ভোক্তাপর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর পর আশা করা হয়েছিল সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। কিন্তু বাস্তবে চিত্র উল্টো। রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না গ্রাহক। অনেক পাম্পে তেল বিক্রির ওপর সীমা নির্ধারণ করে দেয়ায় বাড়তি দাম দিয়েও কাটছে না ভোগান্তি।
গতকাল রবিবার রাজধানীর বিভিন্ন পাম্প সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, জ্বালানি সংগ্রহের জন্য মোটরসাইকেল আরোহীদের দীর্ঘ সারি। এমনকি অনেক পাম্পে বাড়তি দাম দিয়েও গ্রাহক চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না। অপরদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের বাজারে দাম নির্ধারণ করায় সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি। সংগঠনটির সদস্য সচিব মীর আহসান উদ্দিন পারভেজ বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে জ্বালানি তেলের অপ্রয়োজনীয় মজুত প্রবণতা কমবে এবং বিক্রয় ব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা আসবে বলে তারা মনে করেন।
সবেমাত্র ভোর গড়িয়ে সকাল হয়েছে, ৮টা বাজে। এরই মধ্যে রাজধানীর সড়কে নেমে পড়েছেন কর্মীজীবী মানুষ। একদল যখন কর্মক্ষেত্রে ছুটতে ব্যস্ত ঠিক তখনই ভিন্ন চিত্র দেখা যায় রাজধানীর তেল পাম্পগুলোতে। একের পর এক লাইন ধরে দাঁড়িয়ে পাম্পে তেলের অপেক্ষায় অলস সময় কাটাতে ব্যস্ত যানবাহন চালকরা। গতকাল রবিবার রাজধানীর আসাদগেটে তালুকদার ফিলিং স্টেশন ও সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন এবং মেঘনা ফিলিং স্টেশন ঘুরে যানবাহনের এমন দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, রাজধানীর এই তিনটি তেল পাম্পের সামনেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি। তবে এত সকালে কোনো পাম্পে তেল বিক্রি শুরু না হলেও লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন যানবাহন চালকরা। অপেক্ষা করছেন তেলের জন্য। পাম্পে অপেক্ষারত যানবাহন চালকদের ভাষ্য, শনিবার রাত থেকেই তারা তেল সংগ্রহের জন্য অপেক্ষা করছেন।
সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনের সামনে মোটরসাইকেল নিয়ে তেলের অপেক্ষায় দাড়িয়ে আছেন শাহীন। তিনি বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যায় এসে দাঁড়িয়েছি। রাত ১১টা পর্যন্ত পাম্প থেকে তেল দিয়েছে। তারপর তেল শেষ হয়ে গেছে। আজ (রবিবার) আবার তেল দেওয়া শুরু হলে তেল নিয়ে তারপর বাসায় যাব। হাফিজ নামে অন্য একজন মোটরসাইকেল চালক বলেন, শনিবার দুপুর ৩টার সময় লাইনে দাঁড়িয়েছি। যখন লাইনে দাঁড়িয়েছি তখন লাইনের শেষ মাথা ছিল টাউনহল পর্যন্ত। পরে টাউনহল থেকে আসাদগেট পর্যন্ত আসতে আসতেই তেল শেষ। রাত থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এখনো পাম্প খোলেনি।
গতকাল রাজধানীর তেজগাঁও সাতরাস্তা সিটি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, বাইকারদের লাইন তেজগাঁও প্রধান ট্রাক স্ট্যান্ড থেকে কারওয়ান বাজার রেলগেটের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এত ভিড়ের মধ্যেও স্টেশন কর্তৃপক্ষ ৫০০ টাকার বেশি তেল দিচ্ছে না। অথচ দাম বাড়ার আগে এই ৫০০ টাকায় যেখানে ৪ লিটারের একটু বেশি তেল পাওয়া যেত, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র সাড়ে ৩ লিটারের একটু বেশি। এতে পর্যাপ্ত তেল না পাওয়া এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রাহকদের ক্ষোভকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে। সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বাইকার শাহরিয়ার হৃদয় বলেন, সকাল ১০টা থেকে লাইনে অপেক্ষা করছি, তেল দেয়া শুরু করেছে ২টায়। কখন পাব জানি না। আরেক বাইকার বলেন, তেলের দাম বাড়াল, সেই টাকাটা আমাদের পকেট থেকেই যাবে। অথচ বাড়তি দাম দিয়েও ভোগান্তি কাটছে না।
