যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের বাড়ি ঘেরাওকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকার প্রফেসরপাড়া।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে স্থানীয়দের বিক্ষোভের পর সন্ধ্যায় জেলা জামায়াত প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ করে। এদিকে জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে বুধবার বৈঠকের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা জামায়াতের উদ্যোগে শহরের ঈদগাহ ময়দান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে দড়াটানা ভৈরব চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু জাফর সিদ্দিকী অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে সংসদ সদস্যের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং তাকে ও তার পরিবারকে সারাদিন অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, জেলা পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বুধবার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ ও অভিভাবকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রশাসন আগে থেকেই কার্যকর পদক্ষেপ নিলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে সকালে সংসদ সদস্যের বাড়ির বিপরীতে অবস্থিত আল-মাদ্রাসাতুল শারইয়্যাহকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংসদ সদস্যের মেয়ে মেহেজাবিন জান্নাত অনন্যা কয়েকজন শিশুকে মারধর করেন। পরে শিশুদের অভিভাবকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে এক নারী অভিভাবক রেকসোনা বেগমের মাথায় তালা দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা সংসদ সদস্যের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন এবং একপর্যায়ে সড়কে অবস্থান নেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুপুরে ঘটনাস্থলে যান যশোরের পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মাদ্রাসায় শিশুদের যাতায়াত এবং সংকীর্ণ রাস্তা ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি থেকে এ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক এবং এলাকার বাড়ির মালিকদের নিয়ে বুধবার আমাদের অফিসে বসে আলোচনা করে একটি স্থায়ী সমাধান বের করা হবে। এটি বড় কোনো ইস্যু নয়। আশা করি কাল থেকে আর সমস্যা থাকবে না।
ঘটনার পর দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে লাইভে এসে সংসদ সদস্য গোলাম রসুল দাবি করেন, মাদ্রাসার সামনে রাস্তা সবসময় খোলা রাখার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গেলে কিছু অভিভাবক তাকে ঘিরে ধরেন। পরে তার মেয়ে ও স্ত্রীকে মারধর করা হয় এবং তাদের উদ্ধার করে বাসায় নেওয়ার পর একদল লোক বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও গেট ক্ষতিগ্রস্ত করে।
লাইভে তিনি আরও দাবি করেন, তার মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও অগ্ন্যাশয়ের জটিল রোগে ভুগছেন এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বাড়ির গ্যারেজে দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে আগুন লাগানোর আশঙ্কাও রয়েছে। তবে তিনি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমি যদি কোনো ভুল করে থাকি, তার জন্য ক্ষমা প্রার্থী। আমি চাই সবাই শান্ত থাকুক এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হোক।
ঘটনায় মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। প্রশাসন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









