বেশ হইচই করে গত ১ এপ্রিল থেকে ঢাকার সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে শুরু করেছিল ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও দুই সিটি করপোরেশন। টানা পাঁচ দিন চলে এই অভিযান। এই কদিন ঢাকার রমনা, লালবাগ, মতিঝিল, ওয়ারী, তেজগাঁও, মিরপুর ও উত্তরা বিভাগের গুলিস্তান, কাপ্তানবাজার, ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড, বকশীবাজার, চানখাঁরপুল, ঢাকা মেডিকেল, বংশাল, মতিঝিল, নিউ মার্কেট, সায়েন্স ল্যাব, পান্থপথ, গ্রিন রোড, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ভাষানটেক, উত্তরা, গুলশান-১, মহাখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় চলে অভিযান। যার উদ্দেশ্য ছিল পথচারীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করা এবং যানজট কমানো।
অভিযানে সড়ক ও ফুটপাত অবৈধভাবে দখল করে রাখায় একাধিক প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক জরিমানা, এমনকি কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বেশ কয়েকটি স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে হকারদের বাগবিতণ্ডাও হয়। যার জের ধরে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আটক করা হয় বেশ কয়েকজনকে। অবশ্য এই হইচই-ই সার, কারণ পুলিশ আর প্রশাসনের সদস্যরা চলে যাওয়ার পরপরই আগের রূপে ফিরে এসব জায়গা।
সকালে উচ্ছেদ করে যাওয়া ফুটপাত, বিকেল হতে না হতেই ফের দখল হয়ে যায়। বরং উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে পুলিশ ও হকারদের মধ্যে চলে এক ধরনের চোর-পুলিশ খেলা। ফলে পথচারীরা স্বস্তি তো পাননি, উল্টো কিছুক্ষণের জন্য এলাকা জুড়ে তৈরি হয় এক ধরনের ভোগান্তি আর ভীতিকর পরিবেশ। এই ধরনের উচ্ছেদ অভিযান ঢাকাবাসীর জন্য নতুন নয়। মাঝে মাঝেই পুলিশ-প্রশাসন অভিযান চালায়। আর তা শেষ হতেই হকাররা ফের বসে যান আগের মতোই।
সরেজমিন দেখা গেছে, গত ১ এপ্রিল থেকে ডিএমপি ও ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ফুটপাথ উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে। এতে নগরবাসীর জন্য যে স্বস্তির সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল তা উবে গেছে। রাজধানীর নিউমার্কেট, মতিঝিল, বায়তুল মোকাররম, সায়েদাবাদ, ধোলাইখাল, ফার্মগেট এলাকার ইন্দিরা রোড, গ্রিনরোড, আনন্দ সিনেমা হল, পান্থপথ, কারওয়ান বাজার, আগারগাঁওয়ের পাসপোর্ট অফিস, সমাজসেবা অধিদফতর, পরিবেশ অধিদফতরের সামনের অংশ, গুলশান, বনানী, মিরপুর ও উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় সমন্বিতভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সরিয়ে দেওয়া হয় সড়ক ও ফুটপাথ দখল করে থাকা অস্থায়ী দোকানগুলো। কিন্তু সকালে উচ্ছেদ করার পর বিকালেই সেখানে আবার হকাররা পসরা নিয়ে বসেন। বর্তমানে রাজধানীর অধিকাংশ এলাকায় ফুটপাথের বড় অংশজুড়ে আবারও বসেছে ভ্রাম্যমাণ দোকান।
