রাজধানীর বাজারে স্বস্তির ছিটেফোঁটাও যেন নেই। ডিমের ডজনে যখন ১৫০ টাকা ছুঁয়ে মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়, ঠিক তখনই উত্তাপ ছড়াচ্ছে পেঁয়াজ ও আদার বাজার। এর ওপর দীর্ঘ এক মাস ধরে চড়া সবজির বাজার তো আছেই—সামান্য বৃষ্টি হলেই যা আরও আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। সংকটের এই মিছিলে চলতি সপ্তাহে নতুন করে যোগ দিয়েছে পেঁয়াজ ও আদা। মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা বাড়লেও, আদার বাজার আরও বেসামাল। বর্তমানে মানভেদে প্রতি কেজি আদা ১৭০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
মুরগি দামে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি দরে। আর সবচেয়ে বেশি অস্বস্তি দেখা গেছে দেশি মুরগির দামে। বর্তমানে এক কেজি দেশি মুরগির জন্য ক্রেতাকে খরচ করতে হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। অন্যদিকে, মধ্যবিত্তের পছন্দের সোনালি মুরগি বাজারভেদে ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। সব মিলিয়ে ছুটির দিনে বাজারে এসে আমিষের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
শুক্রবার (১৫ মে) সকালে ঢাকার বেশ কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করেই মূলত পেঁয়াজ ও আদার এই দরবৃদ্ধি। বর্তমানে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়, যা মাত্র এক সপ্তাহ আগেও ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। তবে বাজারে প্রচুর পরিমাণে দেশি রসুনের সরবরাহ থাকায় এ পণ্যটির দাম আছে আগের মতোই।
ব্যবসায়ীদের মতে, পেঁয়াজের দাম কিছুটা বাড়লেও পণ্যটি এখনো সবার নাগালের মধ্যে আছে। তবে বাড়তি চাহিদাকে কেন্দ্র করে দাম বাড়ানোর সুযোগ নিচ্ছেন মধ্যস্বত্বভোগীরা। কারণ, কৃষকের হাত থেকে পেঁয়াজ এখন বড় ব্যবসায়ীদের গুদামে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক খুচরা বিক্রেতা জানান, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। পাইকারি বাজারে প্রতিদিন পেঁয়াজের দাম কেজিতে এক-দুই টাকা করে বাড়ছে।
ভোক্তাদের অভিযোগ, রমজানের ঈদে দাম বাড়াতে ব্যর্থ হয়ে অসাধু সিন্ডিকেট এখন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বাজার অস্থির করার পাঁয়তারা করছে।
জানা গেছে, গত মাসে সোনালি মুরগির কেজি ছিল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা। এখন বেড়ে হয়েছে ৩৩০ থেকে ৩৫০০ টাকা। আর দেশি মুরগি সাড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। এদিকে, ১৭৫ থেকে বেড়ে ২০০ টাকা কেজিতে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করা হচ্ছে।
এদিকে, গত সপ্তাহ থেকেই ডিমের বাজারে অস্থিরতা চলছে। ডজনপ্রতি ডিমের দাম ১৩০-১৩৫ টাকা থেকে লাফিয়ে ১৫০ টাকায় ঠেকেছে। কোনো কোনো এলাকায় তা ১৫৫ টাকায়ও বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এদিকে, বাজারে এখন ৭০-৮০ টাকা কেজির কমে কোনো সবজি মিলছে না। সবচেয়ে কম দামের সবজি পেঁপের দাম এখন ৬০ থেকে ৮০ টাকা। আর মানভেদে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১২০ টাকায়। অন্যান্য সবজির মধ্যে ঢ্যাঁড়স, চিচিঙ্গা, ধুন্দল ও ঝিঙে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। করলা, বরবটি, কাকরোরেল দাম আরও বেশি, বাজারে যা ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে মিলছে।
বাজারের এমন পরিস্থিতিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো আরও চাপে পড়েছে। তদারকি জোরদার না হলে ঈদের আগে বাজার আরও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সাধারণ ক্রেতারা।
মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটের মুরগি ব্যবসায়ী বলেন, মুরগির চাহিদা বেশি, তার তুলনায় সরবরাহ কম রয়েছে। তাই আজকে দাম একটু বেশি। মুরগির দাম প্রতিদিনই কমে বাড়ে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিয়ে-শাদি বেশি থাকে। অন্যান্য দিনের তুলনায় এ দিনগুলোতে দাম একটু বেশি থাকে।
ডিম বিক্রেতা বলেন, আজকে ডিমের তিন রকম দাম রয়েছে। ব্রয়লার বড় সাইজের ডিম ১৬০ টাকা, ব্রাউন কালারের ডজন ১৫০ টাকা ও সাদা ১৪০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









