জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য কর্মসূচিকে ঘিরে কুড়িগ্রামে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জেলার মূলধারার গণমাধ্যমকর্মীদের বাদ দিয়ে বাছাইকৃত ও পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে অবহিতকরণ সভা এবং প্রেস কনফারেন্স আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জেলার বিভিন্ন জাতীয় ও মূলধারার গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
আগামী ২৮ জুন অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ (প্রথম রাউন্ড) উপলক্ষে গত বুধবার (২৪ জুন) সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এক অবহিতকরণ সভা এবং পরে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ উঠেছে, জেলার অধিকাংশ জাতীয় ও মূলধারার সংবাদমাধ্যমকে এই কর্মসূচিতে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি। বরং সীমিত পরিসরে পছন্দের কয়েকজন ব্যক্তিকে নিয়ে অত্যন্ত দায়সারাভাবে প্রেস কনফারেন্সের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়েছে।
জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের মতে, জনসচেতনতা সৃষ্টির প্রধান মাধ্যম হলো গণমাধ্যম। শিশুস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট এমন একটি জাতীয় কর্মসূচিতে মূলধারার সাংবাদিকদের উপেক্ষা করা শুধু দায়িত্বহীনতার পরিচয়ই নয়, বরং এটি জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের শামিল।
ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি তামজিদ হাসান তুরাগ একে সিভিল সার্জনের 'পরিকল্পিত স্বজনপ্রীতি' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, কুড়িগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য সচিব মনোয়ার হোসেন লিটন এবং ইউনাইটেড প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক রাশিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন যে, সিভিল সার্জন বরাবরই মূলধারার সাংবাদিকদের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি থেকে দূরে রাখেন এবং তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে একটি অস্বচ্ছ প্রবণতা বজায় চলেন। সাংবাদিকদের দাবি, এই ধরনের পক্ষপাতমূলক পন্থার কারণে সরকারের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমও কাঙ্ক্ষিত প্রচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তবে এই বৈষম্য ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার চৌধুরী তাঁর দায় অস্বীকার করে বলেন, "আমি মূলধারার সাংবাদিকদের ডাকতে বলেছিলাম। আমার অফিসের স্টাফরা তা করে নাই।" ভবিষ্যতে যেন মূলধারার কোনো সাংবাদিক এমন জাতীয় কর্মসূচি থেকে বাদ না পড়েন, তা গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









