বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

ঘোষণার আগেই বেড়েছে বাসবাড়া

প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৩ এএম

আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৩ এএম

ঘোষণার আগেই বেড়েছে বাসবাড়া

দেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটকে কেন্দ্র করে গণপরিবহন খাতে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। একদিকে পরিবহন মালিকরা বাস ভাড়া বাড়ানোর দাবি জোরালো করছেন, অন্যদিকে সড়কে বাসের সংখ্যা কমে যাওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ঢাকার সড়কে ভোরের তাড়াহুড়োয় অফিসগামী মানুষের সময়মতো পৌঁছানোর চাপ, কাঁধে ব্যাগ— ঠিক সে মুহূর্তে বাসে উঠেই বাড়তি ভাড়ার মুখোমুখি হতে হচ্ছে যাত্রীদের। সরকারের কোনো ঘোষণা আসার আগেই ৫ থেকে ২০ টাকা বেশি ভাড়া দাবি করছেন কন্ডাক্টর, আর তা নিয়েই প্রতিটি বাসে শুরু হচ্ছে বাগবিতণ্ডা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এসএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, যা রাজধানীর যানজট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

জানা গেছে, বৈশ্বিক সংকটের কারণে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই রাজধানীর বিভিন্ন রুটে বৃদ্ধি করা হয়েছে বাসভাড়া। তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির সেই চাপ গিয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের কাঁধে; যেখানে প্রতিদিনের যাতায়াতই হয়ে উঠছে বাড়তি দুশ্চিন্তার কারণ।

বাস মালিকদের দাবি, জ্বালানি সংগ্রহে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হওয়ায় অনেক বাস নিয়মিত সড়কে নামতে পারছে না। ফলে রাজধানীতে গণপরিবহনের সংখ্যা কমে গেছে উল্লেখযোগ্য হারে। বিশেষ করে পিক আওয়ারে এই সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে। যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে, আর যেসব বাস চলছে সেগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হচ্ছে।  রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড ও জাপান গার্ডেন সিটি, উত্তরার আজমপুর, মিরপুর-১০, ফার্মগেট ও গুলিস্তান এলাকায় দেখা গেছে, বাসের জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন। অনেকেই আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও বাসে উঠতে পারছেন না। অফিসগামীদের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরাও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এক বেসরকারি চাকরিজীবী শারমিন আক্তার বলেন, প্রতিদিন বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। বাস পেলেও ওঠা যায় না। আবার শুনছি ভাড়া বাড়ানোর কথা ,  এটা আমাদের জন্য নতুন চাপ তৈরি করবে।

গতকাল মঙ্গলবার অধিকাংশ রুটেই যাত্রীপ্রতি অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত। কোথাও কোথাও এই বৃদ্ধি আরও বেশি। আগে যেখানে ভাড়া ছিল ২০ টাকা, সেখানে এখন নেওয়া হচ্ছে ৩০ টাকা পর্যন্ত। আবার পাওয়া গেছে ৬০ টাকার ভাড়া বেড়ে ৮০ টাকা নেওয়ার অভিযোগও। কারওয়ান বাজার থেকে মিরপুরগামী যাত্রী খাদিজা আক্তার জানালেন, প্রতিদিন একই ভাড়ায় যাতায়াত করলেও আজ হঠাৎ নেওয়া হয়েছে ১০ টাকা বেশি ভাড়া। একই অভিযোগ আগারগাঁও থেকে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারগামী আলিফ পরিবহনের যাত্রী তানজিল হোসেনের। বললেন, এই রুটে আগে ৫০ টাকা ভাড়া ছিল, আজ ৬০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। ভাড়া বেশি নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে বাসের কন্ডাক্টর তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাত দিয়ে বলছেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে আগের ভাড়ায় গাড়ি চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

সদরঘাট-মহাখালী-আব্দুল্লাহপুর রুটে চলাচলকারী আজমেরী পরিবহনে গুলিস্তান থেকে মহাখালী ২০ টাকার ভাড়া এখন নেওয়া হচ্ছে ৩০ টাকা। যাত্রী আনোয়ার হোসেনের ভাষ্য, তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে বাড়ানো হয়েছে ভাড়া। দ্রুত নতুন ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে সরকারকে। গাবতলী-যাত্রাবাড়ী রুটের যাত্রী মো. মাহবুব অভিযোগ করলেন, আগে ১৫ টাকা ভাড়া দিতাম, আজ ২৫ টাকা দিতে হয়েছে। এটি একেবারেই অযৌক্তিক। আজিমপুর থেকে টেকনিক্যালগামী মেট্রো পরিবহনের যাত্রী আজিজুল হক জানিয়েছেন, আগে আজিমপুর থেকে মিরপুর-১-এর ভাড়া ছিল ২৫ টাকা, আজ ৩৫ টাকা নেওয়া হয়েছে। সরকার বাসভাড়া নির্ধারণ না করলেও পরিবহন শ্রমিকরা ইচ্ছাকৃতভাবে ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় বাসের কন্ডাক্টর আনিসুরের কাছে। তিনি বললেন, দুদিন আগে তেলের দাম বেড়েছে, তাই ভাড়াও বাড়ানো হয়েছে। লোকসান দিয়ে তো গাড়ি চালানো সম্ভব নয়। তবে সরকারিভাবে ভাড়া নির্ধারণের আগেই কেন বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে— এ প্রশ্নের জবাব দেননি তিনি। এদিকে একই কারণ দেখিয়ে শিকড় পরিবহনের কন্ডাক্টর রানার দাবি, গত দুদিন লোকসান দিয়ে গাড়ি চালিয়েছেন। তাই বাধ্য হয়ে ভাড়া ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

