যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) সঙ্গে বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের সমঝোতা শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, গবেষণার সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থানমুখী দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
বুধবার (৫ আগস্ট) যবিপ্রবিতে আয়োজিত ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া পারস্পরিক সহযোগিতা’ বিষয়ক সেমিনার এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশের পাঁচটি ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যবিপ্রবির ন্যানোমেটেরিয়ালস অ্যান্ড এনভাইরোনমেন্টাল মেটেরিয়ালস (নেম) ল্যাবের সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। যবিপ্রবির পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কাজী মো. জালাল উদ্দীন ও ইন্ডাস্ট্রিগুলোর পক্ষে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর।
অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘‘শিল্পখাত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ ধরনের অংশীদারিত্ব শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী শিক্ষা, গবেষণা এবং কর্মক্ষেত্রের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করবে।’’
তিনি বলেন, ‘‘বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যবিপ্রবির এই সহযোগিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণাকে আরও যুগোপযোগী করবে এবং শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি করবে।’’
ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়ার মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান লাভবান হবে বলে উল্লেখ করে যবিপ্রবি উপাচার্য বলেন, ‘‘এই সমঝোতার ফলে তাত্ত্বিক শিক্ষা ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যবর্তী দূরত্ব দূর হবে, যা শিক্ষার্থী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শিল্পখাত উভয়ের জন্যই এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই শিল্প খাতের আধুনিক প্রযুক্তি ও কাজের পরিবেশের সাথে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি ইন্টার্নশিপ ও সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ইন্ডাস্ট্রির চাহিদা অনুযায়ী তাদের কারিকুলাম সংস্কার করতে পারবে এবং বিভিন্ন যৌথ গবেষণার জন্য ফান্ডিং ও কারিগরি সহায়তা পাবে। শিল্প খাতও সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রস্তুত ও দক্ষ মানবসম্পদ নিয়োগের সুবিধা পাবে, যা তাদের কর্মীদের প্রশিক্ষণ খরচ কমাবে এবং একাডেমিক গবেষণাকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়িক নানা চ্যালেঞ্জের নতুন ও উদ্ভাবনী সমাধান খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।’’
যবিপ্রবির নেম ল্যাবের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে ফেয়ারমেট কেমিক্যাল লি., রাখি কসমেটিকস অ্যান্ড কনজুমার প্রডাক্ট’স, লুমিনাস গ্রুপ লি., নর্দান এগ্রো সার্ভিস লি., রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশনের (আরআরএফ) গ্রিন বায়োটেক টিস্যু কালচার ল্যাবের (জিবিটিসিএল)। এছাড়া আরও ৫২ টি ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে নেম ল্যাবের সমঝোতা স্মারক দ্রুতই সই হবে বলে জানান নেম ল্যাবের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসাইন খান।
সমঝোতা স্মারক সইয়ের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহম্মদ ফারুক হাসান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদের ডিনবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানবৃন্দ, যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর সভাপতি মো. মিজানুর রহমান, নেম ল্যাবের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসাইন খান, ফেয়ারমেট কেমিক্যাল লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইঞ্জি. দেবাশীস বড়ুয়া, রাখি কসমেটিকস অ্যান্ড কনজুমার প্রডাক্ট’স-এর সিও ভিক্টর সাহা, লুমিনাস গ্রুপ লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাকিব হোসাইন, নর্দান এগ্রো সার্ভিস লিমিটেডের পরিচালক সাকিব ফরহাদ, যশোর ফুল উৎপাদক ও বিপণন সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. আব্দুর রহিমসহ দেশের স্বনামধন্য বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির প্রধানগণ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









