সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি) নিয়োগ কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও নীতিমালা অনুসরণ নিয়ে সিন্ডিকেট সদস্যদের মধ্যে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। কেউ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতির অভিযোগ তুললেও, অন্যরা বলছেন সব কার্যক্রম নিয়ম মেনেই পরিচালিত হচ্ছে।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের অস্থায়ী ক্যাম্পাস শান্তিগঞ্জ থেকে যাত্রা শুরু করে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে গণিত, রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান এবং কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগে দুটি ব্যাচে মোট ৩২০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ কার্যক্রম নিয়ে শুরু থেকেই আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। সম্প্রতি সেকশন অফিসার ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। এর আগে বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির যোগ্যতা ও শর্তাবলিতে একাধিকবার পরিবর্তন আনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘নিয়োগ নীতিমালা পর্যালোচনার জন্য গঠিত কমিটির সুপারিশ কার্যকর না হওয়ায় সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’’
সিন্ডিকেট সদস্য নুরুল ইসলাম সাজু বলেন, ‘‘নিয়োগ কার্যক্রম নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালনার বিষয়ে তিনি আগের সভায় প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এ লক্ষ্যে একটি পর্যালোচনা কমিটিও গঠন করা হয়। তবে এখনো কমিটির কার্যক্রম শুরু হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।’’ তার মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার বিষয়টি স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. মো. শহীদুর রহমান বলেন, ‘‘নিয়োগ নীতিমালা পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং তাকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি এখনো পাননি।’’
তিনি জানান, নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখার কোনো সিদ্ধান্ত সিন্ডিকেটে হয়নি।
সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর আব্দুল্লাহ খান বলেন, ‘‘নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে দক্ষ জনবল নিয়োগে কিছু ক্ষেত্রে যোগ্যতার শর্ত শিথিল করার প্রস্তাব এসেছে। তবে নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ রাখার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘‘সিন্ডিকেটের অনুমোদন ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো নিয়োগ দেওয়া হয়নি। পূর্বে যেসব নিয়োগ হয়েছে সেগুলোও সিন্ডিকেটের অনুমোদনক্রমে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমান নিয়োগ প্রক্রিয়াও অনুমোদনের পরই কার্যকর হবে।’’
তিনি দাবি করেন, ‘‘নিয়োগে অনিয়ম বা অস্বচ্ছতার কোনো সুযোগ নেই।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









