দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর জনপদে বন্যার ক্ষত না শুকাতেই আবারো ঘনিয়ে আসছে বড় দুর্যোগের কালো মেঘ। একদিকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ, অন্যদিকে ভারতের উজান ও দেশের অভ্যন্তরে অতিভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে আগামী এক সপ্তাহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, গত কয়েক দিনে নদ-নদীর পানি কিছুটা কমলেও এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি নদী। সুনামগঞ্জের নালজুর, নেত্রকোণার সোমেশ্বরী ও মগরা নদীর পানি প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। যদিও গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা ও ধনু-বাউলাই নদীর পানি কিছুটা কমেছে, কিন্তু এই স্বস্তি স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা বর্তমানে ঘনীভূত হচ্ছে। এর প্রভাবে এবং দেশের অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া প্রবল বজ্রমেঘের কারণে আগামী ১৪ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ৭ দিনে (১১-১৮ মে) উত্তর-পূর্বাঞ্চলে স্থানভেদে ৩০০ থেকে ৩৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে।
আগামীকাল বুধবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টির তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকবে। এর ফলে সুরমা, কুশিয়ারা, ধনু-বাউলাই ও ভুগাই-কংস নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার জোরালো আশঙ্কা রয়েছে। সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোণা অঞ্চলের প্রধান প্রধান নদীগুলোর পানি বর্তমানে মৌসুমি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও নতুন এই বৃষ্টির ধাক্কায় পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। নদীগুলোর পানির সমতল বৃদ্ধি পেয়ে পুনরায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ কাজী জেবুন্নেছা জানান, “লঘুচাপটি শক্তিশালী হবে কিনা, তা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্পষ্ট হবে। তবে দেশের অভ্যন্তরে বজ্রমেঘের কারণে মঙ্গলবার থেকেই সারাদেশে বৃষ্টির মাত্রা বাড়বে।”
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির ফলে সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার নিচু জমি ও হাওর সংলগ্ন জনপদগুলো আবারও তলিয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে সিলেট ও সুনামগঞ্জের স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বৃষ্টির কারণে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। উজান থেকে আসা ঢল এবং দেশের অভ্যন্তরে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টির এই জোড়া ফলায় কৃষকের ফসল এবং জানমালের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে জনমনে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