মহাখালীর ক্লিন ফুয়েল স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, বাইকারদের লাইন মহাখালী বাস টার্মিনাল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। এত ভিড়ের মধ্যেও স্টেশন কর্তৃপক্ষ ৬০০ টাকার বেশি তেল দিচ্ছে না। অথচ দাম বাড়ার আগে এই ৬০০ টাকায় যেখানে ৫ লিটার তেল পাওয়া যেত, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪.২ লিটারে। বাড়তি টাকা খরচ করেও পর্যাপ্ত তেল না পাওয়া এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রাহকদের ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। অপেক্ষমাণ এক বাইকার মো. কামরুল ইসলাম বলেন, সকাল ১০টা থেকে লাইনে অপেক্ষা করছি, তেল দেওয়া শুরু করেছে ১১টায়, কখন পাব জানি না। আরেক বাইকার মাসুম বিল্লাহ বলেন, তেলের দাম বাড়ালো, সেই টাকাটা আমাদের পকেট থেকেই যাবে। অথচ বাড়তি দাম দিয়েও ভোগান্তি কাটছে না।
অন্যান্য দিনের মতো গতকালও ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশনে অপেক্ষমাণ গ্রাহকদের লাইন জাহাঙ্গীর গেট ছুঁইছুঁই। ফুয়েল পাস থাকলে ১ হাজার ২০০ এবং পাস না থাকলে ১ হাজার টাকার তেল দিচ্ছে স্টেশনটি। সেখানে তেল নিতে আসা যোবায়ের শাকিল বলেন, দাম বাড়িয়েছে ঠিক আছে, কিন্তু তেলটা পেতে যেন ভোগান্তি কম হয়, এটাই চাই। প্রাইভেটকার চালক জাকির বলেন, ভেবেছিলাম মূল্যবৃদ্ধির পর তেলের সরবরাহ বাড়বে, ভোগান্তি কিছুটা কমবে। কিন্তু তেমন কিছু হলো না। সেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে যেতে হচ্ছে। তেল নিতে আসা বাইকার আসাদুজ্জামান বলেন, সকাল সকাল তেল নিতে এসেছি, কিন্তু কখন পাব জানি না। দাম বাড়িয়েছে ঠিক আছে, কিন্তু তেলটা পেতে যেন ভোগান্তি কম হয়, এটাই চাই। আরেক বাইকার মো. শরীফ বলেন, ভেবেছিলাম মূল্যবৃদ্ধির পর তেলের সরবরাহ বাড়বে, ভোগান্তি কিছুটা কমবে। কিন্তু তেমন কিছু হলো না। সেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে যেতে হচ্ছে।
এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোয় পাম্পগুলোতে যানবাহন চালকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বলছেন এই সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে সরকারের তেলের দাম বাড়ানো সঠিক সিদ্ধান্ত। আবার কেউ কেউ বলছেন সরকার তেলের দাম বাড়িয়েছে মূলত সিন্ডিকেট ভাঙতে, পাম্পগুলোতে যেন ভিড় কমানো যায়। কিন্তু সরকার তেলের দাম না বাড়িয়ে যদি সব বন্ধ হয়ে যাওয়া পাম্পে তেল বিক্রির ব্যবস্থা করতো তাহলে গ্রাহকদের ভিড় কমে যেতো।
রাজধানীর মগবাজার থেকে তেল নিতে পরীবাগের মেঘনা ফিলিং স্টেশনে এসে লাইনের শেষের দিকে দাঁড়িয়ে আছেন মেজবা উদ্দিন। তিনি বলেন, সকাল ৭টার সময় এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। এত পেছনে। কাল রাত থেকেই সবাই লাইনে দাঁড়িয়ে। সরকার তেলের দাম বাড়িয়েছে। ভাবছিলাম আজ হয়তো লাইন কমবে কিন্তু আগের মতোই আছে।
