যশোরের চৌগাছা পৌরসভায় প্রায় ২৫ হাজার ৬৬৭ মানুষের বসবাস হলেও নাগরিক সেবার বেহাল অবস্থায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পৌরবাসীকে। পৌর এলাকার অধিকাংশ সোলার লাইট অচল হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে আশি শতাংশ রাস্তা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল কষ্টকর হয়ে উঠেছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা ও জলাবদ্ধতাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
জানা যায়, চৌগাছা পৌরসভা ২০০৪ সালের ২৮ আগস্ট প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে পৌর এলাকায় আলোকসজ্জা উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন অর্থবছরে সোলার লাইট স্থাপন করা হয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৭৫টি, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২৩৮টি এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আরও ১২২টি সোলার লাইট বসানো হয়। তবে বর্তমানে অধিকাংশ সোলার লাইট অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সন্ধ্যার পর পৌর এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বাজার এলাকায় অন্ধকার নেমে আসে।
এদিকে পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক ভাঙাচোরা হয়ে পড়েছে। খানাখন্দে ভরা এসব সড়কে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পথচারী ও যানবাহন চালকরা। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে অনেক রাস্তা। এছাড়া ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা বাড়ছে। অনেক স্থানে ড্রেন ভরাট হয়ে থাকায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখায় পরিবেশ দূষণও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পৌর এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজা আউলিয়া বলেন, “নিয়মিত পৌর কর দিলেও নাগরিক সুবিধা পাচ্ছি না। রাস্তা, ড্রেন ও স্ট্রিট লাইটের অবস্থা খুবই খারাপ। দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।”
মাস্টার কামাল আহমেদ বলেন, “পৌরসভার অধিকাংশ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। বর্ষা শুরু হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”
৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোয়াজ্জেম মনি বলেন, “অচল সোলার লাইটের কারণে রাতের বেলায় অনেক এলাকায় অন্ধকার থাকে। এতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে।”
৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোতালেব হোসেন বলেন, “প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তার আশি শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। দ্রুত সংস্কার না করলে বর্ষায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠবে।”
এ বিষয়ে চৌগাছা পৌরসভার প্রকৌশলী রুহুল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি।
চৌগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি এম এ মুনীব বলেন, “আমি নতুন এসেছি। পৌরবাসী ধীরে ধীরে সবকিছুর সুফল পাবে।” তবে সোলার লাইট বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে তিনি বলেন, “সোলার লাইট আমার আওতাভুক্ত নয়, এটি প্রকল্পের আওতাভুক্ত।
পৌরবাসীর দাবি, দ্রুত অচল সোলার লাইট মেরামত, ভাঙা রাস্তা সংস্কার, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালু করা হোক। একই সঙ্গে নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন তারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









