মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) কে ৩০০ একরের আধুনিক ক্যাম্পাসে রূপান্তরের লক্ষ্যে বৃহৎ অবকাঠামোগত উন্নয়ন পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এবিএম শহীদুল ইসলাম। পরিকল্পনার আওতায় নতুন পাঁচটি আবাসিক হল, ১,৫০০ আসনের অডিটোরিয়াম, শিক্ষক-শিক্ষার্থী কেন্দ্র (টিএসসি), স্পোর্টস জোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কম্পিউটার ল্যাব ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার নির্মাণ করা হবে।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ২৩তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব পরিকল্পনার কথা জানান।
ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য স্মার্ট কার্ড চালু করা হবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন ৩০০ একরে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
আবাসন সংকট নিরসনে তিনটি ছেলেদের এবং দুটি মেয়েদের আবাসিক হলসহ মোট পাঁচটি নতুন হল নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
তিনি বলেন, “বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম ও শিক্ষক-শিক্ষার্থী কেন্দ্র (টিএসসি) নেই। তাই প্রায় ১,৫০০ শিক্ষার্থী ধারণক্ষমতার একটি আধুনিক অডিটোরিয়াম, একটি টিএসসি এবং একটি স্পোর্টস জোন নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।”
এ ছাড়া তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ৩০টি কম্পিউটার সমৃদ্ধ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) একটি আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব এবং একটি স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রায় ৫০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। চারটি ধাপে (ফেজে) পর্যায়ক্রমে এসব উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হবে।”
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি নিয়মিত পড়াশোনার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিদিন অন্তত দুই ঘণ্টা অধ্যয়ন ও এক ঘণ্টা লেখালেখির অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।
র্যাগিংয়ের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “কোনো নবীন শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন বা হয়রানি করা হলে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য আগামী ১৮ থেকে ২১ জুলাই চার দিনব্যাপী গ্রুমিং সেশনের আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।”
উল্লেখ্য, বুধবার (১৫ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ২৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে বিভাগগুলো পৃথকভাবে নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে ভাইস চ্যান্সেলরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মনির মোর্শেদ, শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিমসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