তিনি বলেন, সরকার তেলের দাম বাড়িয়েছে যেন সিন্ডিকেট ভাঙা যায়। পাম্পগুলোতে যেন চাপ কমে। পাম্পের চাপ কমাতে, দাম বাড়লে হবে না। যার তেল প্রয়োজন তাকে তেল নিতেই হবে। পাম্পের এই চাপ কমাতে হলে সরকারের উচিত বন্ধ হয়ে যাওয়া সব পাম্পে তেল দেওয়া চালু করা। তাহলে পাম্পের চাপ কমবে। অথচ সরকার বলছে তেল পর্যাপ্ত আছে। তেল পর্যাপ্ত আছে তাহলে পাম্প বন্ধ কেন? তেল পর্যাপ্ত আছে তাহলে দাম বাড়ল কেন? মানুষ কেন তেল মজুদ করছে? কারণ সরকার তেল দিতে পারছে না। পাম্পগুলো বন্ধ থাকছে। এজন্য তেল পর্যাপ্ত মজুদ আছে বললেও মানুষ বিশ্বাস করতে পারছে না। যার কারণে মানুষ অবৈধভাবে তেল মজুদ করছে। আবার ভিন্ন কথা বলছেন কিছু যানবাহন চালক।
তাদের ভাষ্য- সরকারের তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তে পাম্প মালিক ও সাধারণ মজুদদাররা সিন্ডিকেট করতে পারবে না। ফলে তেল পাম্পগুলোতে ভিড় কমবে। তেলের লাইনে অপেক্ষারত সাইফুল নামে এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, শনিবার রাত ১১টার দিকে এসে দাঁড়িয়েছি। এখনো তেল পাইনি। তেলের দাম বৃদ্ধির এমন সিদ্ধান্ত কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকার দাম বাড়িয়েছে। একদিক থেকে ভালো করেছে। অনেকেই দাম বাড়ার আশঙ্কায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা তেল মজুত করছিল। আবার কেউ কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিয়ে সেই তেল বেশি দামে বাইরে বিক্রি করতো। যার কারণে কিছু মানুষ বারবার লাইনে দাঁড়াতেন। সরকার তেলের দাম বাড়িয়েছে এখন আর এই সিন্ডিকেটের চাপটা থাকবে না। আশা করা যায় দুই-একদিনের মধ্যে এই সমস্যা কেটে যাবে।
বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকার সম্প্রতি জ্বালানি তেলের বিক্রয়মূল্য পুনর্নির্ধারণ করেছে। নতুন সমন্বয়ে ডিজেল ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা হয়েছে, অর্থাৎ লিটারে ১৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০ টাকা হয়েছে, এতে লিটারে ১৮ টাকা বেশি গুণতে হবে ভোক্তাকে। অন্যদিকে প্রতি লিটার অকটেন ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা হয়েছে, এতে লিটারে সর্বোচ্চ ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে, যেখানে লিটারে ১৯ টাকা দাম বেড়েছে।
জ্বালানি তেলের বাজারে চলমান অরাজকতা রোধে সাধারণ গ্রাহকদের একটি বড় অংশই অকটেন ও পেট্রোলের দাম বাড়ানোর পক্ষে ছিলেন। তাদের ধারণা ছিল, মূল্যবৃদ্ধির পর পাম্পগুলোতে মজুত করা তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। তেলের দাম বাড়লেও মাঠপর্যায়ের ভোগান্তি কমেনি, বরং ঢাকার অধিকাংশ ফুয়েল স্টেশনে তেলের জন্য অপেক্ষমাণ যানবাহনের লাইন কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেছে।
এদিকে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে। পরিবহন খাতে ভাড়া বৃদ্ধির প্রবণতা ইতোমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে বাস, সিএনজি এবং অন্যান্য যানবাহনের ভাড়া বাড়ানোর দাবি উঠেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ, যাদের দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে। রাজধানীর মিরপুরে কথা হয় এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মরত হানিফের সঙ্গে। তিনি বলেন, “আগে যেখানে প্রতিদিন যাতায়াতে ৮০-৯০ টাকা খরচ হতো, এখন তা ১২০ টাকার কাছাকাছি যাচ্ছে। মাস শেষে এই বাড়তি খরচ আমাদের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।’’ একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আসলাম। আসলাম বলেন, ’পণ্য পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায় লাভ কমে যাচ্ছে, ফলে পণ্যের দাম বাড়ানো ছাড়া বিকল্প থাকছে না।
