রাজধানীর রামপুরা এলাকার বাসিন্দা আসাদুজ্জামান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তাঁর মাসিক বেতন ৪৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে ঘরভাড়া, দুই সন্তানের লেখাপড়া, ওষুধ ও যাতায়াতের জন্য খরচ হয় ২৮ থেকে ২৯ হাজার টাকা। গ্রামের বাড়িতে বৃদ্ধ মা–বাবাকে মাসে ১০ হাজার টাকা পাঠান তিনি। বাকি ৯-১০ হাজার টাকা খরচ করেন দৈনন্দিন বাজারের জন্য। কয়েক মাস আগেও বেতনের এই টাকায় টেনেটুনে তার সংসার চলে যেত। কিন্তু চার-পাঁচ মাস ধরে সংসারের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। কারণ, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে। এ অবস্থায় খরচ সামলাতে গরুর মাংস ও ফল খাওয়া কমিয়েছে তাঁর পরিবার। আগে ছুটির দিনে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মাঝেমধ্যে ঘুরতে বের হতেন । এখন সেটাও বন্ধ। তারপরও ব্যয় সামলাতে পারছেন না। এখন প্রতি মাসে তাঁকে ঋণ করতে হচ্ছে।
আসাদুজ্জামান বলেন, সবজি থেকে শুরু করে পোশাক, ওষুধ—সবকিছুর দাম বেড়েছে। আগে ৬-৭ হাজার টাকায় মাসের বাজার হয়ে যেত। এখন লাগছে ৯-১০ হাজার টাকা। প্রতিদিন বেড়েই চলেছে ফার্মের মুরগির ডিম, মাছ-মাংস, সবজির দাম। সোনালি মুরগির কেজিও ৩৫০ টাকার ওপরে। বাড়তি এই খরচ তার জন্য অসহনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিনকে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘গণমাধ্যমে দেখলাম, আসছে বিশাল ঘাটতির জাতীয় বাজেট; ঘাটতির পরিমাণ রেকর্ড ২ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা; এই টাকা কোথা থেকে আসবে? আমি অর্থনীতি অতসত বুঝি না। তবে এটুকু বুঝতে পারছি, আরো চাপ পড়বে আমাদের সংসার জীবনে।’
মাত্র বছরের ব্যবধানে দেশের সবজির দাম বেড়েছে ৮০ শতাংশ। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে বিভিন্ন সবজির দাম বিশেষ করে টমেটো, কাঁকরোল, ঝিঙে, করলা ও বেগুনের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। অতিবৃষ্টি ও অনিয়মিত আবহাওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। এতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধিও সবজির চূড়ান্ত বাজারদরে প্রভাব ফেলছে। এছাড়া মৌসুমি উৎপাদনের ফাঁকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় আরো বেড়ে গেছে দাম। তবে সবজির দাম বাড়ার পেছনে চাঁদাবাজিও এটকা বড় কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাজারে পণ্যের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ে। কারণ, মূল্যস্ফীতির তুলনায় আয় না বাড়লে ব্যয় সামলাতে হিমশিম খায় মানুষ। সরকারি হিসাবে দেখা গেছে, টানা তিন বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে আছে দেশ। সাধারণত সাড়ে ৮ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে মূল্যস্ফীতি থাকছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রায় তিন বছর ধরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ঝুঁকি বিবেচনায় বাংলাদেশ ‘লাল’ শ্রেণিতে রয়েছে। এর মানে হলো, বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি কমছে না; বরং মধ্যপ্রাচ্য সংকটে তা আরো বাড়তে পারে।
ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, বাজারে একসঙ্গে অনেকগুলো পণ্যের দাম বাড়ায় ভোক্তারা, বিশেষ করে সীমিত আয়ের মানুষ খরচের চাপে পড়েছে। পরিবহন খরচসহ সামগ্রিকভাবে পণ্যের দামে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়ছে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই সুযোগকে পুঁজি করে পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন। এতে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
২০২৫ সালে বাজার পরিস্থিতি তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। মৌসুমি উৎপাদন ভালো হওয়ায় এবং সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় অধিকাংশ সবজি ছিল সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই। সেই সময় রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি সবজি ৩০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে বিক্রি হতো। আলু ও পেঁয়াজের মতো কিছু পণ্যের দাম ছিল আরো কম। কিন্তু চলতি বছরে এসে পুরোপুরি বদলে গেছে সেই চিত্র। বাজারে এখন বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। বর্তমানে টমেটো ও পটোল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে। আলু ৩৫ টাকা, শসা ১০০ টাকা, কাঁকরোল ১৩০ টাকা, ঝিঙে ৮০ টাকা এবং চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা কেজি দরে। করলা ও বেগুনের দাম ৮০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে। এ ছাড়া লাউ ৭০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা এবং গাজর ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ২০২৫ সালের মে মাসে বাজারে করলার দাম ছিল ৫০ টাকা কেজি। বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, কচি ৪০ টাকা, লতি ৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৫০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ টাকা, ঝিঙে ৪০ টাকা এবং টমেটোর দাম ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা।
দুই বছরের বাজারদর তুলনা করলে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁকরোলের দাম। গত বছর ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া কাঁকরোল এখন ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা প্রায় ১১৭ শতাংশ বৃদ্ধি। টমেটোর দাম ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকায় পৌঁছেছে, অর্থাৎ দ্বিগুণ হয়েছে। ঝিঙের দামও ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকায় উঠেছে। করলার দাম ৫০ টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে ৮০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে রয়েছে। শতাংশের হিসাবে যা প্রায় ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি। তুলনামূলকভাবে বেগুনের দাম কিছুটা কম বেড়েছে। সব মিলিয়ে তুলনাযোগ্য এসব সবজির গড় মূল্যবৃদ্ধি প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি বলে বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে। তবে সব পণ্যের দাম সমানভাবে বাড়েনি। তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে আলু ও পেঁয়াজের বাজার। আলুর দাম এখনো ৩০ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যেই রয়েছে। পেঁয়াজের দামেও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা যায়নি। তবে পাতাজাতীয় ও মৌসুমি সবজিতে মূল্যবৃদ্ধির চাপ সবচেয়ে বেশি।
প্রতিদিন সকাল থেকেই ভিড় রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের সবজির দোকানগুলোতে। হাতে বাজারের ব্যাগ, দোকানে দোকানে ঘুরে দাম যাচাই করছেন ক্রেতা। তবে স্বস্তি নেই তাদের মধ্যে। এই বাজারের খুচরা বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেছেন, আগের তুলনায় কৃষক পর্যায় থেকেই বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে। ফলে খুচরা বাজারেও দাম বেশি রাখতে হচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে দ্রুত দাম কমবে না। বাজার করতে আসা সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, সবজির বাজার এখন অনেক কঠিন। দামাদামি করেও খুব একটা লাভ হয় না। সবজি কিনতেই টাকা শেষ হয়ে যায়, পরে অন্য জিনিস কেনা কঠিন হয়ে পড়ে।
মেসে বাজার করে খান ফাতেমা খাতুন। পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরি করেন একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। বেতনও তেমন বেশি না। তার কণ্ঠে আক্ষেপ, কাওরানবাজারে কিছুটা কম দামে পাওয়া গেলেও বাসার পাশের ভ্যানগুলোতে প্রতি কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেশি রাখা হচ্ছে। কম বেতনে চাকরি করে মেসে থাকা মানুষের জন্য এ খরচ সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
রাজধানীর বনানী, মহাখালী, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও টাউন হল কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, গত এক-দুই মাসে খুচরা পর্যায়ে আরো কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সুগন্ধি চাল, ডিটারজেন্ট ও সাবানের মতো পণ্য। তেলাপিয়া, রুই, পাঙাশ, গরুর মাংসের দামও আগের তুলনায় বাড়তি। বিক্রেতারা জানান, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বাজারে একসঙ্গে অনেক পণ্যের দাম বেড়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি রয়েছে। সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের কারণে দেশে জ্বালানিসংকট হওয়ায় বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এতে নতুন করে খরচের চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
