‘জীবনের অভিজ্ঞতা শুনি: সত্যিকারের কথা, সত্যিকারের পরিবর্তন’ প্রতিপাদ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে।
রবিবার (১১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে র্যালি, মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন, পরামর্শসেবা, সেমিনার ও কর্মশালার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।
সকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
র্যালি শেষে শহীদ মিনার চত্বরে মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে স্থাপিত মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন স্টল পরিদর্শন করেন উপাচার্য। দিনব্যাপী এসব স্টলে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষণ্ণতা ও আত্মসম্মানবোধ মূল্যায়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের মধ্যেই মানসিক স্বাস্থ্যচর্চাকে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; বরং এটিকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও সমান গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞান বিভাগ থাকলেও জাতীয় পর্যায়ে এ খাতের পেশাগত গুরুত্ব ও যথাযথ মূল্যায়নের সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন উপাচার্য। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে কতটুকু সংস্কার হয়েছে এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে কী ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশার প্রবণতা কমাতে আবাসনসংকট ও চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতার মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে বাস্তবধর্মী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। উপাচার্য আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রামে মানসিক স্বাস্থ্য কাউন্সেলিংয়ের জন্য নতুন পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টিও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফাতেমা-তু-জোহরা বিনতে জামানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম এবং মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুদ্দীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. আশোক কুমার সাহা। বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মাদ ও অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আকরাম উজ্জামান। এছাড়া মনোবিজ্ঞান বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নবগঠিত কমিটির সভাপতি আরিফুল হক, সহসভাপতি এম. সুজাউল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাব্বাত হোসেনসহ কমিটির অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









