আর মাত্র কিছু সময়ের অপেক্ষা। এরপরই পর্দা উঠবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল মহাযজ্ঞ ‘ফিফা বিশ্বকাপ’র। মাঠের লড়াই শুরু হতে এখনও কিছুটা সময় বাকি থাকলেও, বিশ্বকাপের সেই উত্তাপ আর উন্মাদনায় ইতোমধ্যে পুরোপুরি রঙিন হয়ে উঠেছে রূপসী বাংলার বুক। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার মতো রূপালী নদীঘেরা বরিশালেও এখন বইছে নিখাদ ফুটবল হাওয়া। গ্রাম থেকে শহর, সর্বত্র এখন একটাই আলোচনা, ‘কার ঘরে যাচ্ছে এবারের সোনালী ট্রফি?’
বিশ্বকাপকে ঘিরে বরিশাল নগরী ও এর আশপাশের উপজেলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আমেজ। সরেজমিনে দেখা গেছে, বহুতল ভবনের ছাদ থেকে শুরু করে গ্রামের টিনের চাল কিংবা সড়কের পাশের ল্যাম্পপোস্ট, সবখানেই উড়ছে বিভিন্ন দেশের পতাকা। পিছিয়ে নেই জার্সিপ্রেমীরাও। নিজের প্রিয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়ে দলবেঁধে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে তরুণদের।
এদিকে পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকান, মোড়ের আড্ডা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সব জায়গাই এখন ফুটবলপ্রেমীদের দখলে। আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের চিরন্তন দ্বৈরথ তো আছেই, সাথে যোগ হয়েছে ইউরোপীয় জায়ান্টদের নিয়ে নানা সমীকরণ। বন্ধুদের আড্ডায় চলছে প্রিয় দলের শক্তি-সামর্থ্য আর সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ তর্কের ঝড়।
বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো যৌথভাবে উপভোগ করতে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়, ক্লাব ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে বিশালাকার প্রজেক্টর বা বড় পর্দায় খেলা দেখার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় এক ফুটবলপ্রেমী জানান, দলবেঁধে বড় পর্দায় খেলা দেখার মজাই আলাদা। এবারও আমরা পাড়ার সবাই মিলে প্রজেক্টরের ব্যবস্থা করেছি। হার-জিত যাই হোক, উল্লাস কমবে না।
বিশ্বকাপের এই জোয়ারে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে ক্রীড়াসামগ্রীর বাজারে। বরিশাল নগরীর স্পোর্টস মার্কেট ও দোকানগুলোতে এখন উপচে পড়া ভিড়। ক্রেতারা ছুটছেন পছন্দের দলের জার্সি, ফ্ল্যাগ আর রিস্টব্যান্ড কিনতে। বাজারে অন্যান্য জনপ্রিয় দলের জার্সি পর্যাপ্ত থাকলেও, এক অদ্ভুত সংকটে পড়েছেন ব্রাজিলের সমর্থকেরা! বাজারে সেলেসাওদের জার্সির চাহিদা এতটাই বেশি যে, অনেক দোকানেই তা নিমেষেই শেষ হয়ে গেছে।
নগরীর এক নামী স্পোর্টস দোকানের বিক্রেতা জানান, আর্জেন্টিনা, জার্মানি বা ফ্রান্সের জার্সি সহজে পাওয়া গেলেও ব্রাজিলের জার্সির কিছুটা সংকট দেখা দিয়েছে। কারখানায় উৎপাদন তুলনামূলক কম হওয়া এবং হঠাৎ করে অভাবনীয় ক্রেতার চাপ তৈরি হওয়াই এই সরবরাহের ঘাটতির মূল কারণ।
তবে এই সংকটও দমাতে পারছে না সমর্থকদের। জার্সি না পেয়ে অনেকেই বিকল্প উপায়ে অর্ডার দিয়ে রাখছেন খেলা শুরুর আগেই।
আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলের সমর্থকদের আধিক্য থাকলেও বরিশালের সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের একটাই প্রত্যাশা, মাঠে ছড়াক নান্দনিক ফুটবলের জাদু। মাঠের লড়াইয়ে প্রিয় দল জয়ী হোক আর সেই জয়কে কেন্দ্র করে মেতে উঠুক গোটা বরিশাল, এমনটাই চাওয়া সবার।
ঘড়ির কাঁটা যত এগোচ্ছে, বরিশালের ফুটবল উন্মাদনা ততই যেন রূপ নিচ্ছে উৎসবে। এখন শুধু অপেক্ষা রেফারিঁর সেই বহুল প্রতীক্ষিত উদ্বোধনী বাঁশির!


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









