নাটোরের গুরুদাসপুরে শতবর্ষী একটি বটগাছের মগডালে আশ্রয় নেওয়া হাসান খা (৪৭) নামে এক ব্যক্তিকে নামাতে গিয়ে দিনভর গলদঘম্য অবস্থায় পড়তে হয় পুলিশ ও দমকলবাহিনীর ১৮ সদস্যের একটি দলকে। বুধবার উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের মোকিমপুর গ্রামের ওই ঘটনাটি ঘটেছে।
উদ্ধার অভিযান শেষে নাটোর জেলা ফায়ার সার্ভিসের প্রধান আখতার হামিদ খাঁন শেষবিকালে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের জানান, বটগাছের মগডালে আশ্রয় নেওয়া হাসান খাঁ মোকিমপুর গ্রামের দানেজ খাঁর ছেলে। তিনি অতিরিক্ত মাদকসেবনের কারনে মানুষিক ভারসাম্য হারিয়ে গাছের মগডালে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
ফায়ার সার্ভিস দলের প্রধানের বক্তব্যের সাথে সহমত জানিয়ে দানেজ খাঁ বলেন, “ মাদকাসক্ত হওয়ার পর থেকে তাঁর পরিবার ও সংসার অনেকটাই পথে বসেছে। ছেলেকে ফেরাতে শেষ চেষ্টা হিসেবে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে রেখেও চিকিৎসাও দেওয়া হয়। তাদেও কাজ হয়নি। মাসখানেক আগে নিরাময় কেন্দ্র থেকে বের হয়ে আবারও নেশায় জড়িয়ে পড়ে। ছেলের সংসারে স্ত্রী দুই মেয়ে এক ছেলে রয়েছে। এখন সেই সংসারের বোঝা টানতে হচ্ছে তাঁকে। একারনে আর্থিক সংকটে পড়তে হয়েছে তাঁকে।অথচ সুখের সংসার ছিল তাঁর।
ভুক্তভোগী এই বাবা আক্ষেপ করে আরো বলেন, মাদক নিরাময় কেন্দ্র থেকে ফেরার পর থেকে মানসিক বেকার গ্রস্থ হয়ে পড়েছিলেন তাঁর ছেলে। বুধবার সকালে গ্রামের শতবর্ষী বটগাছের নিচে বসেছিলেন। এক পর্যায়ে মগডালে উঠে বানরেরমত এডাল থেকে অন্য ডালে ছুটাছুটি করতে থাকে।এসময় গ্রামের উৎসুক মানুষের ভীড় জমে যায়।
পরিস্থিতি বুঝে প্রথমে গুরুদাসপুর ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে জানানো হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ১০ সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধারে ব্যথ হয়। দুপুরের পর নাটোর থেকে ৫ সদস্যে আরেকটি দল ও বিকেলে তিন সদস্যের আরেকটি পুলিশের দল সেখানে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
নাটোর জেলা ফায়ার সার্ভিসের প্রধান আখতার হামিদ খাঁন বলেন, প্রায় ৭ঘন্টা ধরে মগডাল থেকে তাঁকে নামাতে নানা রকম প্রলোভোন দেখানো হয়। কাজ হয়না। পরে তার এক সহপাঠীকে মগডালে পাঠানো হয়। এক পর্যায়ে ভালো খাবার ও মাদকের লোভ দেখিয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মগডাল থেকে নিচে নামানো হয় হাসান খা কে। পরে তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের ওই কর্মকর্তা বলেন, “ মানুষ ও মানবতায় কাজ করে ফায়ার সার্ভিস। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই হাসানকে মগডাল থেকে নামানো হয়েছে। সে মাদকাসক্ত এটা মূখ্য নয়, একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে দিনভর অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









