শিক্ষকদের পদোন্নতি নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা ও টানা আন্দোলনের মধ্যেই নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি)। চলমান সংকটের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. রাহাত হোসাইন ফয়সাল এবং সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়সার। তারা দুজনই সহযোগী অধ্যাপক এবং অধ্যাপক পদে পদোন্নতি প্রত্যাশী ছিলেন।
রবিবার (১০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন প্রক্টর ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল। একই দিন দুপুরে উপাচার্য বরাবর সিন্ডিকেট সদস্যের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদনপত্র জমা দেন ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়সার।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ এপ্রিল থেকে পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলন করছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৬০ জন শিক্ষক। আন্দোলনরত শিক্ষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির বিষয়টি ঝুলে থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিভিন্ন সময়ে উপাচার্য আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, প্রয়োজনীয় সংবিধি ও নীতিমালা প্রণয়ন ছাড়া শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া আইনগতভাবে সম্ভব নয়।
পদোন্নতি জটিলতা নিরসনে গত শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৪তম জরুরি সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আগে সংবিধি প্রণয়ন করা হবে, এরপর শিক্ষকদের পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু হবে। তবে এ সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হতে পারেননি আন্দোলনরত শিক্ষকরা।
রবিবার সকালে আন্দোলনরত শিক্ষকরা বৈঠকে বসেন। বৈঠকের পরই প্রক্টরের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল। একইসঙ্গে সিন্ডিকেট সদস্য পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানান ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়সার।
পদত্যাগের বিষয়ে ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন, “উপাচার্যের কার্যক্রমে আমি, আমার সহকর্মী শিক্ষক ও কর্মকর্তারা গভীরভাবে হতাশ। শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার ও দাবিগুলো বারবার উপেক্ষা করা হয়েছে। বহুবার অনুরোধ করার পরও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই প্রতিবাদস্বরূপ আমি পদত্যাগ করেছি।”
তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিফ করা হবে।
অন্যদিকে সিন্ডিকেট সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়সার বলেন, “সিন্ডিকেট সভায় আমি শিক্ষকদের পক্ষে কথা বলেছি। কিন্তু তাদের দাবিগুলো গুরুত্ব পায়নি। বারবার বিষয়টি তুলে ধরার পরও তা উপেক্ষিত হয়েছে। এ কারণে আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, “আমার কাছে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পদত্যাগপত্র পৌঁছায়নি। তবে তারা মৌখিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির বিষয়টি জানিয়েছিলেন।”
এদিকে শিক্ষকদের টানা আন্দোলন ও প্রশাসনিক টানাপোড়েনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। পরিস্থিতি দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