অন্যদিকে, জ্বালানি তেলের পাম্প মালিকদের মধ্যে তুলনামূলক স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দীর্ঘদিন সমন্বয় না থাকায় ব্যবসায়িক চাপ তৈরি হয়েছিল। নতুন মূল্য নির্ধারণে সেই চাপ কিছুটা কমবে। রাজধানীর একটি ফিলিং স্টেশনের মালিক বলেন, “আমাদের পরিচালন ব্যয়, কর্মচারীদের বেতন এবং অন্যান্য খরচ বাড়ছিল। আগের দামে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল। নতুন দামে অন্তত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য এসেছে।’’
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি কেবল পরিবহন খাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না এটি সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে ত্বরান্বিত করে। কৃষি খাতে সেচ ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পায়, শিল্পকারখানায় উৎপাদন খরচ বাড়ে এবং শেষপর্যন্ত এর প্রভাব পড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরো বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ পরিস্থিতিতে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিম্নআয়ের মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। তারা বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন—এলএনজি ও এলপিজি গ্যাস নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহারে জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকি ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদারের প্রয়োজনীয়তাও উল্লেখ করেছেন। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রতিফলন হিসেবে দেশের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি একটি বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এর প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর নীতি, সুশাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে সাধারণ মানুষের ওপর এর চাপ আরো তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা যাচ্ছে।
রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পকে ঘিরে টানা দীর্ঘলাইন, অপেক্ষা আর অনিশ্চয়তার যে চিত্র তৈরি হয়েছে, তা শুধু একটি নির্দিষ্ট এলাকার সংকট নয়। এ যেন নগরজীবনের থমকে যাওয়ার এক নীরব আর্তনাদ। জ্বালানি যা আধুনিক শহরের প্রাণশক্তি, সেটির অভাবেই আজ দাঁড়িয়ে আছে হাজারো মানুষ। কারো হাতে হেলমেট, কারো স্টিয়ারিং, কেউ বা আছে ছাতা হাতে প্রচণ্ড রোদে গাড়িতে শুয়ে কিংবা বসে। কিন্তু সবার চোখে একই প্রশ্ন, “আর কতক্ষণ?” গাড়ির জ্বালানি পেতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকসহ অন্যদের। ৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষার পর পাম্প থেকে তেল মিলছে। সিরিয়াল ভাঙার অভিযোগে কথা-কাটাকাটি এমনকি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছেন অনেকে। পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছে, সরবরাহ কম আর রেশনিং উঠিয়ে দেওয়ায় সংকট বেড়েছে।
রাজধানীর একাধিক পাম্প ঘুরে দেখা যায়, ক্লান্ত ও উদ্বিগ্ন মানুষের ভিড়। কেউ গাড়ির ভেতরে বসে অপেক্ষা করছেন, কেউবা রাস্তায় দাঁড়িয়ে সময় পার করছেন। দীর্ঘ লাইনের কারণে অনেক সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতিও তৈরি হচ্ছে, যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে তা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে, সীমিত সরবরাহের কারণে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি তেল না দেওয়ার সিদ্ধান্তও ভোগান্তি আরো বাড়িয়ে তুলছে বলে