নারায়ণগঞ্জে উৎসবমুখর ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা পালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) দুপুরে শহরের বিভিন্ন মন্দির থেকে রথযাত্রা বের হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে নিজ নিজ মন্দিরে ফিরে যায়।
এ সময় হাজারো ভক্ত-পুণ্যার্থীর উপস্থিতিতে পুরো শহর উৎসবের আবহে মুখরিত হয়ে ওঠে। রথযাত্রা উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে শহরের মিশনপাড়ায় একটি অভ্যর্থনা মঞ্চ নির্মাণ করা হয়। সেখান থেকেই পুরো কর্মসূচির সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি পূজা উদযাপন পরিষদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক ও কর্মীবাহিনী রথযাত্রার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেন। অভ্যর্থনা মঞ্চে উপস্থিত অতিথিরা দাঁড়িয়ে দুই হাত নেড়ে রথযাত্রায় অংশ নেওয়া ভক্ত-পুণ্যার্থীদের শুভেচ্ছা জানান এবং উৎসবের আনন্দে শামিল হন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনডিএ) চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজিব, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রায়হান কবির, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সুরা সদস্য মাওলানা মঈন উদ্দিন আহমেদ,লাঙ্গলবন্দ স্নান উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি সরোজ সাহা।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুশীল দাস, জেলা সহ-সভাপতি তিলোত্তমা দাস ও প্রদীপ সরকার, মহানগর সহ-সভাপতি সাংবাদিক উত্তম সাহা, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শিশির ঘোষ অমর, মহানগর সহ-সভাপতি রতন রাউত, যুগ্ম সম্পাদক শংকর কুমার সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষা আচার্যসহ জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ এবং হিন্দু সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
শিখন সরকার শিপন বলেন, ‘‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—এই চেতনাকে ধারণ করেই আজ দেশের বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ ও রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ এক মঞ্চে একত্রিত হয়েছেন। এটি প্রমাণ করে বৈষম্যহীন বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতির কোনো বিকল্প নেই। আমরা চাই ভবিষ্যতেও সবাই মিলেমিশে সম্প্রীতির বন্ধনে একসঙ্গে বসবাস করি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে এবারের রথযাত্রা উৎসব সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ধর্মীয় সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে নগরবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