রাজধানীর আদাবর এলাকায় গৃহকর্মীর কাজ করেন লাইজু বেগম। তিনি বাসায় এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, আমি ভাড়া বাসায় থাকি। সেখানে লাইনের গ্যাস নাই। সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করি। গত কয়েক দিনে সিলিন্ডারের দাম ৬০০ টাকা বাড়ছে। অন্যান্য জিনিসপত্রের দামও বাড়ছে। এত খরচ সামলাব কেমনে।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তর দৈনিক ১৫টি সবজির খুচরা দামের তালিকা প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, গত বছরের এই সময়ের তুলনায় বর্তমানে নয়টি সবজির দাম বেশি; আর দাম কম রয়েছে চারটি সবজির। দাম বেশি বেড়েছে দেশি টমেটো, মিষ্টিকুমড়া ও করলার। বাজারে প্রতি কেজি টমেটো ৫০-৬০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৪০-৫০ টাকা ও করলা ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের সবজি বিক্রেতা আব্বাস আকন্দ জানান, এখন বাজারে গ্রীষ্ম মৌসুমের সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। ফলে গ্রীষ্মের সবজির দাম কিছুটা কমার কথা। কিন্তু গাড়িভাড়া বাড়ার কারণে সবজির দাম কমছে না।
সাধারণ মানুষের জন্য পুষ্টির বড় উৎস ফার্মের মুরগি ও ডিম। রাজধানীতে খুচরা পর্যায়ে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়। এক মাস আগেও ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন ছিল ১০৫ থেকে ১১০ টাকা। সে হিসাবে মাসের ব্যবধানে ডজনে দাম বেড়েছে প্রায় ৫০ টাকা। গত তিন সপ্তাহ ডিমের বাজার উর্ধ্বমুখী। মূলত গত মাসের মাঝামাঝি বাড়তে শুরু করে ডিমের দাম। এরপর থেকে ধারাবাহিক বেড়েই চলছে। গত সপ্তাহে প্রতি ডজন ডিমের দাম ছিল ১৪০ টাকা। সেটা আরো ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে দেড়শ পার করেছে। বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, রাজধানীর বড় বাজারগুলোতে ফার্মের মুরগির বাদামি রঙের প্রতি ডজন ডিম ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে পাড়া–মহল্লার দোকানে বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ টাকা দরে। সাদা রঙের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায়।
মোহাম্মদপুর টাউনহল বাজারের দোকানি ইব্রাহিম বলেন, পাইকারিতে প্রায় প্রতিদিন ডিমের দাম বাড়ছে। গত দু-তিন সপ্তাহে পাইকারি বাজার টানা ঊর্ধ্বমুখী। সরকারি সংস্থা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের এই সময়ের তুলনায় বাজারে সোনালি মুরগির দাম ৪৫ শতাংশ ও ব্রয়লার মুরগির দাম ৭ শতাংশ বেড়েছে।
কারওয়ান বাজারের তেজগাঁও আড়তের ডিম ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান জানান, এখন পাইকারি প্রতি একশ লাল ডিম এক হাজার ১৮০ থেকে এক হাজার ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিন-চারদিন আগেও যা এক হাজার ১৫০ টাকা ছিল। তিনি বলেন, সারাদেশে বৃষ্টির কারণে ডিমের সরবরাহ কমেছে। প্রত্যন্ত এলাকার খামার থেকে ঠিকমতো ডিম আসছে না। আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, বাজারে সবজির দাম বেশি থাকার কারণেও বেড়েছে ডিমের চাহিদা। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিরও প্রভাব পড়েছে ডিমের দামে।
# নিম্ন-মধ্যবিত্তের ওপর চাপ না বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এক উচ্চাভিলাষী অথচ বিশাল ঘাটতি সংবলিত বাজেটের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ। প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে রেকর্ড ২ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৫ শতাংশ। এই বিশাল আর্থিক শূন্যতা পূরণে সরকারকে একদিকে যেমন বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ ব্যাংকব্যবস্থা থেকেও নিতে হবে বিশাল অঙ্কের ঋণ। উদ্বেগের বিষয় হলো-ঋণের সুদ পরিশোধ করতেই বাজেটের একটি বড় অংশ খরচ হয়ে যাবে, যা দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করবে। দীর্ঘ দুই দশক পর বড় রাজনৈতিক ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক পরীক্ষাগুলোর একটি হতে যাচ্ছে এবারের জাতীয় বাজেট।
উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের চাপ, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট এবং আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের শর্ত— সব মিলিয়ে নতুন সরকারের প্রথম বাজেটকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বাড়তি গুরুত্ব। এমন বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন— বাজেট যেন কোনোভাবেই সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না করে এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ওপর নতুন চাপ তৈরি না হয়। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









