নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ফয়জুল মিয়া (৫৫) নামের একজনকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যাসহ ১৬ জনকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ উঠেছে। আহতদের উদ্ধার সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি কনা হয়েছে।
গতকাল বুধবার রাত ১০টায় উপজেলার হাড়িয়া চৌধুরীপাড়া এলাকায় এভারগ্রীন মাদক নিরাময় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই তারা হাসপাতালে লাশ ফেলে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে তালা দিয়ে পালিয়ে যায়।
জানা গেছে, নিহত ফয়জুল মিয়া উপজেলার কাচঁপুর বেহাকৈর এলাকার ফোছন আলীর ছেলে।
নিহত ফয়জুল মিয়ার স্ত্রী মাসুদা বেগম জানান, তার স্বামীকে মাদক থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে এভারগ্রীন মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করেন। ঈদের পর দিন তাকে খাবার দিয়ে যান। বুধবার রাত ১০টায় খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে দেখেন মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের লোকজনের নির্যাতনেই তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি জড়িত দের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি করেন।
নিরাময় কেন্দ্রের চিকিৎসাধীন ও নির্যাতনের শিকার সায়েমকে মেরে রক্তাক্ত ও নীলাফুলা জখম জানান, গত ৩৬ ঘন্টায় তাদেরকে দফায় দফায় নির্যাতন করা হয়। তিনি ১ পায়ে ১২ ঘন্টা দকঁড় করিয়ে রাখে। পা কাঁপলে পেয়ারা গাছের ডাল দিয়ে বেদম প্রহার করে পশ্চাৎ অংশের মাংস হাড্ডি থেকে তুলে ফেলা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এ কেন্দ্র থেকে প্রায়ই কান্নজর আওয়াজ আসতো। কেউ এগিয়ে গেলে তাদেরকে অপমান অপদস্ত করা হতো। তাছাড়া মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালক সজীব, তার সহযোগী উজ্জল সহ পরিচালনা কমিটির সবাই মাদকাসক্ত। তাদেরকে কোন যোগ্যতায় নিরাময় কেন্দ্রের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে তা বোধগম্য নয়।
সোনারগাঁও থানার ওসি গোলাম সারোয়ার জানান, এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে নির্যাতনেই মৃত্যু হয়েছে। লাশের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









