টানা তিন দিনের রাজনৈতিক উত্তেজনা, দফায় দফায় সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের পর এবার ভিন্ন এক চিত্র দেখা গেল রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ক্যাম্পাসে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজিত শোভাযাত্রা, বৃক্ষরোপণ ও স্মরণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচিতে একই মঞ্চে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল থেকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে দিবসটি উপলক্ষে নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে বৃষ্টির মধ্যেই ছাতা হাতে শিক্ষার্থীরা আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশ নেন। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবু সাঈদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়।
উত্তেজনাপূর্ণ সেই পরিস্থিতির পর জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের কর্মসূচিতে দুই ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি অংশগ্রহণ করতে দেখা যাওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্বস্তির অনুভূতি তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, মতপার্থক্য থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ বজায় রাখতে পারস্পরিক সহনশীলতা ও সহাবস্থানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বেরোবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আব্দুর রাকিব মুরাদ বলেন, “ছাত্রদল কোনো কর্মসূচি করেছে, এমন কোনো সময় আমরা বাধা দিইনি। আগেও দিইনি, এখনও দিচ্ছি না। আমরা চাই ক্যাম্পাসে সহাবস্থান ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় থাকুক। একই সঙ্গে আমরা আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে লেখা ‘শিবিরমুক্ত ক্যাম্পাস’ স্লোগানটি দ্রুত মুছে ফেলা হবে।’’
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ইয়ামিন ইসলাম বলেন, ‘‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নতুন পথে এগিয়েছে। সেই ঐক্যের চেতনাকে ধারণ করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। মতবিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু তা যেন কখনো সহিংসতায় রূপ না নেয়। আমরা সবাই মিলে একটি সুন্দর, গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে চাই।’’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ‘‘আজ আমাদের জন্য আনন্দের দিন। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশে যে নতুন গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তার স্মরণে আমরা এই কর্মসূচির আয়োজন করেছি। আমি আনন্দিত যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে অংশ নিয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে বলে আমরা আশা করি।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘তারুণ্যের শক্তি ও ঐক্যই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। বিশ্ববিদ্যালয় সেই ঐক্য ও সম্প্রীতির চর্চার ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’’
উল্লেখ্য, সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে একটি ছবি প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন, যার মধ্যে কয়েকজনের আঘাত গুরুতর ছিল। সংঘর্ষের পর উভয় সংগঠন একই স্থানে পৃথক কর্মসূচির ঘোষণা দিলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং ১৪৪ ধারা জারির আবেদনও করা হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









