রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রশাসনের প্রথম চাকরি যেন জুলাই যোদ্ধাদের দিয়েই শুরু হয় এমন ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: তারুণ্যের প্রত্যয়, গণতন্ত্রের অঙ্গীকার, নতুন বাংলাদেশের অভিযাত্রা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উপাচার্য বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের কষ্টের কথা শুনলাম। নবনিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দিয়ে যেন তাদের প্রথম চাকরির ব্যবস্থা শুরু হয়—সেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা ও দুই সহস্রাধিক প্রাণের বিনিময়ে আমরা যে অর্জন পেয়েছি, সেই জুলাইয়ের যোদ্ধা ও এর ট্রমা বয়ে বেড়ানো প্রত্যেককে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। আজকের এই আলোচনা সভায় যারা উপস্থিত আছেন, তারা সবাই এই জুলাইয়ের অংশীদার। জুলাইয়ের এই অর্জনকে ধারণ করেই আমাদের আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি রোধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য বলেন, চব্বিশে ফ্যাসিবাদ বিদায় নিয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি, ফ্যাসিবাদীরা আবারও মুচকি হাসা শুরু করেছে। ফ্যাসিবাদীরা তখনই সুযোগ পাবে, যখন আমাদের ভেতরে বিভেদ সৃষ্টি হবে। তাই আমি আহ্বান জানাচ্ছি, আমরা এমন কোনো কাজ করব না যাতে তাদের মুচকি হাসার সুযোগ তৈরি হয়। জুলাই যোদ্ধাদের রক্ত যেন কোনোভাবেই বৃথা না যায়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। জনসংযোগ দপ্তর প্রশাসকের ব্যবস্থাপনায় সকালে সিনেট ভবন প্রাঙ্গণে আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও ডকুমেন্টারি উদ্বোধনের মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রক্টরের ব্যবস্থাপনায় একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়, যা সিনেট ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রায় শিক্ষক, গবেষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
এরপর কৃষি প্রকল্পের ব্যবস্থাপনায় সিনেট ভবনের সামনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং চারুকলা অনুষদের ডিনের ব্যবস্থাপনায় মুক্তমঞ্চে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: রং-তুলিতে মুক্ত স্বদেশ’ শীর্ষক আর্ট ক্যাম্প উদ্বোধন করা হয়।
সবশেষে বেলা ১১টায় সিনেট ভবনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক এ এইচ এম খুরশীদ আলমের সঞ্চালনায় ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. আবদুল আলিম।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, শিক্ষক-কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
দিবসের শেষভাগে বাদ আসর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে শাহ্ মখদুম হলের প্রাধ্যক্ষের ব্যবস্থাপনায় শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন রাখা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