অভিযোগ করছেন অনেকে। কেউ কেউ আরো তীব্রভাবে বিষয়টি তুলে ধরে জানান, জ্বালানির অপ্রতুলতার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ সামলানোও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, সরবরাহ ব্যবস্থার চাপ এবং অভ্যন্তরীণ বণ্টনের সীমাবদ্ধতা মিলিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে তেল সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। রাজধানীর উত্তরার “মেসার্স মাসুদ হাসান”-এই পাম্পে পরিস্থিতি যেন জানান দেয় দীর্ঘদিন এই সংকট চলতে থাকলে সামনের দিনে তা কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। ভোর থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত, কখনো কখনো টানা ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন মোটরসাইকেল আরোহী, প্রাইভেটকার চালক ও অন্যান্য যানবাহনের ড্রাইভার ও মালিকরা। পাম্প সংলগ্ন সড়ক ছাড়িয়ে আশপাশের গলিতেও ছড়িয়ে পড়ছে যানবাহনের লম্বা সারি। অনিশ্চয়তা এতটাই প্রকট যে, দীর্ঘসময় অপেক্ষার পরও অনেকেই নিশ্চিত হতে পারছেন না আদৌ তেল পাবেন কি না। এতে শুধু ব্যক্তিগত ভোগান্তিই নয়, পেশাভিত্তিক আয়ের ওপরও পড়ছে সরাসরি প্রভাব। এদের কেউ কেউ আবার নাওয়া-খাওয়া ও ঘুম বাদ দিয়ে শুধু কলা রুটি খেয়ে তেল নেওয়ার সিরিয়ালে আছেন। লাইনে দাঁড়িয়ে একদিকে যেমন সময়ের অপচয় অন্যদিকে কাজে ফিরতে না পারা। ফলে আয়ের একমাত্র পথও বন্ধ হওয়াই কারো কারো ঘরে জ্বলছে না চুলা। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কিভাবে কাটবে দিন সেই শঙ্কায় অনেকের কপালে ভাঁজ। বিশেষ করে রাইড শেয়ারিং ও ডেলিভারি সেবার সঙ্গে যুক্ত মোটরসাইকেল চালকদের জন্য পরিস্থিতি হয়ে উঠেছে চরম উদ্বেগজনক। তাদের অনেকেই প্রতিদিনের আয়ের ওপর নির্ভরশীল। উত্তরা এলাকায় তেলের পাম্পের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বাইক রাইডার মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, “সারাদিন লাইনে থাকলে রাস্তায় নামার সময়ই থাকে না। তেল না পেলে ইনকামও নেই। কয়েকদিন ধরে ঠিকমতো কাজ করতে পারছি না। একদিন আয় বন্ধ থাকলে সংসার চালাতে পারি না। আর এখন তো টানা কয়েকদিন সমস্যা চলছে। এভাবে চলতে থাকলে ঢাকা শহরে পরিবার নিয়ে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে যাবে।
অন্যদিকে, ব্যক্তিগত গাড়িচালকরাও কম বিপাকে নেই। অফিসগামীদের জন্য এটি হয়ে উঠেছে দৈনন্দিন সময় ব্যবস্থাপনার বড় বাধা। অনেকে সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারছেন না, আবার কেউ কেউ প্রয়োজনীয় কাজ স্থগিত রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। দু-তিন দিন পর পর যদি এভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন- দেশের সিস্টেম, দুর্নীতি আর সরকারের অজ্ঞতার কারণে এই দুর্ভোগ বাড়ছে।
টানা দুইদিন ধরে তেলের লাইনে থাকা প্রাইভেটকার মালিক কামাল হোসেন বলেন, ‘ আমার নিজের গাড়ি কোম্পানিতে লিজ দিয়ে চালাই। আজ দুই দিন হলো তেলের জন্য সিরিয়ালে আছি। ওদিকে কোম্পানিতে বিকল্প হিসেবে অন্য একটি গাড়ি ভাড়া করে দিয়ে এসেছি সেই গাড়ির আজকের ভাড়া আমার পরিশোধ করতে হবে। এদিকে গাড়ি লাইনে রেখে খাওয়া গোসল কিছুই করতে পারি না । কলা রুটি বিস্কুট দিয়ে কোনো রকমে জীবন চালাচ্ছি । বাড়িতে পরিবার অপেক্ষায় আছে, ঘরে চাল শেষ। কিভাবে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দিন পার করব বুঝতে পারছি না। তবে অনেকেই নির্দিষ্ট পরিমাণ তেলের চেয়ে বেশি নিচ্ছে এবং অনেকেই টাকার বিনিময়ে ভিআইপি সিরিয়ালে আগে নিয়ে যাচ্ছে। এজন্য হয়তো আমরা এত দীর্ঘসময় লাইন দিয়েও তেল পাচ্ছি না। সরকার ও দেশের নীতিনির্ধারকদের আর কি বলব তারা তো শিক্ষিত, আমি তো শিক্ষিত না। তারা শিক্ষিত হয়ে পুরো দেশটাকে একটা সিস্টেমে আনতে পারছে না। আসলে শিক্ষিত লোক যদি মূর্খের মতো আচরণ করে তাহলে তাদের আমি শিক্ষিত মনে করি না ।’
