# অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুদ তেল বিক্রি শুরু
# ‘ফুয়েল পাস’অ্যাপে কমছে ভোগান্তি
# বেড়েছে আগের চেয়ে সরবরাহ
অবশেষে রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফুয়েল স্টেশনে কমেছে জ্বালানি তেলের দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি । নেই সেই আগের মতো গাড়ি কিংবা মোটরসাইকেলের পরিচিত সারি সারি লাইন। জ্বালানি তেল সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে ফিরছে স্বস্তি । ‘ফুয়েল পাস’অ্যাপে নিবন্ধনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল বিক্রি চালু হওয়ায় শৃঙ্খলা ফিরছে রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে। ভোগান্তি পুরোপুরি না কমলেও আগের তুলনায় অনেকটাই স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দুই দিন আগেও যেখানে ছিল উপচে পড়া ভীর, এখন সেখানে দেখা যাচ্ছে তার বিপরীত চিত্র।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তেল সংগ্রহে এখনো লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে গ্রাহকদের, তবে সেই সারি আগের চেয়ে তুলনামূলক ছোট। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন ফুয়েল পাম্প স্টেশন ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র। টানা দুইমাস পর এমন স্বস্তির নিশ্বাসে গ্রাহকরা বলছেন, ‘ফুয়েল পাশ’ অ্যাপে নিবন্ধনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল বিক্রি চালু হওয়ায় এই শৃঙ্খলা ফিরেছে। তবে পাম্প স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহ বেশি হওয়া ও অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুদ করা তেল বাজারে বিক্রি হওয়াই এখন পাম্পে তেমন দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি নেই।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কয়েক দিন আগেও দেশের বিভিন্ন পেট্রলপাম্পে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো সাধারণ মানুষকে। তবে এখন সেই চিত্রে কিছুটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। পাম্পগুলোতে তেল নেওয়ার লাইনের দৈর্ঘ্য এখন অনেকটাই কমে এসেছে। ফলে ভোগান্তিও তুলনামূলকভাবে হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছেন গ্রাহকরা। এই পরিবর্তনের পেছনে সরকারের নতুন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন তারা।
সরকার ইতোমধ্যে ব্যক্তিমালিকানাধীন গাড়িকে ‘ফুয়েল পাস’নিবন্ধন ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে এসেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’ সিরিজের গাড়িগুলোর জন্য এই নিবন্ধন উন্মুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সিরিজের ব্যক্তিগত গাড়িগুলোকেও এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে, যাতে পুরো প্রক্রিয়াটি আরও সুশৃঙ্খল ও নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালনা করা যায়। এর আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট প্রকল্প হিসেবে) দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এই কার্যক্রম চালু করে। ঢাকা, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ—এই সাতটি অঞ্চলে মোটরসাইকেলের জন্য ‘ফুয়েল পাস বিডি’ অ্যাপের ব্যবহার শুরু হয়। একইসঙ্গে রাজধানীর ১৮টি পেট্রলপাম্পে এই অ্যাপের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রম চালু করা হয়।
