পুঁজিবাজারকে ‘নতুনভাবে সাজানোর’ অংশ হিসেবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান পদে হিসাববিদ ও ঝানু করপোরেট পেশাদার মাসুদ খানকে বেছে নিল সরকার।
মাসুদ খান ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন। পাশাপাশি ক্রাউন সিমেন্ট গ্রুপের বোর্ডে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান হওয়া খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বৃহস্পতিবার সকালে পদত্যাগ করেন। একইদিন চার কমিশনারও দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দেন।
এর কয়েক ঘণ্টা বাদে মাসুদ খানকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
এতে বলা হয়েছে, অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সাথে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তাকে চার বছরের জন্য বিএসইসি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হলো।
গত ৩০ এপ্রিল সংসদে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধনী) বিল ২০২৬ পাস হয়, যার মাধ্যমে বিএসইসির চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে ৬৫ বছর বয়সসীমা বাতিল হয়ে যায়। অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের কমিশনে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতেই সরকার ওই বয়সসীমা তুলে দিয়েছে।
এরপর ৭০ বছরের বেশি বয়সি এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা মাসুদ খানের নাম সবার সামনে চলে আসে। গত কয়েক দিনে তার নিয়োগ নিয়ে জল্পনা বেশ জোরালো হয়।
শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক ও স্থানীয় কোম্পানিতে কাজের চার দশকেরও বেশি অভিজ্ঞতা সম্পন্ন মাসুদ খান সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেড এবং কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশের স্বতন্ত্র পরিচালক ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। সেই সঙ্গে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর (বিএটি) স্বতন্ত্র পরিচালক এবং নমিনেশন অ্যান্ড রেমুনারেশন কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বেও ছিলেন।
ইউনিলিভার কনজুমারের আগে মাসুদ খান লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশে চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) হিসেবে ১৮ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোতে ফাইন্যান্স ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পদে ২০ বছর কর্মরত ছিলেন।
মাসুদ খান চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশে (আইসিএবি) পাঠদানও করে আসছেন। তিনি কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে ব্যাচেলর অব কমার্স (অনার্স) ডিগ্রি লাভ করেন। চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ) এবং কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট মাসুদ খান ১৯৭৭ সালে সর্বভারতীয় সিএ পরীক্ষায় রৌপ্য পদক অর্জন করেছিলেন। ইনস্টিটিউট অব সার্টিফায়েড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টসের (অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড) ফেলো তিনি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









