ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী দক্ষতা বৃদ্ধি এবং চাকরির বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরিতে ক্যাম্পাসে ‘ক্যারিয়ার হাব’ স্থাপনের লক্ষ্যে ব্র্যাকের সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। চুক্তিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী এবং ব্র্যাকের পক্ষে হিউম্যান ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট ক্লাস্টারের সিনিয়র ডিরেক্টর সাফি রহমান খান স্বাক্ষর করেন।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান, সেন্ট্রাল ল্যাবের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. জাহিদুল ইসলাম এবং প্রশাসন গঠিত কমিটির আহ্বায়ক কাজী মোস্তফা আরিফ-সহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ব্র্যাকের প্রতিনিধি হিসেবে সাফি রহমান খান, ক্যারিয়ার হাব প্রজেক্টের ম্যানেজার জে. এম. সাইফুল ইসলাম, ক্যারিয়ার হাবের ম্যানেজার (এমপ্লয়মেন্ট) মো. আলিউল আজীম, খুলনা ব্রাঞ্চের ম্যানেজার আদিব আহসান শান্তু, ক্যারিয়ার কাউন্সিলর ফারহা রহমান এবং সাজ্জাদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, এই ক্যারিয়ার হাবের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষ থেকে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার প্রস্তুতি, প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং, প্রশিক্ষণ, কর্মশালার আয়োজন, কর্পোরেট সংযোগ এবং চাকরি প্রাপ্তিতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে, যা শিক্ষার্থীদের দক্ষতার ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের প্রজেক্ট ম্যানেজার জে. এম. সাইফুল ইসলাম বলেন, “দেশে উচ্চশিক্ষিত বা গ্র্যাজুয়েটদের বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি; প্রতি তিনজনে একজন বেকার। এই সংকট নিরসনে ব্র্যাক ২০২০ সাল থেকে ক্যারিয়ার হাব পরিচালনা করছে, যার মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৫ হাজার ৪০০ জনের বেশি তরুণকে সরাসরি কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এই হাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত কাউন্সেলিং, সিভি রিভিউ, মক ইন্টারভিউ, অন-স্পট ইন্টারভিউ এবং উদ্যোক্তা ও বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।”
এ বিষয়ে ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান বলেন, “শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক সনদ প্রদানের মধ্যে শিক্ষা সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে দক্ষ, পেশাদার এবং কর্মসংস্থান উপযোগী প্রকৃত মানবসম্পদে রূপান্তর করাই বর্তমান প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। অদূর ভবিষ্যতে বেকারত্বের হার বহুগুণ বৃদ্ধির যে ঝুঁকি রয়েছে, তা মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের আধুনিক কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত করার পাশাপাশি দেশে ক্রমবর্ধমান উচ্চশিক্ষিত বেকারত্ব নিয়ন্ত্রণে সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে কার্যকর কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









