নাটোরের গুরুদাসপুরে নারীসহ যুবদল নেতা রেজাউল করিমকে (৪২) আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকালে আটক যুবদল নেতাকে নাটোর জেল হাজাতে পাঠানো হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
আটক রেজাউল করিম উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যুবদল নেতার বাড়ি নাজিরপুর ইউনিয়ন সদরে। বুধবার (১৩ মে) রাতে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে হামলাইকোল গ্রামের এক নারীর সাথে অবস্থানকালে গ্রামবাসী তাদের অবরুদ্ধ করে। পরে থানা পুলিশ গিয়ে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, যুবদল নেতা রেজাউল করিম একজন মাদককারবারি। ওই নারীর বাড়িতে নিয়মিত মাদকের আড্ডা বসানো হতো। গ্রামবাসী মুঠোফোনে ওই নারীসহ যুবদল নেতার কর্মকাণ্ডে ভিডিও ধারন করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারী গাঁজা প্রস্তুত করছেন এবং রেজাউল টাকা গুণে ওই নারীকে দিচ্ছেন। এক পর্যায়ে গ্রামবাসীর সেখানে হানা দিয়ে দুজনকে অবরুদ্ধ করেন। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ গিয়ে তাদের আটকের পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে ১৫১ ধারায় তাদের আটক দেখিয়ে আদালতে চালান দেওয়া হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মনিরুল ইসলাম ও আল আমিন অভিযোগ করে বলেন, “ঘরের ভেতর নারীসহ যুবদল নেতাকে মাদক সেবন এবং বিছানায় মাদকের উপস্থিতি লক্ষ্য করেছি। কিন্তু পুলিশ ঘরের ভেতর ঢুকে কোনো আলামতই জব্দ করেনি। শুধু তাদের দুজনকে আটক করেছে।”
যুবদল নেতার বড় ভাই ও নাজিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সামছুল হক বলেন, “তারা সক্রিয় রাজনীতি করার কারণে কিছু মানুষ তার ভাইকে ফঁসিয়ে দিয়েছেন। আইনগতভাবে বিষয়টি মোকাবেলা করা হবে।”
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন, “গ্রামের মানুষের অভিযোগে নারীসহ ওই যুবদল নেতাকে আটক করলেও সেখানে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। এ কারণে ১৫১ ধারায় তাদের আটক দেখানো হয়েছে।”
আটক নারীর বড় বোন রোজী বেগম বলেন, “ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তার বোনসহ যুবদল নেতাকে ফাঁসানো হয়েছে। অভিযুক্ত রেজাউলের মাধ্যমে তার বোনের কিছু সোনার গহনা বন্ধক রাখা হয়েছিল। সেই টাকার লেনদেন হয়েছে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









