জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ৪ আগস্টের সংঘর্ষে আহত জকসু ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা চিকিৎসা শেষে ক্রাচে ভর করে ক্যাম্পাসে ফিরেছেন।
রবিবার (৯ আগস্ট) ক্যাম্পাসে এসে তারা বিভিন্ন বিভাগের শ্রেণিকক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের ভয়-শঙ্কা কাটিয়ে স্বাভাবিকভাবে ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন নেতারা।
আহত অবস্থায়ও ক্লাসে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার বিষয়ে নেতারা বলেন, ৪ আগস্টের ঘটনার পর অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে ভয় ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাদের সেই ভয় কাটানো এবং ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন তারা।
এ সময় নেতারা বলেন, “এই ক্যাম্পাসে কেউ ভয়ের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না। আপনারা আমাদের শক্তি। আপনাদের ভয়ের কোনো কারণ নেই। জকসু শিক্ষার্থীদের পাশে থেকেছে, সব সময় থাকবে।”
তারা আরো বলেন, “আমাদের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস অবশ্যই সেনাবাহিনীর হাতে দিতে হবে। অন্যথায় একটি গোষ্ঠী লুটপাট করে খাওয়ার সুযোগ পাবে। আপনাদের মনোবল ধরে রাখতে হবে।”
জকসুর এজিএস মাসুদ রানা বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও সম্পূর্ণ সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাসের দাবি অনেক আগে থেকেই জানিয়ে আসছি। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনার পর তাদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি কাজ করছে বলে আমরা মনে করছি। এ কারণে শনিবার সকালে আমরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেছি এবং আমাদের দাবিগুলোর পক্ষে তাঁদের পাশে থাকার কথা জানিয়েছি।”
তিনি আরো বলেন, “এ সময় আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গেও কথা বলেছি। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। আমরা চাই, ক্যাম্পাসে সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক এবং তাঁরা কোনো ধরনের ভয় বা শঙ্কা ছাড়াই ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন।”
জকসুর জিএস ও শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফও হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে ফেরেন। তবে তার চিকিৎসা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। সেলাই কাটাসহ আরও কিছু চিকিৎসা বাকি রয়েছে বলে জানান তিনি।
আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, “বর্তমানে আমি সুস্থ বোধ করছি এবং ক্যাম্পাসে আসতে পারছি, এটিই আমার জন্য সবচেয়ে বড় পাওয়া। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে এসেছি। তবে চিকিৎসা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। সেলাই কাটাসহ আরও কিছু চিকিৎসা বাকি রয়েছে।”
ক্যাম্পাসে ফেরার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, “নির্বাচিত প্রতিনিধি ও ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করা, তাদের অভয় দেওয়া এবং সৌজন্য সাক্ষাৎ করাই ক্যাম্পাসে আসার মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে আমরা উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। আমাদের অন্যতম কর্মসূচি ছিল উপাচার্যের কাছে সরাসরি প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি জানানো।”
ক্যাম্পাসের পরিবেশ সম্পর্কে আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর পরিবেশ মোটামুটি স্বাভাবিক দেখেছেন তিনি। তবে কিছু অছাত্রকে ক্যাম্পাসে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে বলেও দাবি করেন তিনি। ক্যাম্পাসের পরিবেশ যাতে উত্তপ্ত বা অস্থিতিশীল না হয়, সে জন্য তাঁদের পক্ষ থেকে মিছিল, মিটিং ও শোডাউনসহ সব ধরনের কর্মসূচি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ৪ আগস্টের সংঘর্ষে জকসু ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। পরে তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ঘটনার পাঁচ দিন পর আহত নেতাদের ক্রাচে ভর করে ক্যাম্পাসে ফিরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
নেতাদের ভাষ্য, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভয়-শঙ্কামুক্ত পরিবেশে ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









