ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বিভিন্ন বিভাগ ও অফিসে দৈনিক মজুরীর ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্তদের নিয়োগ যাচাই-বাছাইয়করণে কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত রবিবার গঠিত তিন সদস্যের কমিটিকে কর্মচারীদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতেও বলা হয়।
এদিকে সংশ্লিষ্ট কমিটির প্রজ্ঞাপনটি সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের “উপরের নির্দেশে রেস্ট্রিকটেড” বলে অফিস আদেশটি পুরোপুরি না দেখিয়ে তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে। কমিটির সদস্য সচিব উপ-রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) এ.জেড.এম. আছাফদ্দৌলা গঠিত কমিটির সদস্যদের নামগুলো ছবি তোলার অনুমতি দিলেও ‘হাতে চেপে ধরে’ কমিটিতে উল্লেখিত শর্ত বা বিস্তারিত জানাতে অপারগতা দেখিয়েছে।
অর্ধেক তথ্য মতে, কমিটিতে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনকে আহ্বায়ক, সদস্য সচিব উপ-রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) এ.জেড.এম. আছাফদ্দৌলা এবং উপ-হিসাব পরিচালক ইসরাফুল হককে সদস্য করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনে আর কোনো তথ্য জানতে পারেনি ক্যাম্পাসে কর্তব্যরত সাংবাদিকরা।
জানা গেছে, ক্যাম্পাসে কর্তব্যরত সাংবাদিকরা রেজিস্ট্রার দপ্তরে গেলে দায়িত্বরত শাখা কর্মকর্তারা কমিটির সদস্য সচিব আছাফদ্দৌলার কাছ থেকে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। পরে আছাফদ্দৌলার কাছে প্রজ্ঞাপনটা সংগ্রহ করতে গেলে কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনকে দেখিয়ে দেয়। অন্তত ক্যাম্পাসে দায়িত্বরত ১০-১২ জন প্রজ্ঞাপন নিতে গিয়ে একই প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে।
এছাড়া ডে লেবার কর্মচারীদের আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠির মাধ্যমে না জানিয়ে ফোন কলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর বরাত তাদেরকে ডাকা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। অনেকেই একে অপরের কাছ থেকে শুনে সাক্ষাৎকারে গেছেন বলেও একাধিক কর্মচারী জানিয়েছেন।
একাধিক সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা সারাদিন রেজিস্ট্রার অফিস আর কমিটির সদস্য সচিব আছাফদ্দৌলার রুমে ঘুরাঘুরি করেও প্রজ্ঞাপনটা নিতে পারেননি। ক্যাম্পাসে এটিই প্রথম নজির। উন্মুক্ত প্রজ্ঞাপনের তথ্য পুনরায় ‘সিক্রেট ও উপরের নির্দেশ’ নামক অদৃশ্য কারণ দেখিয়ে রেখে দিয়েছে।
এসময় কমিটির সদস্য সচিব এ.জেড.এম. আছাফদ্দৌলা সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমার কাছে এক কপি আছে। আমরা ডে লেবার কর্মচারীদের সেইভাবে নির্দেশনা দিয়েছি এবং সাক্ষাৎকারে প্রয়োজনীয় কাগজও উপস্থিত করার নির্দেশনা দিয়েছি। কাজ চলমান। নোটিশে কিছু শর্ত থাকায় উপরের নির্দেশে রেস্ট্রিকটেড। আপনি আহ্বায়কের সঙ্গে কথা বলে দেখেন। অনেক সাংবাদিক এসেছে, অনুমতি ছাড়া এটা আমি দিতে পারি না।”
জানতে চাইলে কমিটির আহ্বায়ক ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন বলেন, “আমার কাছে একটা পার্সোনাল কপি আছে কিন্তু এটা তো আমি দিতে পারি না। এটার জন্য রেজিস্ট্রার অফিসে যোগাযোগ করুন। রেজিস্ট্রার অফিসে যোগাযোগ করে সেখান থেকে নিতে হবে। রেজিস্ট্রার যদি দিতে অস্বীকৃতি জানায় সেটা রেজিস্ট্রারের ব্যাপার। ব্যক্তিগত উদ্যেগে আমি দিতে পারি না, একটা দায়িত্ব আমাকে দিয়েছে, সে দায়িত্বের জায়গা থেকে এটা আমার পার্সোনাল চিঠি। সেই চিঠি আমি তো হস্তান্তর করতে পারি না।”
এবিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, “ভাইস চ্যান্সেলরের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই মর্মে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। ক্লিয়ার? তবে একটা কমিটি গঠন করা হয়েছে সেখানে কিছু টার্মস এন্ড কন্ডিশন দেওয়া হয়েছে এবং সেই কমিটি কাজটা করে যাচ্ছে। তাদের সেই ফ্রিডম দেওয়া আছে। এই মুহূর্তে কমিটি এগুলো (কন্ডিশন) ডিসক্লোস করবে কি করবে না—সেটা কমিটির ব্যাপার। সাধারণত এই ধরনের কমিটির তথ্যগুলো সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পাবলিশ হয় না। কমিটির ব্যাপারে যেকোনো সাংবাদিক জানতে পারেন এতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নাই।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