কাগজে-কলমে গত ৫ এপ্রিল এই অভিযান শেষ হওয়ার দুই সপ্তাহ পর রাজধানীর গুলিস্তান, মতিঝিল, গ্রিন রোড, পান্থপথ, কারওয়ান বাজার, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, মিরপুর ১০, পল্লবীসহ বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখা গেল, উচ্ছেদের কোনো চিহ্নই নেই। আগের মতোই সড়ক আর চলার পথ দখল করে দোকান বসিয়েছেন হকাররা। পুরোদমে চলছে বিকিকিনি। গ্রিন রোডের ফুটপাতে ফল বিক্রি করছিলেন মো. আব্দুর রহমান। আগের মতোই বিক্রিবাট্টা শুরু করলেও কিছুটা ভয়ে রয়েছেন বলে জানালেন তিনি।
তিনি বলেন, ৪ এপ্রিলের অভিযানে দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছিল। কিন্তু পেটের দায়ে আবারও বসেছি। এখন ভয় লাগে। ভয়ে ভালোভাবে দোকানও করতে পারছি না। শুধু গ্রিন রোড নয়, পান্থপথ থেকে শুরু করে সেন্ট্রাল রোড পর্যন্ত সড়কটির দুপাশেই দেখা মিলল আগের মতোই দৃশ্য। দুই ধারে ফলের দোকান, ভাসমান খাবারের হোটেল, চায়ের দোকানসহ নানা সামগ্রীর পসরা নিয়ে বসেছেন ক্ষুদ্র ও ভাসমান ব্যবসায়ীরা। চোখেমুখে বিরক্তি নিয়ে ফুটপাত ধরে হাঁটছিলেন সাইফুল ইসলাম নামে এক পথচারী। তার সাথে কথা বলে জানতে চাইলে তিনি বিরক্তির কারণ জানিয়ে বলেন, এসব অভিযান লোক দেখানো।
তিনি বললেন, উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে হাঁটতে হচ্ছে সড়কে। ফুটপাত দখল করে রেখেছেন হকাররা এবং রাস্তা দিয়ে যে হাঁটব সেটার উপায় নেই। সড়কে রয়েছে অটোরিকশার অবাধ বিচরণ। ফলে যেকোনো সময় একটা দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। আর দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় কে নেবে, সে প্রশ্নও রাখেন তিনি।
গতকাল সরেজমিন দেখা গেছে, গুলিস্তানের গোলাপশাহ মাজার থেকে আবরার ফাহাদ এভিনিউ সড়কের উভয় পাশের ফুটপাত দখল করে দোকান বসিয়েছে হকাররা। ফুটপাতের একপাশে চৌকি বসিয়ে পসরা সাজানো হয়েছে। আর মূল সড়কের ওপর ঝুড়ি ও ভ্যান বসিয়ে চলছে ফল বিক্রি। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের রমনা ভবন মার্কেটের সামনের সড়কের ফুটপাত দখলের পাশাপাশি মূল সড়কেও বসানো হয়েছে দোকান। গোলাপশাহ মাজার এলাকার অবস্থা আরও শোচনীয়। এখানে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে প্রবেশের সরুপথ ছাড়া পুরো প্রাঙ্গণ হকারদের দখলে। টিসিবির আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে সড়কের ৮০ শতাংশ দখল করে আছে হকাররা।
কেউ বসেছে ফলের দোকান নিয়ে, কেউ নিয়ে বসেছে কাপড় ও জুতা। স্টেডিয়াম রোড থেকে মাজার রোডে যেসব গাড়ি আসছে, সেগুলোকে আসতে হচ্ছে সড়কের একপাশ দিয়ে। বাকি রাস্তা হকারদের দখলে। মূল সড়কে ঘোড়ার গাড়ি, মিনিবাস, বড় বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলা হচ্ছে। রবিউল নামে এক হকার কাবলেন, সবকিছু ম্যানেজ করেই এখানে বসেছি। এখানে না বসলে কোথায় বসব? জায়গা বের করে দেন। বেলাল হোসেন নামের আরেক হকার বলেন, আমরা রাস্তার পাশেই বসেছি। যারা মাঝে বসেছে, তাদের তুলে দিন। তাদের জন্যই পরে আমাদের সমস্যা হয়।
