অভাবের তাড়নায় যে কচি হাতে উঠেছিল ভ্যানের হাতল, মানবিক মানুষের ভালোবাসায় সেই হাতে এখন শোভা পাচ্ছে নতুন বই-খাতা। কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের গরুড়া গ্রামের ১০ বছর বয়সী জুনায়েদ এখন আর ভ্যান নিয়ে রাস্তায় নামে না; সে ফিরেছে তার চিরচেনা বিদ্যালয়ের আঙিনায়।
জুনায়েদের জীবনের গল্পটি ছিল চরম ট্র্যাজেডির। গত ঈদুল ফিতরের দিন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিনা চিকিৎসায় মারা যান তার বাবা হাবিবুর রহমান। এর আগেই তার মা জমানো টাকা নিয়ে ঘর ছাড়েন। বৃদ্ধ দাদা-দাদি আর ভাই-বোনের মুখে আহার তুলে দিতে প্রাগপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র জুনায়েদ বাধ্য হয়ে বাবার ভ্যান নিয়ে রাস্তায় নেমেছিল। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ১০ বছরের এই শিশুর জীবনযুদ্ধ নাড়া দিয়েছিল কোটি মানুষের হৃদয়ে। সংবাদ প্রকাশের পর দেশ-বিদেশের অসংখ্য সহৃদয় ব্যক্তি ও প্রবাসী জুনায়েদের পরিবারের পাশে দাঁড়ান।
জুনায়েদের দাদি সপা জান নেছা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “জুনায়েদ যখন ভ্যান নিয়ে বের হতো, বুকটা ফেটে যেত। খবর ছাপা হওয়ার পর অনেক মানুষ সাহায্য করেছেন। এখন আমার নাতি-নাতনিরা আবার স্কুলে যেতে পারছে, আমরা শান্তিতে দু’মুঠো খেতে পারছি।”
জুনায়েদের স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহাবুদ্দিন জানান, জুনায়েদ অত্যন্ত মেধাবী। তার অভাবের কথা শুনে শিক্ষকরা ব্যথিত ছিলেন। সে আবার ক্লাসে ফেরায় বিদ্যালয়ে স্বস্তি ও আনন্দ ফিরে এসেছে।
নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে উচ্ছ্বসিত জুনায়েদ জানায়, সে কোনোদিন ভাবেনি আবারও স্কুলে ফিরতে পারবে। অভাবের কারণে বাধ্য হয়ে ভ্যান চালালেও এখন সে পড়াশোনা করে বড় হয়ে ‘মানুষের মতো মানুষ’ হতে চায়।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, “উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছি। জুনায়েদ ও তার ভাই-বোনদের পড়াশোনা যেন আর বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকেও তাদের প্রয়োজনীয় সব সহায়তা প্রদান নিশ্চিত করা হবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









