পের বিক্রিত তেল পরিমানেও কম দিছে বলে ভোক্তাদের অভিযোগ থাকলেও আমলে নিচ্ছে না কেউ।
অবৈধ মজুত, চাহিদার তুলনায় অধিক তেল ক্রয় রোধসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পেট্রোল পাম্পগুলোতে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও তোয়াক্তা করছেন না ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের।
সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি তেল পাম্পে গেলে দেখা যায়, জ্বালানি তেল সরবরাহ ও গ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন ঘোষিত শর্তাবলি কেও মানছেন না। এ যেন “সরিষার ভিতরেই ভুত”। ফিলিং স্টেশন হতে জ্বালানি তেল নেওয়ার সময় ভোক্তাকে অবশ্যই তেলের ধরণ, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করে ক্রয় রশিদ দেওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
বিষয়টি নিয়ে শার্শা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়াজ মাখদুম বলেন, “উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে সকল তেল পাম্পে ট্যাগ অফিসার (সরকারি কর্মকর্তা) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সার্বক্ষনিক আমরা পাম্পগুলোর কার্যক্রম মনিটরিং করছি।”
বেনাপোল ফিলিং স্টেশন হতে পেট্রোল কিনে পরিমাপে কম পাওয়া ভোক্তা বেনাপোলের সোহাগ হায়দার বলেন, “শার্শার পাম্প মালিকরা সিন্ডিকেট গড়ে বিক্রিত তেল পরিমাপে কম দিচ্ছে।”
অভিযোগ বিষয়ে যশোর বিএসটিআই অফিসের উপ-পরিচালক আসলাম শেখের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অভিযুক্ত পাম্পের ট্যাগ অফিসার চাইলে আমরা অভিযান পরিচালনা করে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পারি।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









