বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য ইরানি কর্মকর্তাদের হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণার প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের বাজারে।
ব্রেন্ট ক্রুড আর ইউএস অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। দিন শেষে ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি ৯ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৯০ ডলার ৩৮ সেন্টে স্থির হয়।
বাজার বিশ্লেষণের বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিনের শুরুতে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৯৮ ডলারের উপরে থাকলেও ঘোষণার পর তা ৯০ ডলারের নিচে নেমে আসে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের বাজার সূচক ‘নাইমেক্স’ (NYMEX)-এ লাইট সুইট ক্রুডের দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার আগে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ছিল প্রতি ব্যারেল ৭০ ডলারের নিচে। কিন্তু মার্চ মাসের শুরুতে সংঘাতের জেরে এই দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং মাসের শেষের দিকে তা রেকর্ড ১১৯ ডলারে পৌঁছায়। দীর্ঘ উত্তেজনার পর সমুদ্রপথটি খুলে দেওয়ায় সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশায় বাজারে এই ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধে এখন যুদ্ধবিরতি চলছে। তবে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ জারি রেখেছে ওয়াশিংটন।
যদিও ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ অব্যাহত রাখলে হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ করে দেওয়া হবে।
মূলত লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার প্রেক্ষিতে ইরান এই সিদ্ধান্ত নেয়। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম তেল পরিবহন পথ হওয়ায় এই পথটি খুলে দেওয়া বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে তেলের দাম আরও স্থিতিশীল হতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এরপর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। বিশ্বের এক–পঞ্চমাংশ ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিবহন করা হয় এ পথ দিয়ে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









