বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। আন্দোলনের অংশ হিসেবে প্রশাসনিক দপ্তরগুলোতে ঝুলিয়ে দেওয়া তালা দুই দিন পর খুলে দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর তৌফিকুল আলম।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে তিনি নিজেই দপ্তরগুলোর তালা খুলে প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলন করছেন অন্তত ৬০ জন শিক্ষক। তাদের অভিযোগ, পদোন্নতি সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবসম্মত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সর্বশেষ গত ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তবে পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায়ও এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়ে।
আন্দোলনরত শিক্ষকদের দাবি, সিন্ডিকেট সভায় তাদের মতামত যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। এ অবস্থায় গত ১০ মে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভা থেকে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয় ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। কয়েকজন শিক্ষক প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়ান।
এরপর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে সৃষ্টি হয় অচলাবস্থা। প্রশাসনিক দপ্তরগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। ফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা।
চলমান পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রশাসনিক দপ্তরগুলোর তালা খুলে দেন উপাচার্য প্রফেসর তৌফিকুল আলম।
এ সময় তিনি বলেন, ‘‘শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। শিক্ষা ও প্রশাসনিক পরিবেশ সচল রাখতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধানে কাজ চলছে।’’
এদিকে, শিক্ষকদের আন্দোলন অব্যাহত থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। দ্রুত সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন তারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









