মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে পিছিয়ে বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৭ মে ২০২৬, ১০:৫৪ এএম

আপডেট: ০৭ মে ২০২৬, ১০:৫৪ এএম

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে পিছিয়ে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ এখনো অত্যন্ত সীমিত, মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ। বিপরীতে বৈশ্বিক গড় প্রায় ৩৩ দশমিক ৮ শতাংশ। ফলে আন্তর্জাতিক জীবাশ্ম জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা থেকে দেশকে সুরক্ষা দেয়া কঠিন হয়ে পড়ছে বলে সতর্ক করেছে ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যানসিয়াল এনলাইসিস (আইইইএফএ)। 

সংস্থাটির সর্বশেষ গবেষণা প্রতিবেদন ‘ফস্টারিং বাংলাদেশস এনার্জি ট্রানজিশন’-এ বলা হয়েছে, গত চার বছরে দেশের প্রাথমিক জ্বালানি আমদানির নির্ভরতা ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬২ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে দামের ওঠানামা ও সরবরাহ ঝুঁকির প্রভাব সরাসরি পড়ছে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে। একই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৮৩ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধুমাত্র জ্বালানির দাম বৃদ্ধি বা টাকার অবমূল্যায়ন নয়, ব্যয়বহুল পিকিং পাওয়ার প্লান্ট, অব্যবহৃত সক্ষমতার জন্য উচ্চ ক্যাপাসিটি পেমেন্ট এবং গ্যাস সরবরাহ সংকট—এসবও বিদ্যুৎ খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেসরকারী তেল ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে উচ্চ হারে ক্যাপাসিটি পেমেন্ট দেয়ায় উৎপাদন ব্যয় আরো বেড়েছে।

আইইইএফএর প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম জানান, কম লোড ফ্যাক্টরে বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনার কারণে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে, ২৫ শতাংশের কম লোড ফ্যাক্টরে চলা গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোয় প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের খরচ ১৬ টাকা ৮৫ পয়সা, যেখানে উচ্চ লোড ফ্যাক্টরে তা মাত্র ৬ টাকা। এদিকে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) সময়ে বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে এলএনজি আমদানিতে প্রায় ১০৭ কোটি ডলার ভর্তুকি দিতে হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার অপরিহার্য। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাড়ালে আমদানীকৃত জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মাত্র ১০০ মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা যেতে পারে। এজন্য সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির ওপর আরোপিত আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া, আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপরও জোর দেয়া হয়েছে। বিবিআইএন (বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল) কাঠামোর আওতায় নেপাল ও ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানি করলে গ্যাসের ব্যবহার কমানো সম্ভব। বিশেষ করে ২০৩০ সালের পর বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিবেদনটি আরো জানায়, করপোরেট পর্যায়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ওপেন অ্যাক্সেস খরচ কমানো প্রয়োজন, যাতে শিল্পখাত—বিশেষ করে পোশাক শিল্প—তাদের পরিবেশবান্ধব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারে।

বর্তমানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৫ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে এই চাপ আরও বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তবসম্মত নীতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আমদানিনির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ ছাড়া বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা কঠিন হবে।

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.