সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার মোজাফফর হোসেনের ফেসবুক ও মেসেঞ্জার অ্যাকাউন্টের তথ্য চেয়ে মেটার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে তার যোগাযোগের তথ্য এবং মুছে ফেলা বার্তা উদ্ধারের উদ্দেশ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, মোজাফফর হোসেন মেসেঞ্জারের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। এছাড়া নির্দিষ্ট কিছু ফেসবুক গ্রুপেও তার কথোপকথনের তথ্য রয়েছে। এসব বার্তা সংগ্রহ এবং মুছে ফেলা কথোপকথন পুনরুদ্ধারের জন্য ই-মেইলের মাধ্যমে মেটার কাছে আনুষ্ঠানিক সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মোজাফফরের সঙ্গে ২০০৭ সালের সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রভাবশালী কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি জানান, পলাতক অবস্থায় মোজাফফর একাধিকবার প্রতিবেশী দেশে যাতায়াত করেছেন এবং গত ১৬ বছর ধরে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর গত ১৬ জুলাই মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরে তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় গত ২৩ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ (আইসিটি) তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন। একই মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীও বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে হেফাজতে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানা ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।
বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে মোজাফফর হোসেন সেনা হেফাজতে রয়েছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের অনুমতি দেওয়া হলেও তদন্ত সংস্থা এখনো জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেনি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