মিরপুর ১০ নম্বর মেট্রো স্টেশনের নিচ থেকে শুরু করে পল্লবী পর্যন্তও দেখা মিলেছে একই দৃশ্যের। সড়কটির দুপাশে কাঠের মাচা বসিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে কাপড়। দেখলে মনে হবে, ফুটপাত নয়, যেন কাপড়ের বাজার। শার্ট, গেঞ্জি, প্যান্ট থেকে শুরু করে কী নেই সেখানে! আরও আছে বাদামের দোকান, শরবতের দোকান, শসা-গাজরের দোকানসহ হরেক পণ্যের পসরা। মিরপুর-১১-এর ফুটপাত ছেড়ে সড়ক দিয়ে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন শোহনাজ শারমীন নামের এক নারী। তার কাছে প্রশ্ন রাখি, সড়ক দিয়ে কেন হাঁটছেন? প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান তিনি। বললেন, ওপর দিয়ে হাঁটার কোনো অবস্থা আছে? পুরোটা ফুটপাত দখল হয়ে আছে। তাই বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটছি।
রাজধানীর ফার্মগেটের ইন্দিরা রোডের ফুটপাথজুড়ে সারি সারি দোকান। নানা পণ্যের সমাহারে সেজেছে রং-বেরঙের দোকানগুলো। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য থেকে শুরু করে সবকিছুই আছে। আর চলার পথে এসব দোকানে ভিড় জমান ফুটপাথ ধরে হেঁটে চলা পথচারীরা। এতে যানবাহনসহ সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ঘটলে দ্রুত ভেঙে ফেলা হয় টং দোকান, ভ্রাম্যমাণ স্টল ও অন্যান্য অবৈধ স্থাপনা। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চলে গেলেই ফের দখল করে নেওয়া হয় ফুটপাথ আর রাস্তার অংশভাগ। অর্থাৎ ফুটপাথে নগরবাসীর ভোগান্তি কোনোভাবেই শেষ হচ্ছে না।
ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করার বিষয়ে কথা বলতে চাইলে অধিকাংশ হকারই কথা বলতে রাজি হননি। তাদের ভাষ্য, এভাবে ব্যবসা করা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই। জীবিকার তাগিদে অনেকটা বাধ্য হয়েই দোকান বসিয়েছেন। তাদের জন্য যদি সরকারের পক্ষ থেকে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা করে দেওয়া হয় তাহলে তারা আর এ সড়কে বসবেন না।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঘোষণা দিয়ে আমাদের উচ্ছেদ করেছে সরকার। সরিয়ে দিয়েছে দোকানপাট। কিন্তু আমাদের পুনর্বাসনে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রক্রিয়া শুরু করেনি। ফলে বাধ্য হয়ে আমরা দোকান খুলেছি। তারা মনে করেন বিগত সময়ের মতো রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় তারা আবার পুরোদমে ফুটপাতের ব্যবসায় ফিরতে চায়। ইতোমধ্যেই তাদের এমন সিগন্যালও দেওয়া হচ্ছে উচ্চমহল থেকে। সে কারণে পুলিশের নির্দেশনা উপেক্ষা করে রাস্তায় ফিরতে শুরু করেছেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন হকার বলেন, ফুটপাথ দখলমুক্ত করার ক্ষেত্রে কার্যকর পরিকল্পনা, কঠোর বাস্তবায়ন ও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর করে। এই উচ্ছেদ অভিযান মনে হয় শুধুই লোক দেখানো। কারণ আমরা যতটুকু জানি ফুটপাথগুলো স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের দখলে থাকে। সে কারণে কি কাউকে সুযোগ করে দিতে এই উচ্ছেদ অভিযান। আর যদি তাই না হয়, তা হলে আবার তারা নতুন করে ফুটপাথ দখল নেয় কী করে?
বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী বলেন, যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে তারাই হকারদের উচ্ছেদের অভিযান চালায়। এভাবে উচ্ছেদের মাধ্যমে তারা বাণিজ্যের পরিবেশ তৈরি করে। টাকার মাধ্যমে নতুন নতুন হকারদের বসিয়ে দেয়। এই কার্যক্রম করার জন্য বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল সক্রিয় রয়েছে। তারা সবকিছু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়। এজন্য উচ্ছেদ অভিযান করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানী ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। আবারও ফুটপাথগুলো দখলে চলে যায় হকারদের। এখানে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় পুনরায় বসার সুযোগ পান হকার ও অবৈধ দখলদাররা। এর প্রধান কারণ পরিকল্পনার অভাব, রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্বল তদারকি। শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন একটি সমন্বিত পরিকল্পনা, যেখানে হকারদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি ফুটপাথ ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকতে হবে। একই সঙ্গে রয়েছেন কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি। তাদের মদদে ফুটপাথ দখল আবার ফিরে আসে। হকারদের কাছ থেকে তাদের নিয়মিত চাঁদা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এতে উচ্ছেদ অভিযান কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এই উচ্ছেদ অভিযানের লক্ষ্য ফুটপাথ ও সড়ক দখলমুক্ত করা, যানজট কমানো এবং পথচারীদের চলাচল স্বাভাবিক রাখা। এই উদ্যোগের ফলে এলাকাগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। দীর্ঘদিনের দখলদারিত্বের অবসান ঘটবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। অভিযান শেষ হতে না হতেই আবারো ফুটপাথ ও সড়কের পাশে বসতে শুরু করে হকাররা। উচ্ছেদের পরপরই ধীরে ধীরে হকারদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, নগরবাসীর জন্য একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে ডিএসসিসি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ফুটপাথ দখলকারীদের উচ্ছেদ অভিযান চলমান রয়েছে। আমরা সমন্বিতভাবে এই অভিযান চালিয়ে যাবো। পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফুটপাথ দখলমুক্ত করা হবে। যেসব এলাকায় অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে, তারা পুনরায় বসলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব। একই সঙ্গে হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও আমরা সমন্বিতভাবে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফুটপাথ দখলমুক্ত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ঢাকার সড়কে দুর্ঘটনায় নিহতদের অর্ধেকেরও বেশি পথচারী। তাই পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফুটপাথ দখলমুক্ত করার কাজ শুরু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা পেলে দ্রুত সময়ে নগরবাসীর জন্য নিরাপদ চলাচলের পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।
ফুটপাতগুলো ফের দখল হয়ে যাওয়ার বিষয়ে কথা বলি ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিনের সঙ্গে। তার মতে, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একক প্রচেষ্টায় এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়; এর জন্য সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আমরা একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছি এবং নিয়মিত মনিটরিংও করছি। সড়ক ও ফুটপাত দখল করা একটি অপরাধ। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, একই অপরাধ বারবার ঘটছে। উচ্ছেদের পর কিছু সময়ের মধ্যেই আবারও দখল হয়ে যাচ্ছে ফুটপাত। বিকল্প কোনো জায়গা না থাকায়, ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা জীবিকার তাগিদে ফের ফুটপাতে বসছেন বলে মনে করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। তাই শুধু উচ্ছেদ নয়, পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বললেন তিনি। সরকার যদি সরাসরি উচ্ছেদ করে দেয়, তাহলে তাদের জীবিকা কীভাবে চলবে— সেটাও ভাবতে হবে। নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ করে হকারদের সেখানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা গেলে সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে, এমন মত দেন এন এম নাসিরুদ্দিন।
উল্লেখ্য, ভ্রাম্যমাণ এসব হকারদের পুনর্বাসনে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে চালু করা হয়েছিল হলিডে মার্কেট। সে সময় ঢাকার পাঁচটি নির্দিষ্ট স্থানে ছুটির দিনে হকারদের বসার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছিল। পরে অবশ্য তা আর চালু থাকেনি। এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১৭ সালে চালু হয় হলিডে মার্কেট। মূলত হকারদের ব্যবসাকে সুনির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে ফেরাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এরপর প্রতি সপ্তাহের শুক্র ও শনিবার কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে এসব মার্কেট বসতে শুরু করে। যার মধ্যে, মতিঝিল ও আগারগাঁওয়ের মার্কেট এখনো চালু রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









