ময়মনসিংহের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সড়ক সম্প্রসারণের জন্য প্রায় ১০০টি গাছ কাটার পরিকল্পনা করেছে প্রশাসন। অন্যদিকে, সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে ক্যাম্পাসে ৪ হাজার ৫০০ গাছের চারা রোপণেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পুরোনো ছায়াবৃক্ষ কেটে নতুন চারা লাগানোর এই দ্বিমুখী সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও পরিবেশকর্মীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মূল ফটক থেকে ‘চির উন্নত মম শির’ ভাস্কর্য পর্যন্ত সড়কটি সম্প্রসারণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবেই সড়কের দুই পাশের জারুল, সোনালু ও কৃষ্ণচূড়াসহ প্রায় ১০০টি গাছ অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অপর্যাপ্ত গাছের সংখ্যা সত্যেও প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও পরিবেশকর্মীরা। পুরোনো গাছ না কেটে বিকল্প পরিকল্পনার মাধ্যমে সড়ক সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও পরিবেশকর্মী রাতুল মুন্সি বলেন, “এই গাছগুলো ২০১৩ সাল থেকে পরিকল্পিতভাবে তিন ধাপে রোপণ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে প্রশাসন সেই পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি। ‘সবুজ বেষ্টনী’ প্রকল্প অনুমোদন পেলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এখন আবার পুরোনো গাছ কেটে নতুন গাছ লাগানোর উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।”
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রাস্তা সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে কিছু গাছ অপসারণ করা জরুরি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও কর্ম কমিটির সদস্যসচিব প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “উপাচার্যের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত গাছ কাটার সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ভবিষ্যতে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত হলে তা সবাইকে জানানো হবে।”
একদিকে যখন গাছ কাটার পরিকল্পনা চলছে, ঠিক তখনই সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে ক্যাম্পাসে ৪ হাজার ৫০০ গাছের চারা রোপণের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত বুধবার (৬ মে) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠসংলগ্ন এলাকায় গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।
উপাচার্য বলেন, “অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে গাছ লাগানো হয়েছিল। এবার পরিকল্পিতভাবে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণ করা হবে। আগামী পাঁচ বছরে যে ৪ হাজার ৫০০ গাছ লাগানো হবে, তা ক্যাম্পাসের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমে ১ হাজার, ২০২৭ সালে ২ হাজার এবং ২০২৮ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ৫০০টি করে গাছের চারা রোপণ করা হবে।
তবে একদিকে বেড়ে ওঠা পুরোনো গাছ কাটার পরিকল্পনা এবং অন্যদিকে নতুন করে বৃক্ষরোপণের ঘোষণা, প্রশাসনের এই দুই সিদ্ধান্তের মধ্যে সমন্বয় থাকবে কি না, তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