রাজধানি থেকে দূরপাল্লার বাসে ভাড়া বৃদ্ধির ব্যাপারে কোন চিন্তাভাবনা আছে কি না এ ব্যাপারে উত্তর বঙ্গের পরিবহণ কোম্পানি এস আর ট্রাভেলস লিমিটেড এর এ জি এম প্লাবন বলেন, ভাড়া আর বৃদ্ধি করব কি আমরা ভাড়া কম নিলেও এখন যাত্রী পাচ্ছিনা যাত্রীই নাই । লোকজনের চলাচল এখন কম পাশাপাশি গরমের সময় নন এসি বাসে যাত্রী এখন কম উঠে । আবার এসি গাড়িতে যে খুব বেশি পরিমান যাত্রী তাও হচ্ছে  না। এদিকে তেলেরও একটু ক্রাইসিস আছে এজন্য বাসও কম। দূরপাল্লা বাসের ভাড়া বৃদ্ধির ব্যাপারে আমরা এখনো কোন নোটিশ পাই নি । তেলের দাম বৃদ্ধিতে আমরা ভাড়া বৃদ্ধি করি নি পূর্বের ভাড়াই চলমান রয়েছে। তবে এই যে আপনারা সাংবাদিক আপনারা লেখেন এবং বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া বা আপনাদের মাধ্যমে আমরা জানতে পারছি ১৫ পয়সা নাকি কিলো প্রতি বাড়বে তবে এখনো এটি বাস্তবায়ন হয় নি।

গত শনিবার রাতে সরকার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষণা করে জ্বালানি তেলের নতুন দাম। নতুন দামে নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩০, অকটেন ১৪০ এবং পেট্রল ১৩৫ টাকা, যা কার্যকর হয়েছে রবিবার থেকে। রাজধানীর অধিকাংশ বাস ডিজেলচালিত হওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে গণপরিবহনে। তেলের দাম বৃদ্ধির পর প্রতি কিলোমিটারে বাসভাড়া ১৫ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। অতীতে তেলের দাম কমানোর পরিপ্রেক্ষিতে যে হারে বাস ভাড়া কমানো হয়েছিল, সেই একই অনুপাতে এবার ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব সংগঠনটির। গত রবিবার যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া হয় এই প্রস্তাব। বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করে জানানো হয়, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে পুঁজি করে বাস মালিক সমিতির প্রভাবশালী নেতারা অতীতের মতো একচেটিয়া ভাড়া বৃদ্ধির পাঁয়তারা করছেন। সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেছিলেন, ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। আগের হিসাব অনুযায়ী বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৫ পয়সা বাড়তে পারে। এর বেশি বাড়ানো হলে জনরোষ তৈরি হবে। সোমবার ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা অনুষ্ঠিত হয়নি।

অন্যদিকে, পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দাবি, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে বেড়েছে পরিচালন ব্যয়। তেলের পাশাপাশি বেড়েছে যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ। তেল সংগ্রহে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার কারণে ট্রিপ কমে যাওয়ায় কমছে আয়ও। ঢাকা শহরে প্রায় ৫ হাজার বাস চলাচল করে। এ ছাড়া শহরতলিতে রয়েছে আরও কয়েক হাজার বাস। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত সরকারিভাবে ভাড়া নির্ধারণ না করলে আরও বাড়তে পারে এই অরাজকতা। যাত্রীদের দাবি, ভাড়া বাড়াতে হলে তা নির্ধারণ করতে হবে যৌক্তিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাস মালিকরা প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া অন্তত ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। বর্তমানে রাজধানীতে প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া গড়ে ২ টাকা ১৫ পয়সা নির্ধারিত থাকলেও মালিকপক্ষ তা বাড়িয়ে ২ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ২ টাকা ৮০ পয়সা করার দাবি তুলেছে। মিনিবাসের ক্ষেত্রে এই হার ২ টাকা ৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ২ টাকা ৫০ পয়সা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দূরপাল্লার পরিবহন মালিকরাও সিটপ্রতি ভাড়া ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

তবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সূত্রে জানা গেছে, এখনই ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, জ্বালানি তেলের মূল্য, পরিচালন ব্যয় এবং যাত্রীসেবার মান, সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিআরটিএর এক কর্মকর্তা জানান, বাস ভাড়া বাড়ানোর আগে আমরা সেবার মান, বাসের প্রাপ্যতা এবং জনদুর্ভোগের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। প্রয়োজন হলে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে পরিবহন ভাড়া যৌক্তিকভাবে নির্ধারিত হবে। সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এ কথা বলেন। যানবাহনের ভাড়া নিয়ে একটা সংকট হচ্ছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, যেহেতু জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে, তাই এখন জ্বালানির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির আলোচনা চলছে। আমরা আশা করি এটা যৌক্তিকভাবে হবে। এটা নিয়ে আলোচনা চলছে সরকারের সঙ্গে। জটিলতা নিরসনে প্রয়োজনে এসি বাসের ভাড়া দুই বা তিন স্তরে নির্ধারণ করা হবে এবং আসন্ন ঈদে সেটা কার্যকর করা হবে। ঢাকার বাস টার্মিনালগুলোর পরিবেশ মানোন্নয়নে বিশেষ করে টয়লেট ব্যবস্থাপনায় সিটি করপোরেশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সেটার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ভাড়া শুধু বাস না, আসলে জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর বেশি প্রভাব পড়বে ট্রাকের ভাড়ায়। সরকারের কাজ কিন্তু শুধু জনগণ বলতে যাদেরকে বুঝি ভোক্তার স্বার্থরক্ষা না, একটা কথা মনে রাখতে হবে। একটা সরকার কিন্তু ব্যবসায়ীদেরও সরকার। যে মানুষটা বাস চালান, যে মানুষটা ট্রাক চালান তিনিও এই রাষ্ট্রের নাগরিক, এই সরকার কিন্তু তাদেরও সরকার। সুতরাং তাদের ওপরও এমন কিছু করা ঠিক হবে না যাতে তারা ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল আলম বলেন, যদি আমরা অতীত অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করি তাহলে যা ভাড়া যৌক্তিক ও ন্যায্য তার থেকে বেশি বাড়ানো হবে। এসবের উপড়ে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নাই। এসব প্রতিষ্ঠান এ ব্যবসায়ীদের দখলে, ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে।

এসএসসি পরীক্ষা ও যানজটের বাড়তি চাপ
বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে চলমান এসএসসি পরীক্ষা। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক পরীক্ষা কেন্দ্রে যাতায়াত করছেন। অনেক ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে একাধিক অভিভাবক ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করছেন, যা রাজধানীর সড়কে যানবাহনের সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ঢাকার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ কেন্দ্রের আশপাশে দেখা গেছে তীব্র যানজট। পরীক্ষা শুরুর আগে এবং শেষে সড়কে গাড়ির চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যাচ্ছে, ফলে সাধারণ যাত্রীদের চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের এক অভিভাবক শফিক রহমান বলেন, গণপরিবহনের অবস্থা ভালো না, তাই বাধ্য হয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করছি। কিন্তু এতে জ্যাম আরও বাড়ছে এটা আমরা নিজেরাও বুঝতে পারছি। কিন্তু ঢাকার পাবলিক ও লোকাল বাস গুলিতে যেভাবে সময় অপচয় হয় এরফলে স্কুল কলেজ বা অফিসে সঠিক সময়ে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

সাধারণ মানুষকে গনপরিবহনে চলাচল অভ্যস্থ করতে হলে আগে প্রশাসন ও এই খাতে   সংশ্লিষ্টদের পরিবহন সেবার দিকে নজর দিতে হবে। ঢাকা শহরের গণপরিবহনের বেশিরভাগ বাসের ড্রাইভার হেল্পাররা নিজেদের  ইচ্ছেমতো বাস চালায়, যত্রতত্র বাস দার করিয়ে যাতড়ি উঠা নামা করায়, সময়ের কোন তোয়াক্কা করে না । কোন নিয়ম শৃঙ্খলা ও সময়ের কোন বাধাধরা নিয়ম না থাকায় অনেকেই গণপরিবহন এড়িয়ে পাঠাও , উবার, সিএনজি এবং সামর্থ্যবানরা নিজস্ব প্রায়ভেটকারে চলাচল করছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংকট নিরসনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা চালুর দিকে এগোতে হবে। এতে শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালু করা গেলে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমবে, জ্বালানি খরচ কমবে এবং যানজটও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, রাজধানীর মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থাপনা ছাড়া এ ধরনের সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।

জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, গণপরিবহনের সংখ্যা বাড়ানো এবং পরিকল্পিতভাবে শিক্ষার্থী পরিবহন চালু করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।বর্তমান বাস্তবতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। প্রতিদিনের যাতায়াতে সময়, শ্রম ও অর্থ—সবদিক থেকেই বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী। পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার, মালিকপক্ষ ও যাত্রী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি টেকসই সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি। অন্যথায় জ্বালানি সংকট ও পরিবহন বিশৃঙ্খলার এই দ্বৈত চাপ রাজধানীর জনজীবনকে আরও বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে।

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.