বিমান বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে বৃহত্তর বগুড়ায় মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) তৈরির কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন প্রকল্প ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে।
বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আগামী ১০ বছরে প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর এবং যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে। একই সঙ্গে জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাহিনীর সক্ষমতা আরও জোরদার হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল এবং সাবমেরিন সংযোজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন) প্রতিষ্ঠার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং বৈদেশিক নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের লক্ষ্যেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিকস এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। পাশাপাশি বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নেও সরকার কাজ করছে।
নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষায় সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে তিন বছর ও সাত বছর মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ দিকে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকৃত বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং বিনিয়োগ রূপান্তর নিশ্চিত করতে ‘বাংলাবিজ’ প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগ প্রস্তাব গ্রহণ, যাচাই-বাছাই ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ ও সমন্বিত করা হবে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে মিয়ানমারের সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ ও আলোচনা সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। তিনি বলেন, রাখাইন রাজ্যে স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি এবং মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির মধ্যে কার্যকর সংলাপ এ সংকট সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ।
বিদেশে কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বিকল্প শ্রমবাজার সম্প্রসারণে মালয়েশিয়ার পাশাপাশি থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। থাইল্যান্ডে কর্মী নিয়োগসংক্রান্ত চুক্তির চূড়ান্ত খসড়াও পাঠানো হয়েছে।
শেয়ারবাজার নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ধারাবাহিক দরপতনের কারণ অনুসন্ধানে বিভিন্ন তদন্ত ও পর্যালোচনা হয়েছে। দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান চলছে এবং কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, শেয়ারবাজারে কারসাজি, অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোট ১ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা জরিমানা করেছে।
চট্টগ্রাম ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বৈষম্য দূর করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকেও আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিমা খাতে প্রতারণার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএতে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত অভিযোগগুলো তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









