শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই আদর্শে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান।
তিনি বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীতের ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রশাসনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা, যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম প্রণয়ন এবং দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে তাদের গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।"
আজ শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) সকালে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আয়োজিত কর্মসূচিতে সভাপতির বক্তব্য প্রদানকালে উপাচার্য এসব কথা বলেন।
ড. মতিনুর রহমান আরও বলেন, "দেশ, জাতি ও বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুনভাবে পুনর্গঠনে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি সমৃদ্ধ ও আদর্শিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।"
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে বিগত সময়ে জুলুম-নির্যাতন ও গুমের শিকার ব্যক্তি এবং মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে আত্মত্যাগকারী শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
এর আগে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালনে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সকাল ১০টায় প্রশাসন ভবন চত্বরে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন। এ সময় ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে উপাচার্য আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
উদ্বোধন শেষে সকাল সাড়ে ১০টায় প্রশাসন ভবন চত্বর থেকে উপাচার্যের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় সভাপতি, হলসমূহের প্রভোস্ট ও হাউজ টিউটর, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। র্যালিটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) কর্তৃক স্থাপিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ভিত্তিপ্রস্তরস্থলে গিয়ে শেষ হয়।
র্যালি শেষে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ভিত্তিপ্রস্তরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন উপাচার্য। পরে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন হল, বিভাগ, পরিষদ এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পেশ ইমাম মো. আশরাফ উদ্দিন খান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ অফিসের উপ-পরিচালক রাজিবুল ইসলামের সঞ্চালনায় দিনব্যাপী এসব কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