তবে এ সংকটের জন্য নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথাই তুলে ধরছেন পাম্প কর্তৃপক্ষ। উত্তরার “মেসার্স মাসুদ হাসান”- পাম্পের ইনচার্জ মজিবুর রহমান বলেন, ‘সরকার থেকে আমাদের কাছে যে পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে, আমরা তা পুরোপুরি গ্রাহকদের মধ্যে বিতরণ করছি। আগে দিতো ৯ হাজার ডিজেল ৯ হাজার অকটেন এখন একটু বাড়িয়ে দিয়েছে সাড়ে ১৩ হাজার অকটেন, সাড়ে ৪ হাজার অকটেন। আমরা এভাবেই তেল সরবরাহ করি সরকারি অফিসার আসে তেল দিয়ে আবার তেল বিক্রির রেকর্ড নিয়ে তারা চলে যান। ডিজেল এখানে অতিরিক্ত মজুদ রাখার সুযোগ নেই। চাহিদা অনেক বেশি, কিন্তু সরবরাহ সেই অনুপাতে বাড়েনি। তবে সরকার সরবরাহ দিলে আমরা সাধারণ মানুষকে দিতে পারব না হলে দিতে পারব না।’
লাইনে থাকা অনেক চালক জানাচ্ছেন অর্থের বিনিময়ে সিরিয়াল ছাড়া এই পাম্পে তেল দেওয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে মজিবুর রহমান আরো বলেন, অর্থের বিনিময়ে সিরিয়াল ছাড়া তেল প্রদান এমন অভিযোগ নেই। আর তাছাড়া আমরা এভাবে কখনো তেল দেই নি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। এখন সরকার যদি জনগণের ভোগান্তি কমাতে কোন সিদ্ধান্ত না নেয় সেক্ষেত্রে আমাদের তেমন কিছুই করার নেই। দীর্ঘদিন পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে ভোগান্তি আরো অনেক বাড়বে। যদি তেলের সরবরাহ না বাড়ানো হয়, তাহলে আমাদেরও পাম্প বন্ধ রাখতে হবে।
এই পাম্পের কর্মীরাও একই সুরে কথা বলেন। তাদের ভাষ্য, আগের তুলনায় গ্রাহকের চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। “সকাল থেকেই লাইন শুরু হয়ে যায়, অনেক সময় গভীর রাত পর্যন্ত থাকে। আমরা চেষ্টা করি সবাইকে সেবা দিতে, কিন্তু সরবরাহ শেষ হয়ে গেলে কিছু করার থাকে না,” বলেন এক কর্মী।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা বা সরবরাহ পরিস্থিতির পরিবর্তন সরাসরি ও তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় বাজারে প্রতিফলিত হয় না। বাংলাদেশে ব্যবহৃত প্রধান জ্বালানিগুলোর মধ্যে রয়েছে অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল ও কেরোসিন। এর বড় অংশই আমদানিনির্ভর, যা সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ; এই পথ স্বাভাবিক থাকলে সরবরাহ চেইন স্থিতিশীল থাকে, আর কোনো বিঘ্ন ঘটলে তার প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক বাজারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বস্তি ফিরলেও তা দেশে পৌঁছাতে সময় লাগে—আমদানি, পরিশোধন, সংরক্ষণ ও বিতরণের একাধিক ধাপ অতিক্রম করে তবেই খুচরা পর্যায়ে আসে জ্বালানি।
এদিকে, পাম্প ঘিরে দীর্ঘ লাইনের কারণে সড়কে যানজটও তীব্র আকার ধারণ করছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সড়কের পাশে অবস্থিত পাম্পগুলোতে যানবাহনের সারি মূল সড়কে ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী এমনকি জরুরি সেবার যানবাহনও বাধার মুখে পড়ছে। নগর ব্যবস্থাপনায় এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে প্রতিদিন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। সরবরাহ বৃদ্ধি, সুষ্ঠু বণ্টন ব্যবস্থাপনা এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের দিকে নজর দেওয়ার পাশাপাশি, সংকটকালে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থাও জরুরি। একইসঙ্গে, চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে না পারলে এ ধরনের ভোগান্তি আরো দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
