কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ছয়টি অনুষদে নতুন ডিন নিয়োগকে ‘বিধিবহির্ভূত’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষকদের পদোন্নতি আটকে রাখায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (১২ মে) শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকার এবং সদস্য সচিব সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৬ এবং চেম্বার জজ আদালতের স্থায়ী স্থগিতাদেশ উপেক্ষা করে বিজ্ঞান, কলা ও মানবিক, সামাজিক বিজ্ঞান, প্রকৌশল, বিজনেস স্টাডিজ ও আইন অনুষদে নতুন ডিন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক সমিতির দাবি, এই প্রক্রিয়া আদালত অবমাননার শামিল এবং সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের স্পষ্ট ব্যত্যয়।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের পদোন্নতি বোর্ড সম্পন্ন না করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বা লিয়াজোঁ অফিসের বাইরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভবনে তড়িঘড়ি করে সিন্ডিকেট সভা আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ব্যয় করে এভাবে সভা করারও নিন্দা জানায় সংগঠনটি।
শিক্ষক সমিতির সদস্য সচিব ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন বলেন, ‘আইন ও আদালতের আদেশ আমলে না নিয়ে ডিন নিয়োগ দেওয়ায় শিক্ষকদের মাঝে হতাশা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর সিন্ডিকেট সভা হলেও শিক্ষকদের আপগ্রেডেশন বোর্ড সভা আহ্বান না করে তাদের পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে।’
আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, ‘সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত হয়েছিল আইন বিশেষজ্ঞের মতামত নিয়ে ডিন নিয়োগ দেওয়া হবে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত অমান্য করে জ্যেষ্ঠতা বা বিভাগীয় আবর্তন—কোনো নিয়মই অনুসরণ করা হয়নি। অনেক শিক্ষকের প্রমোশন আটকে রেখে বৈষম্য করা হচ্ছে। আমরা দাবি জানাই, সব শিক্ষকের প্রতি সমান বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’
উল্লেখ্য, গত ৭ মে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৯তম সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং ১১ মে রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে ছয়টি অনুষদে নতুন ডিন নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









