যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পালিত হয়েছে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের প্রথম দিন শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) সকালে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন এবং এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় সংগীতের সুরের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা। একই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ।
পতাকা উত্তোলন শেষে অনুষ্ঠিত সংক্ষেপ আলোচনা সভায় ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, দিবসটির জাতীয় গুরুত্ব এবং স্বাবলম্বী জাতীয় ঐক্যের তাৎপর্য তুলে ধরা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা বলেন, "১৯৭১ সালে এ দেশের সাধারণ মানুষ যে আশা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিল, স্বাধীনতা পরবর্তীতে সেই চাওয়া-পাওয়ার ফারাকে মানুষের মনে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর দেশে এক বিশৃঙ্খল পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ে। সেই ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করা হয়। পরবর্তীতে ৭ নভেম্বর সিপাহি ও জনতার অভূতপূর্ব ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের মাধ্যমে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই নেতাকে মুক্ত করা হয়। সেদিন আন্দোলনরত সিপাহি-জনতা তাঁকে কাঁধে তুলে উল্লাস প্রকাশ করেছিল।"
ঐক্যবদ্ধ শক্তির ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্মরণ করিয়ে দিয়ে ট্রেজারার আরও বলেন, "সেনাবাহিনী ও দেশের সাধারণ জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ালে জাতির গতিপথ পরিবর্তন সম্ভব। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এ সত্য বারবার প্রমাণিত হয়েছে। এখন সবার সম্মিলিত ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তুলতে পারলেই এই দিবসের আসল তাৎপর্য ফলপ্রসূ হবে।"
দিবসটি উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. তানজিল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলম। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্যসচিব মামুন সরকার বক্তব্য প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রাজু আহমেদ, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার খন্দকার নাজমুল হাসান, আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. এ এইচ এম কামাল, বিদ্রোহী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা, অর্থনীতি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. বখতিয়ার উদ্দিন ও প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরতে আগামী বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃহৎ পরিসরে প্রধান আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









