রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব বলেছেন, ৭০ শতাংশ মানুষ যখন সংস্কারের পক্ষে রায় দেন তখন কার কোথায় ‘নোট অব ডিসেন্ট’ ছিল সেই আলাপ এখন আর প্রাসঙ্গিক নয়। রাজনীতির হিসাব যাই হোক নিজেদের ভালো বুঝলে আল্লাহর ওয়াস্তে সংস্কারের বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান নেবেন না।
রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনের গগন হরকারা গ্যালারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াতপন্থী শিক্ষক সংগঠন গ্রীন ফোরাম–এর আয়োজিত ‘চব্বিশের জুলাই: জন-আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনার প্রধান আলোচকের বক্তব্যে অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব এসব কথা বলেন।
ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, যারা আইন ভালো বোঝেন, সুপ্রিম কোর্টের উচ্চ পর্যায়ে যারা আছেন—আপনারা যখন একবার সংস্কারের পক্ষে রাজি হয়েছেন এবং বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে, তখন এর বিরুদ্ধে যেকোনো বক্তব্যই কেবল বাজে অজুহাত। এই সংস্কার যদি আপনাদের হাত দিয়ে হয়, তবে আপনারা যে রাজনৈতিক সুবিধা অর্জন করবেন, এর বিরুদ্ধে দাঁড়ালে তার চেয়ে শতভাগ বেশি রাজনৈতিক সুবিধা হারাবেন।
২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের সাফল্য ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান শতভাগ সফল হয়েছে, কারণ এর মূল উদ্দেশ্য ছিল স্বৈরশাসনের অবসান। এটি কোনো দুই মাসের আন্দোলন ছিল না; ১৬ বছরের অপশাসনের প্রতিটি অবিচার, অন্যায় এবং বঞ্চনার মাধ্যমে এর উপাদানগুলো দানা বেঁধেছিল। সকল আন্দোলন ছিল মূলত ইনসাফ, সুবিচার ও আত্মমর্যাদার জন্য লড়াই।
রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা ও তরুণ সমাজের অবদানকে স্মরণ করে করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো দীর্ঘ লড়াই করলেও স্বৈরশাসনের পতন ঘটাতে পারেনি, যা বিরোধী দলগুলোর ব্যর্থতা। কিন্তু তরুণরা রাস্তায় নেমে রক্ত দেওয়া শুরু করলে সাধারণ মানুষ তাদের ওপর আস্থা রাখে। তাই দেশের এই চূড়ান্ত খেলাটি খেলেছে আমাদের তরুণ সমাজ ও ছাত্র-জনতা। প্রবীণ রাজনীতিকদের এই সত্যের স্বীকৃতি দিতে হবে। তরুণদের কল্যাণেই আজকে আপনারা সুদিনের দেখা পেয়েছেন, তাই মনে রাখবেন—তারা পেরেছেন এবং দেশ ঠিকমতো না চললে তারা আবারও পারবে।
সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রীন ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ্জ হোসেন। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান। সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









