সব প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকলেও পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউরেনিয়ামের নির্ধারিত চালান দেশে আসেনি। চালানটি ২৪ সেপ্টেম্বর পৌঁছানোর কথা ছিল। নতুন সূচি অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে ইউরেনিয়াম আনা শুরু হতে পারে।
সোমবার সাংবাদিকদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, পাকিস্তানের ছাড়পত্র না পাওয়ায় নির্ধারিত ফ্লাইটটি আসতে পারেনি। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রসাটম নতুন করে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে চালান আনার সময়সূচি দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে ইউরেনিয়াম পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব রাশিয়ার বলে জানান তিনি। তবে সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম ইউনিটে এক বছর পর জ্বালানি পুনরায় ভরার জন্য ৪৮টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি দুইটি ফ্লাইটে আনার পরিকল্পনা ছিল। এর একটি ২৪ সেপ্টেম্বর এবং অন্যটি ১ অক্টোবর পৌঁছানোর কথা ছিল। প্রথম ফ্লাইটটি স্থগিত হওয়ায় এখন ১ অক্টোবর থেকে চালান আনার নতুন সূচি দেওয়া হয়েছে।
একই সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের প্রাথমিক জ্বালানি আনতে ৮ অক্টোবর থেকে প্রতি সপ্তাহে একটি করে মোট সাতটি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ইউনিটের জ্বালানি ২০২৩ সালে কয়েকটি চালানে আনা হয়েছিল। দ্বিতীয় ইউনিটের ক্ষেত্রেও একইভাবে পুরো জ্বালানি আনা হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম পরিবহনের নির্ধারিত রুটে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতের আকাশসীমা রয়েছে। চালান গ্রহণ ও রূপপুরে পৌঁছানোর জন্য বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। তবে ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে রসাটম জানায়, রুটের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া যায়নি।
এদিকে সোমবার পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। রূপপুরের ইউরেনিয়াম পরিবহনে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। হাইকমিশনারের সঙ্গে এটি ছিল তার প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ। আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









