The Daily Adin Logo
বাণিজ্যলোক
এদিন ডেস্ক

বুধবার, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: বুধবার, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬

এনইআইআর কার্যকর হওয়ায় নকল ও চুরি হওয়া মোবাইল সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব: এমআইওবি

এনইআইআর কার্যকর হওয়ায় নকল ও চুরি হওয়া মোবাইল সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব: এমআইওবি

দেশের মোবাইল ফোন শিল্পে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা, সাধারণ ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একটি শক্তিশালী ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স এ্যাসোসিয়েশন (এমআইওবি)। ‘এনইআইআর-এর হাত ধরে শুরু হোক নিরাপদ বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সম্মেলনে বক্তারা সম্প্রতি কার্যকর হওয়া ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থার বহুমুখী ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরেন। এমআইওবি জানায়, সরকার ১ জানুয়ারি থেকে এনইআইআর ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি স্মার্টফোন আমদানিতে যে শুল্ক হ্রাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা এই শিল্পে শৃঙ্খলা ফেরাতে একটি সময়োপযোগী ও বৈপ্লবিক পদক্ষেপ। এই উদ্যোগের ফলে বাজারে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও অবৈধ ব্যবসা অনেকাংশেই কমে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মোবাইল ফোন শিল্পের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে বলা হয় যে, এনইআইআর কার্যকর হওয়ার ফলে অবৈধ উপায়ে দেশে আসা, নকল এবং চুরি হওয়া মোবাইল ফোন সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এর ফলে ফোন ক্লোনিং, বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতি এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে, যা সরাসরি ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। এছাড়া এই ব্যবস্থার ফলে বাজারে একটি সুস্থ ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হবে, যা বৈধ ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়াবে। রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি এটি দেশের সামগ্রিক ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তিকেও আরও মজবুত করবে বলে শিল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বর্তমানে দেশে ১৮টি স্মার্টফোন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ রয়েছে এবং এই খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় এক লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যার একটি বড় অংশই নারী শ্রমিক।

তবে এনইআইআর বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি দেশের কিছু অসাধু ও অবৈধ স্মার্টফোন ব্যবসায়ীর সহিংস আচরণে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এমআইওবি। সংগঠনটি জানায়, দেশের প্রায় ১২ হাজার ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১ হাজার থেকে দেড় হাজার ব্যবসায়ীর একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী সাধারণ ক্রেতাদের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে এবং আমদানিতে শুল্ক হ্রাসের সুবিধা নেওয়ার পরেও বেআইনি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে। তাদের এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বিটিআরসি কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং শিশুদের ব্যবহার করে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। এমনকি দেশের বিভিন্ন স্থানে বৈধ মোবাইল ফোনের দোকানগুলো জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ ব্যবসায়ীদের চরম আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির মুখে ফেলেছে।

এমআইওবি সভাপতি জাকারিয়া শহীদ তাঁর বক্তব্যে সাফ জানিয়ে দেন যে, এনইআইআর বাস্তবায়ন দেশের মোবাইল শিল্পের স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতার জন্য অপরিহার্য। তিনি বলেন, কিছু অসাধু লোকের ব্যক্তিস্বার্থের কারণে সৃষ্ট এই অস্থিরতা কেবল জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করছে না, বরং দেশের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের (এফডিআই) ওপর নির্ভরশীল এই শিল্পে এমন বিশৃঙ্খলা ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এমআইওবি এই সহিংস কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সরকারকে আইনানুগ উপায়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানায়। নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে স্মার্টফোন শিল্প আগামীতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আরও বড় ধরনের অবদান রাখতে পারবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মূলত বৈধ ব্যবসা ও বিনিয়োগ সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত বলে সম্মেলনে অভিমত দেওয়া হয়।

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.