রাজধানীর কল্যাণপুরের সোহরাব সার্ভিস স্টেশন ও খালেক স্টেশন সার্ভিসসহ আশপাশের কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, পাম্পগুলোতে এখন তুলনামূলক স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সোহরাব সার্ভিস স্টেশনের কর্মী সোহেল রানা জানান, বর্তমানে চাহিদা স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি বলেন, সকাল থেকেই তেমন কোনো ভিড় নেই। গ্রাহকেরা প্রয়োজনীয় অকটেন ও ডিজেল সহজেই নিতে পারছেন। সকাল ১১টার দিকে এ পাম্পে কোনো মোটরসাইকেল চালককে তেল নিতে দেখা যায়নি। সে সময় প্রাইভেটকার ছিল ৭টি এবং পিকআপসহ অন্যান্য গাড়ি ছিল ৫টি। পাম্পে তেল নিতে আসা গাড়িচালক সুমন বলেন, ১০ মিনিটেই তেল নিতে পেরেছি। ডিজেল নিয়েছি। পিকআপ চালক মোহাম্মদ জুয়েল বলেন, প্রয়োজনীয় তেল এখন পাওয়া যাচ্ছে, কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
রাজধানীর শ্যামলী থেকে শুরু করে গাবতলী পর্যন্ত সকাল থেকেই তেলের জন্য দেখা যায়নি মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার কিংবা বাসের দীর্ঘ লাইন। প্রতিটি ফুয়েল পাম্পের দৃশ্য অনেকটা স্বাভাবিক। টেকনিকেল মোড়ের গাবতলী শাহনাজ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মোঃ সোহাগ মিয়া বলেন, ‘বিগত দুই দিন ধরে এই তেলের পাম্পে কোন দীর্ঘ সিরিয়াল নেই । নেই কোন ভোগান্তি সবাই পূর্বের মতোই জ্বালানী পাচ্ছে । কোন ভিড় নেই। গতকাল সাড়ে চার হজার লিটার অক্টেন নিয়ে আসছি এখন পর্যন্ত দুই হাজার লিটার বিক্রি হয়েছে। মানুষকে ডেকেও অকটেন দিতে পারছি না । অকটেন এর গ্রহক কম ।
শুধু আমার না, আমার আশেপাশে আরোও ১০/১৫ টা ফিলিং স্টেশন আছে। তাদের সবার কাছেই পর্যাপ্ত অকটেন আছে। অকটেন এর থেকে ডিজেলের চাপ একটু বেশি আছে। তবে তা স্বাভাবিক । হঠাৎ করে চাপ কমে যাওয়ার কারন প্রসঙ্গে তিনি আরোও বলেন, এখন পর্যাপ্ত সরবারহ ঠিক থাকায় এবং সব ফিলিং স্টেশন খোলা থাকায় প্রতিদিন গ্রাহকরা জ্বালানী তেল পাচ্ছেন। তাছাড়া অসাধু ব্যাবসায়ি (চোর-চোট্টা ) বা অন্য যারা তেল মজুদ করে রেখেছিল, সেগুলোর কারনেও চাপ কমে গেছে । এখন তো জ্বালানি আছে, ক্রেতাই নেই। সরকারের দেওয়া ফুয়েল কার্ড দিয়ে কি হবে বলে প্রশ্ন রাখেন তিনি। এই যেমন দুই হাজার লিটার অকটেন আছে আমার কাছে। সকাল থেকে বিক্রি করেছি মাত্র ৫০ লিটার। ক্রেতা নেই অকটেন নেয়ার। তবে ডিজেল আছে এখনো ৮ হাজার লিটার। আমরা আগে যেভাবে বিক্রি করেছি, সেভাবেই এখন বিক্রি করছি। ফলে এখন তেমন সংকট নেই। তিন দিন আগেও এক-দেড় হাজার মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার সিরিয়ালে ছিল, কিন্তু এখন একদমই ভিড় নেই।
গুলশানের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত গাড়ি চালান মো. আনিসুর রহমান। ১০ দিন আগে গাড়ির জন্য জ্বালানি তেল নিয়েছিলেন তিনি। তখন তাঁকে তেল নিতে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের একটি পাম্পে লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে ১০ ঘণ্টার মতো। আজ সোমবার বিকেলে তিনি তেল নিতে এসেছেন রাজধানীর নিকুঞ্জে নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস সেন্টার পাম্পে। তাঁর এবারের তেল নেওয়ার অভিজ্ঞতা ভিন্ন। আনিসুর রহমান বলেন, এর আগে তেল নিতে ১০ ঘণ্টার মতো সময় লেগেছিল। আমার লাইফে (জীবন) কখনো এত সময় তেলের জন্য অপেক্ষা করতে হয়নি। আজকে ভিড় কমেছে। আধা ঘণ্টার মতো হবে এসেছি, যেহেতু লাইন ছোট, ভিড় কম, মনে হচ্ছে, এখনই তেল পেয়ে যাব।
রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে এই পাম্পে তেল নিতে এসেছেন রাইডার তরিকুল ইসলাম। পাঁচ দিন আগেও তেল নিতে তাঁকে তিন ঘণ্টার মতো অপেক্ষা করতে হয়েছিল। গতকাল আধা ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েই তিনি পাম্পের কাছাকাছি পৌঁছান। তরিকুল ইসলাম বলেন, আগের তুলনায় দুর্ভোগ কিছুটা কমেছে। এখন লাইন স্বাভাবিক বলা যায়। এমন অবস্থা থাকলে আমাদের কষ্ট কিছুটা কমবে।
প্রায় একই রকম অভিজ্ঞতার কথা জানান তেল নিতে আসা শামীম আল মাহমুদ। পেশায় চিকিৎসক এই ব্যক্তি তেল নিতে এসেছেন রাজধানীর কাওলা এলাকা থেকে। তিনি বলেন, এখন মোটামুটি স্বাভাবিক। ১৫ দিন আগে তেল নিয়েছিলাম। তখন দীর্ঘ লাইন ছিল।
উত্তরার মেসার্স মাসুদ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মোঃ মাসুদ বলেন, জ্বালানী তেলের লাইনে মোটর সাইকেল একটু কম, প্রাইভেটকারের কিছুটা লাইন আছে । তবে খুব বেশি দীর্ঘ সিরিয়াল নেই। আর আমরা আজ থেকে ফুয়েল অ্যাপ ছাড়া বাইকে তেল দিচ্ছি না। তবে দু’য়েকদিনের মধ্যে গাড়ি বা প্রাইভেটকারেও সরকারকারি নিয়ম অনুযায়ী ফুয়েল অ্যাপের আওতায় চলে আসবে। সংকট কম, তবে স্বাভাবিক হতে আরো সময় লাগবে। ফুয়েল অ্যাপে সীমাবদ্ধতার কারনে এখন অনেকেই বাড়তি তেল নিতে পারছে না, যার কারনে সরবরাহকৃত জ্বালানি দিয়ে আপাতত চলছে। তবে সরবরাহ আরও বৃদ্ধি করারও দাবি করেন তিনি।
এক সপ্তাহ আগেও রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে বেশ কয়েক দিন জ্বালানি তেলের জন্য গাড়ির সারি পৌঁছেছিল জাহাঙ্গীর গেট পেরিয়ে শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গেট পর্যন্ত। গতকাল দেখা যায়, লাইন কমে এসেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পেরিয়ে বিমানবাহিনীর মেস পর্যন্ত।
এদিকে গতকাল রাজধানীর মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, আগাঁরগাও, মহাখালী ও বনানীর রাস্তার দৃশ্যের প্রেক্ষাপটও ছিলো ভিন্ন । কিছুদিন আগেও এই রুটে পাবলিক বাসগুলো জ্বালানি সংকটের কারণে কম দেখা যেত। গতকাল অনেক সড়কে থেমে থেমে যানজট সৃষ্টি হতে দেখা গেছে। গত সপ্তাহে দেখা গেছে, বাসগুলো তেলের জন্য বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে রাতভর লাইনে দাড়িয়ে ছিল। যার কারণে ফুয়েল পাম্পে দীর্ঘ সিরিয়াল থাকলেও অফিসগামি বা সাধারণ যাত্রীদের যানবাহন পেতে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। কিন্ত আজ সকালে রাজধানীর রাস্তায় দেখা গেছে বিপুল পরিমান বাস, মিনি-বাস, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন।
রাজধানীর উত্তরাতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আছেন শাহরিয়ার রহমানের। তিনি মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে প্রতিদিন বাইক চালিয়ে যাতায়াত করেন তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে । বিগত দিনের তুলনায় গত দুদিন ধরে কোন রকম সময়ের অপচয় ছাড়া ফুয়েল স্টেশনে তেল পেয়ে খুশি তিনি। শাহরিয়ার রহমান জানান, ‘আগে ভোর থেকে সাত আট ঘন্টা সিরিয়াল দিয়েও তেল পাই নি, এখন কোন রকম সিরিয়াল ছাড়া বিভিন্ন ফুয়েল স্টেশন থেকে তেল নিতে পারছি। এতে করে ব্যবসায় সময় দিতে পারছি বেশি। ব্যাবসাও ভালো হচ্ছে। কিন্তু গত দুই মাস তেলের লাইনে দাড়িয়ে ঠিকমতো ব্যবসা করতে পারিনি। এতে আয় কম হওয়ায় কর্মচারীদের বেতন, দোকান ভাড়া এবং পরিবার চালানো কষ্ট হয়েছে।