শেষ পর্যন্ত, পেট্রোল পাম্পের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর ক্লান্ত চোখ আর দীর্ঘশ্বাস যেন একটি বড় প্রশ্নই ছুড়ে দেয়—জ্বালানি কি শুধু অর্থনীতির চালিকাশক্তি, নাকি মানুষের দৈনন্দিন বেঁচে থাকারও অবিচ্ছেদ্য অংশ? অপেক্ষার এই সারি শুধু তেলের জন্য নয়, বরং স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যাশারও প্রতীক। যত দ্রুত এই সংকট কাটবে, তত দ্রুতই স্বস্তি ফিরবে সাধারণ মানুষের জীবনে—এমন আশাই এখন সবার।
এদিকে দেশে জ্বালানি তেলের বাজারে সৃষ্ট অস্বাভাবিক চাপ সামাল দিতে সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলে বাড়তি বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। অকটেনের সরবরাহ ২০ শতাংশ, পেট্রোল ও ডিজেল ১০ শতাংশ করে বাড়ানো হবে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি চাহিদা তৈরি হয়েছে। অথচ সরবরাহ এতদিন দেওয়া হচ্ছিল গত বছরের গড় হিসেবে। ফলে বাড়তি চাহিদা পূরণ না হওয়ায় বাজারে সংকট তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে এখন জেলা প্রশাসনের সহায়তায় পাম্পভিত্তিক নতুন বরাদ্দ নির্ধারণ করা হচ্ছে, যাতে প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।
দেশের মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল।
চলতি এপ্রিলে ডিজেলের চাহিদা প্রায় চার লাখ টন। বর্তমানে কার্যকর মজুত রয়েছে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার টন। এর সঙ্গে আরও চারটি জাহাজে এক লাখ টনের বেশি ডিজেল যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য আলাদা করে প্রায় ৮০ হাজার টন মজুত রাখা আছে। সরবরাহ সীমিত থাকায় এ মাসে দৈনিক গড় বিক্রি কমে ১১ হাজার ১০৭ টনে নেমে এলেও আজ থেকে তা বাড়িয়ে প্রায় ১৩ হাজার টনে উন্নীত করা হচ্ছে। গত বছরের একই সময়ে দৈনিক গড় বিক্রি ছিল ১১ হাজার ৮৬২ টন। অকটেনের ক্ষেত্রে সরাসরি ঘাটতি না থাকলেও চাহিদার চাপ বেশি। বর্তমানে দেশে প্রায় ২৯ হাজার ৪৮৪ টন অকটেন মজুত রয়েছে, যা প্রায় ২৫ দিনের চাহিদা পূরণে সক্ষম।
তবুও ভোক্তা পর্যায়ে চাপ কমাতে দৈনিক সরবরাহ ১ হাজার ১২৯ টন থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১ হাজার ৩৬৬ টনে নেওয়া হচ্ছে, অর্থাৎ অতিরিক্ত ২৩৭ টন যোগ করা হচ্ছে। গত বছরের এপ্রিলে দৈনিক গড় বিক্রি ছিল ১ হাজার ১১৮৫ টন। পেট্রলের ক্ষেত্রেও সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে মজুত রয়েছে প্রায় ১৮ হাজার ৮৩০ টন। এপ্রিলে দৈনিক গড়ে ১ হাজার ২৫৩ টন বিক্রি হলেও এতে আরও ১৩৭ টন যুক্ত করা হচ্ছে। গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩৭৪ টন।
জ্বালানি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, স্বাভাবিকভাবে বছরে চাহিদা ৪ থেকে ৫ শতাংশ বাড়ে। কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও আতঙ্কজনিত অতিরিক্ত কেনাকাটার কারণে এবার চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। তাই বাস্তব চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ বাড়িয়ে বাজার স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









