কারবালার আদর্শ, নৈতিক নেতৃত্ব, সামাজিক ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রগঠনে ইসলামের শিক্ষা তুলে ধরতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ‘দ্য এন্ডিউরিং লেগাসি অব কারবালা: টুওয়ার্ডস এথিক্যাল লিডারশিপ, সোশ্যাল জাস্টিস অ্যান্ড স্টেট-বিল্ডিং’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে প্রজ্ঞাপথ সোসাইটি আয়োজিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমীর-ই তেহরিক-ই-খতম-ই নবুয়াত বাংলাদেশ মুফতি ড. সৈয়দ মোহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী ওয়া সিদ্দিকী (পীরসাহেব জোনপুরী)। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উত্তর আমেরিকা মুসলিম জোটের সভাপতি ও যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যামফোর্ডের রহমাতুল্লিল আলামিন জামে মসজিদের খতিব শাইখ মুহাম্মদ সাইফুল আযম আল-আজহারী।
বিশেষ অতিথি ছিলেন দরবার-ই-বাড়িয়া শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন ও তোহফা ফর ম্যানকাইন্ড এবং দারুল হিকমাহ গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা মুফতি সৈয়দ সাইফুল ইসলাম বারী এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ও সেন্টার ফর এক্সেলেন্স ইন টিচিং অ্যান্ড লার্নিং (সিইটিএল)-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুল্লাহ।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সেমিনারের কার্যক্রম শুরু হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতি ড. সৈয়দ মোহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বলেন, ‘‘কারবালার ঘটনা ছিল ন্যায়, আমানত ও সত্য প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। ইমাম হোসাইন (রা.) আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সত্য রক্ষার জন্য আত্মত্যাগ করেছিলেন। কারবালার শিক্ষা হলো জুলুম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান গ্রহণ করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় থাকা।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘কোরআন ও সুন্নাহভিত্তিক আদর্শ রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই মানবকল্যাণের পথ। ব্যক্তি ও রাষ্ট্র—উভয় পর্যায়েই ইসলামের ন্যায়নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন।’’
মূল প্রবন্ধে শাইখ মুহাম্মদ সাইফুল আযম আল-আজহারী বলেন, ‘‘আত্মপরিচয়, আল্লাহর প্রতি দায়বদ্ধতা এবং তার বিধান অনুসরণের মধ্যেই প্রকৃত মানসিক শান্তি ও নৈতিক নেতৃত্বের ভিত্তি নিহিত।’’
তিনি অপপ্রচার থেকে দূরে থেকে ইসলামের আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, ‘‘কারবালার শিক্ষা সত্য, ত্যাগ ও ন্যায়ের শিক্ষা। ইমাম হোসাইনের আদর্শ ধারণ করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াই একজন প্রকৃত মুমিনের দায়িত্ব।’’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘ধর্মের অপব্যবহারকারীদের চিহ্নিত করে সত্য ও ন্যায়ের পথে সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব তরুণদেরই নিতে হবে।’’
সেমিনারে জিএম এস আহম্মদ রেজার রচিত ‘এসো সুন্নাহ শিখি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন অতিথিরা।
পরে কুইজ ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয় এবং বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