প্রাইভেটকার চালক অনুপ কুমার বলেন, ভাড়া গাড়িতে ড্রাইভিং করে সংসার চালায় । তেলের অভাবে গত দুই মাস ঠিক মতো গাড়ি চালাতে পারিনি। আয় না থাকায় সংসার চালাতে হয়েছে ঋণ করে। এতে বেড়েছে ঋণের বোঝা। অর্থ সংকটে দিশেহারা হয়ে ভেবেছিলাম পরিবার নিয়ে ঢাকা ছাড়বো । গ্রামের বাড়ি বরিশাল গিয়ে কিছু জমি বিক্রি করে মুদি দোকান দেব। কিন্তু গত দুই-তিন দিন যাবত নেই কোন তেলের লাইনের সিরিয়াল । তেলের দাম বাড়লেও খুব কম সময়ে ভোগান্তি এড়িয়ে গাড়িতে ডিজেল নিতে পারছি । আশার আলো দেখছি, হয়ত পরিবার নিয়ে ঢাকা ছাড়তে হবে না। সরকার যদি আমদের মতো মানুষের জন্য একটু ভাবত তাহলে ডাল ভাত খেয়ে বাচতে পারতাম।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উত্তেজনা শুরু হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় তাৎক্ষণিক প্রভাব পরে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী, যেই পথ দিয়ে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশের অপরিশোধিত তেল নিয়ে আসা হয়। হরমুজ প্রণালী নিয়ে শঙ্কা তৈরি হওয়ায় বাজারে অস্থিরতা বেড়ে যায়। যুদ্ধঝুঁকির কারণে ট্যাংকার চলাচলে বীমা খরচ বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা এবং বড় উৎপাদকদের রপ্তানি অনিশ্চয়তা মিলিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়। এর প্রভাব সরাসরি পড়ে বাংলাদেশে, যা মোট জ্বালানি চাহিদার বড় অংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে।
আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ডলার সংকটের চাপ আরও তীব্র এবং এলসি খোলায় জটিলতা তৈরি হয়। মাঠপর্যায়ে এর প্রতিফলন দেখা যায় জ্বালানী তেলের ফিলিং স্টেশনগুলোতে। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের দীর্ঘ লাইন, তেল সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ, সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার দৃশ্য নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়ায়। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও চাপ পড়ে। সরকার শুরুতে দাম অপরিবর্তিত রেখে ভর্তুকির মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও এতে আর্থিক চাপ বাড়তে থাকে।
জ্বালানীর অপচয় রোধ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ আনতে নজরদারি জোরদার করা হলেও মেলেনি কোন শক্তীশালী সমাধান । শেষ পর্যন্ত ১৮ এপ্রিল জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সরবরাহ কিছুটা বাড়ে এবং বাজারে ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে জ্বালানী তেলের চাপ। শুধু রাজধানী ঢাকা শহরই নয় দেশের বিভিন্ন জেলা জয়পুরহাট, নওগাঁ, রংপুর, পঞ্চগড় , দিনাজপুর থেকেও জ্বালানী তেলের জন্য ফিলিংস্টেশনগুলিতে দীর্ঘ সিরিয়ালের চাপ ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে এমনটাই তথ্য মিলেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









