দীর্ঘ আন্দোলন ও প্রতীক্ষার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের জন্য ঘোষিত বিশেষ আবাসন বৃত্তির চেক হস্তান্তর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রথম কিস্তির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতীকীভাবে ৯ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৫তম ব্যাচ (২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষ) থেকে শুরু করে ২০তম ব্যাচ (২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষ) পর্যন্ত মোট ১ হাজার ১৬৪ জন শিক্ষার্থী এই বিশেষ বৃত্তির আওতায় রয়েছেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, ইনস্টিটিউট পরিচালক, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, প্রোভোস্ট, প্রক্টর, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং জকসু প্রতিনিধি ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, ‘‘শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে। আবাসন সংকট বিবেচনায় এই বিশেষ বৃত্তি দ্রুত বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দ্বিতীয় ক্যাম্পাস ও নতুন আবাসিক হল নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতিও ত্বরান্বিত করা হবে।’’
ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমীন বলেন, ‘‘বৃত্তির অর্থ সুষ্ঠুভাবে বিতরণ নিশ্চিত করতে ডাটাবেজ যাচাইসহ প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। এটি শিক্ষার্থীদের আবাসন ও শিক্ষাজীবনের আর্থিক চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’’
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন জানান, চলতি সপ্তাহেই বৃত্তির মূল অর্থ বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। ফ্যাকাল্টিভিত্তিক তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি জরুরি সভাও আহ্বান করা হয়েছে।
জবি শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে আবাসন সংকট নিরসন ও আবাসন ভাতার দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। গত বছর শিক্ষার্থীদের ‘যমুনা ঘেরাও’ কর্মসূচির পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫৬ কোটি টাকার একটি বিশেষ আবাসন বৃত্তি বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় এই বৃত্তি কার্যক্রম শুরু হলো।
জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, ‘‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ফলেই এই বৃত্তি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। তবে তিনি দ্রুত বাকি অর্থ বিতরণের দাবি জানান।’’
জকসু ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘‘এই বৃত্তি শিক্ষার্থীদের আর্থিক ও মানসিক চাপ কিছুটা লাঘব করবে।’’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশা করছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটের চাপ কিছুটা কমবে এবং শিক্ষাজীবন আরও স্বাভাবিক হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









